Wednesday, October 29, 2014

অপরাধ

আজকের দিনটা অন্যরকম। না, গত চারদিনের অক্লান্ত বৃষ্টি আজও থামেনি। আমার মুকুন্দপুরের এই অ্যাপার্টমেন্টের সাত তোলার ফ্ল্যাটে আজকেও এই বুড়োটাকে বাদ দিয়ে আর কেউ নেই। আজকেও একটু পরে ছোটন বেল বাজিয়ে আমার খাবারটা দিয়ে যাবে গলির মুখের মা তারা হোটেল থেকে। কিন্তু তাও আজকের দিনটা একটু অন্যরকম।
কিচেন গিয়ে চায়ের জল বসিয়ে তাক থেকে আমার প্রিয় মকাইবাড়ির চায়ের প্যাকেট আর চিনি বের করলাম। কাল অনেক রাতে ফিরেছি। কাজটা অনেক আগেই হয়ে গেছিল কিন্তু তারপর সারা সন্ধ্যে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছি আমার শহরের রাস্তায় রাস্তায়। তখনো ভেবে চলেছি আমার আমার কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে, মনে হয়েছে যে কাজটা ঠিক করিনি, কিন্তু অনেক সময় তো ঠিক-ভুলের মধ্যের বিভেদগুলো দূরে সরে যায়, তখন সাদা-কালো, ঠিক-ভুল সবই আপেক্ষিক হয়ে যায়।
আমি এরকম ছিলাম না, জানেন। এর আগে কখনো কাজ করে ফেলার পর এত ভাবতাম না, বরং পুরোটাই আগে থেকে এত ভাল করে ভেবে নিতাম যে, কাজটা হত পুরো ১০০ শতাংশ সঠিক। কে জানে, বয়স হয়ে যাচ্ছে তো, তাছাড়া তখন সঙ্গে ছিল আমার স্যাটেলাইট। তখন ও নেহাতই কিশোর, কিন্তু তাও ওর সঙ্গে আলোচনা করলে আমারও জিনিসগুলো বেশ পরিষ্কার হয়ে যেত।
নাহ্‌! বড্ড হঠাৎ করে শুরু করে দিলাম। আগে একটু পুরনো কথা বলি, তাহলে আপনাদেরও বুঝতে সুবিধা হবে। তবে একদম শুরুতে যাব না। তাঁর দরকারও নেই। আর তাছাড়া আপানারা অনেকেই হয়তো সেই গল্পগুলো জানেন।
শুরুটা করি গত শতাব্দির শেষ দশকে, আমার যখন চল্লিশের কাছাকাছি বয়স। এই সেই নাইন্টিজ, যখন থেকে পৃথিবীটা আস্তে আস্তে বদলে যেতে লাগল। ভারতে এল উদার অর্থনীতি, সমস্ত মাল্টিন্যাশানালস, চিপ্স আর কোলা কোম্পানিগুলোর কাছে খুলে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাজারের দরজা। সমস্ত পৃথিবীতে বাড়তে লাগলো অন্তর্জাল, ধনতন্ত্রের প্রভাব, লাগামছাড়া দুর্নীতি আর গা-শিরশিরে উগ্রপন্থা।
সেই সময়, ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে চলে গেলেন বাংলা সিনেমার সেই বিখ্যাত লম্বা লোকটি। আচ্ছা কখনো ভেবে দেখেছেন কি? বাঙ্গালীরা এমনিতে ছোটখাটো হলে কি হবে বিখ্যাত কয়েকজন বাঙ্গালী কিন্তু বেশ লম্বা, যেমন ধরুন রবীন্দ্রনাথ, বিধান রায় কিংবা শরদিন্দু... এবং তিনি।
যাই হোক, তার কিছুদিন আগে থেকেই কাজ কমে আসছিল, তারপর একদম ছেড়েই দিলাম। ভাবছেন নিশ্চয়ই আমার কাজটা কি ছিল? কাজটা ছিল রহস্যোদ্ধার। আমি ছিলাম একজন ব্যাক্তিগত গোয়েন্দা। না, ব্যোমকেশের মত নিজেকে সত্যান্বেষী নয় বরং একজন গোয়েন্দা ভাবতেই ভাল লাগত আমার। দীর্ঘদিন কাজ করেছি, ভারতের নানা জায়গা ঘুরেছি, এমনকি গেছি বিদেশেও। খ্যাতি, অর্থ কোনটারই অভাব হয়নি।
তাই হঠাৎ কাজ ছেড়ে দিলেও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কোন অসুবিধা হয়নি। বরং যে টাকা জমেছিল তা নিয়ে কিছুদিন ঘুরে বেড়ালাম দুই আমেরিকার অনেকগুলো দেশে। দেশে ফিরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়ে যাই ফরাসি দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা, পেপার লেখা, বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা, ভালই ছিলাম। কিন্তু অনেক দিন ধরেই দেশের জন্য মন কেমন করছিল। শেষে যখন ভারতে ফিরলাম সেটা ২০০৫ সাল। এর মধ্যেই মৃত্যুর খবর পেয়েছি আমার প্রিয় এক লেখক বন্ধুর।
কলকাতায় কাকার বাড়িতে থাকতাম, কিন্তু যতদিনে ফিরলাম, ততদিনে আমার খুড়তুতো ভাইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছে। কাকা-কাকিমা ওখানেই চলে গেলেন। যাওয়ার আগে কলকাতার বাড়িটা বিক্রি করে তার একটা অংশ জোর করেই দিয়ে গেলেন আমাকে। সেই টাকা আর ফ্রান্সে জমানো টাকা মিলিয়ে কিনে ফেললাম এই ফ্ল্যাটটা। তখন এসব জায়গা জঙ্গল, খুবই ফাঁকা ছিল, খুব সস্তাতেই পেয়ে গেছিলাম। এখন যত দিন যাচ্ছে আর কোন জমিই খালি পড়ে থাকছে না।
ওই বয়সে বিয়ে-টিয়ে করে সংসারী জীবনের ইচ্ছে কোনকালেই ছিল না। কাকারা বিদেশে, আরেকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৃত, তাই একাই বেশ দিন কেটে যাচ্ছিল, ভেবেছিলাম পড়াশুনো করেই সময় কাটিয়ে দেব, কিন্তু সেটাও হল না। আমার কলকাতা ফেরার খবর পেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন ভারতের গোয়েন্দা দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা।  ভদ্রলোক আমার কাজের সঙ্গে আগেই পরিচিত ছিলেন, তাছাড়া ফ্রান্সে থাকাকালীন আমার কিছু গবেষণার কথাও তিনি জানতেন। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরে যোগদান করার।
অনেক চিন্তাভাবনা করলাম। আমি প্রধানত একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। এইভাবে সরকারি নিয়মকানুন মেনে কাজ করা ভালো লাগবে তো? নিজের মত করে কাজ করতে পারবো কি? এরকম নানা প্রশ্ন এসেছিল মনের মধ্যে। কিন্তু তারপর মনে হল যে চ্যালেঞ্জটা নিয়েই দেখি। একটা নতুন অভিজ্ঞতা তো হবে! এই সব ভেবেই রাজী হয়ে গেলাম, চলে গেলাম দিল্লী।
গল্পের পরের অংশটা একেবারেই ভাল নয়। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম যে আমি এখানে সময় নষ্ট করছি। হাঁফিয়ে উঠলাম, সঙ্গে এল চরম হতাশা। বুঝতে পারলাম যে, ব্যাক্তিগত গোয়েন্দা আর পুলিশের উচ্চবিভাগের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। হাজার-হাজার নিয়মের জালে বন্দী লাগছিল নিজেকে। শুধু তাই নয়, ওইসব নিয়মের মধ্যে দিয়ে যখন শেষ অবধি অপরাধীর কাছহে পৌঁছতাম, দেখতাম তিনি হয় মন্ত্রী, নয় বিশিষ্ট শিল্পপতি নয়তো বা কোন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বা তাদের আত্মীয়, আর তারপরেই শুরু হত আরেক খেলা! কি করে আড়াল করা হবে তাদের, কি করে লুকিয়ে ফেলতে হবে সমস্ত প্রমাণ, দরকার পরলে সাক্ষীদের ভয় দেখানো এমনকি মেরে ফেলাও কোন ব্যাপারই নয় তাদের কাছে। তাঁর সঙ্গে আছে আরো অনেক বাধা। অনেক শর্ত, অনেক গোলমেলে হিসেবনিকেশ। ভোটের হিসেব, সংখ্যালঘুদের খুশি রাখা, আমরা-ওরা, অনেক লাভ-ক্ষতির অংক আছে এর মধ্যে।
তাও কিছুদিন চেষ্টা করলাম। কিন্তু পারলাম না। শেষ অবধি ফিরে এলাম কলকাতাতেই, এই বাড়িতে। আমার পরিচিত সেই উচ্চপদস্থ ভদ্রলোককে বুঝিয়ে বললাম আমার অসুবিধার কথা। উনি বুঝলেম পুরোটাই, সহানুভূতিও জানালেন। শেষ অবধি উনিই একটা ভাল প্রস্তাব দিলেন। বললেন, “আপনি বরং কলকাতাতেই থাকুন, কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে। সাধারণ ছাপোষা কেসে আপনার দরকার নেই, আমি আপনার সাহায্য নেব চরম বিপদে পড়লে।“
কথা না বাড়িয়ে রাজী হয়ে গেলাম। সত্যি বলতে ভালোই লাগল প্রস্তাবটা। বেশ নিজের মত করে পড়াশুনোও করা যাবে আবার কখনো কখনো তেমন জটিল কেস এলে সেটার পেছনে খেটে মগজাস্ত্রেও বেশ শান দিয়ে নেওয়া যাবে। ভালোই ছিলাম কিন্তু আবার ধীরে ধীরে হতাশা গ্রাস করতে লাগল। বুঝতে পারলাম যে এরা আমার  সাহায্য চান, কিন্তু শুধুই রহস্যটুকু সমাধান করার জন্য, যখনই অপরাধীকে সনাক্ত করে ফেলি, তখনই চলে আসে অনেক স্বার্থ, অনেক গোলমেলে হিসেব। কোন ঘটনাই আর জনগণের সামনে আসে না। এলে আপনারাও বুঝতে পারতেন যে, ভারতের সবচেয়ে বড় অপরাধীরা বাবা বিশ্বনাথ বা পরেশনাথের গলিতে নয়, থাকে আপনাদের আশেপাশেই।
এরকম একদিন, এই কয়েক মাস আগে, চরম অস্থির অবস্থায় কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি, হঠাৎ ডঃ ওয়াটসনের একটা কথা মনে পরে গেল। শার্লক হোমসের বন্ধু ও লেখক ডঃ জন ওয়াটসন, তাঁর কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে।  জন শার্লককে একটা কথা প্রায়ই বলত। বলত, “শার্লক, তুমি যদি কোনদিন আপরাধের সঠিক দিক থেকে বেরিয়ে অন্যদিকে চলে যাও, সেইদিন হবে লন্ডন শহরের পুলিশ বিভাগের জন্য শেষ দিন! তোমার মত মস্তিষ্কের একজন অপরাধীকে সনাক্ত করা হবে খুব শক্ত কারণ তোমার করা অপরাধ হত ত্রুটিহীন।“
চিন্তাটা মাথার মধ্যে গেঁথে গেল। পারব কি আমি, খুঁজে পাব কি সেই পরিকল্পনা যেটা হবে, ‘The perfect crime!অনেক চিন্তাভাবনা, পড়াশুনো আর বিনিদ্র রাত্রির পর শেষ অবধি পেলাম সেই প্ল্যান। নিখুঁত, নিটোল, তুলনাহীন এক পরিকল্পনা। সু্যোগটাও এসে গেল খুব সহজে। জানতে পারলাম এক প্রদর্শনীর কথা। কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরেই হবে সেই প্রদর্শনী, সেখানে থাকবে দুষ্প্রাপ্য কিছু বই এবং পান্ডুলিপি। পান্ডুলিপিগুলোর মধ্যেই থাকবে টিনটিনের স্রষ্টা হার্জের আঁকা অপ্রকাশিত কিছু ছবি আর বইয়ের খসড়া, ইউরোপের বিভিন্ন নিলামঘরে যার মূল্য ছুঁতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমার তো ডলার চাই না, আমার চাই শুধু সেই perfect crime-এর পরিতৃপ্তি। আমার চাই একটা নিখুঁত পরিকল্পনা সফল করার আনন্দ।
কী ভাবছেন? এই বৃষ্টি মাথায় নিয়েও কি আপনি দেখে এসেছেন সেই প্রদর্শনী? আপনার ছোট্ট ছেলে বা মেয়েটির হাত ধরে? গত এক সপ্তাহ ধরে সব খবরের কাগজে-কাগজেই আলোচনা চলছে ঐ দূর্লভ প্রদর্শনী নিয়ে, তাই না? তবে আজকের পর হয়তো বন্ধ থাকবে সেটা।
কারণ কাল বিকেলের ঐ প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আমি হাতে পেয়ে গেছি হার্জের আঁকা চারখানা ছবি। হ্যাঁ, আমি কাজে লাগিয়েছি মানুষের বিভিন্ন আদিম প্রবৃত্তিকে। আমাদের দেশের বিভিন্ন নামী মাফিয়া, নেতা বা ব্যবসায়ীদের মত লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, এমনকি তাদের জীবনের সবচেয়ে গোপনীয় ঘটনার সাহায্যে ব্ল্যাকমেল করে হাত করেছি যাদুঘরের তিনজন কর্মীকে, যারা কালকে যাদুঘর বন্ধ হওয়ার একটু পরে ছবিগুলো তুলে দিয়ে গেছে আমার হাতে। না, ওরা জানে না আমার পরিচয়। ওদের কাছে আমার নাম রণবীর সেনগুপ্ত আর যদি কোনদিন তারা পুলিশের জেরায় স্বীকার করে ফেলে তাদের দোষ, তাহলে তাদের বর্ণনায় যে লোকটির ছবি আঁকা হবে তাঁর ঘাড় অবধি লম্বা সাদা চুল, লম্বা সামান্য ভাঙ্গা নাক, আর হাফফ্রেম চশমায় সেটা অনেকটাই হয়ে যাবে হ্যারি পটারের বইয়ের প্রফেসর ডাম্বেলডোরের মত।
কিন্তু এর পরেই তো গল্পের শুরু। আজ সকালেই সম্ভবত ধরা পড়েছে চুরির কথা। নিশ্চই হইচই পরে গেছে পুলিশ আর সরকারি ওপর মহলে। আমি জানি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোন আসবে কলকাতার পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে। তিনি আমাকে জানাবেন পুরো ঘটনাটা, সাহায্য চাইবেন আমার কাছে? সারা কলকাতা পুলিশের মানসম্মান জড়িয়ে আছে ঐ ছবিগুলোর সঙ্গে।
কিন্তু আমি কী করব তারপর? আমি কি যাব তদন্ত করতে? প্রশ্ন করব মিউজিয়ামের কর্মচারীদের? যখন আর কেউ না জানলেও আমি নিজে জানি যে ছবিগুলো লুকিয়ে রাখা আছে এই বাড়িরই কোন ঘরে।
ঐ যে... আমার সেলফোনটা বাজছে, বাজছে আমার প্রিয় রিংটোন। সোনার কেল্লা সিনেমার সেই চিরস্মরনীয় বাজনা, ‘ফেলুদা থিম’। ফোনটা তুলে নিলাম টেবিল থেকে, টিপলাম সবুজ বোতামটা, প্রত্যেকবারের মতই বললাম, “নমস্কার... প্রদোষ মিত্র বলছি...”

Sunday, October 19, 2014

ISL - The New Dream


On last Sunday I became part of the history. I was part of the huge cheering crowd In Salt Lake stadium and observed ISL taking small steps which can turn into huge leap for Indian Football. I was there when artists from the eight cities including Anandan Shivamani played their various form of drums in a glamorous opening ceremony, I was there when (sadly) Priyanka Chopra spent more time talking about the owners (some of them her colleagues) than the football icons beside them, I was there when Sourav Ganguly and Sachin Tendulkar sat side by side to watch a football match, the first match of the ISL, Indian Super League, between Atletico De Kolkata and Mumbai City FC.
I am not going into minor details like Kolkata won the match by a 3-0 scoreline or Fikru Teferra, Kolkata’s Ethiopian striker, became the first scorer in the history of ISL. But let’s look into the bigger picture.

India has a long history in football. Like many British colonies, in India also the football were started by the English people but Indians quickly caught on the game especially after Mohun Bagan’s victory in the 1911 IFA Shield final. Indian national team started their journey post independence and in first 15 years of independent India were quite a force in the Asian level. They won the gold in Aisan games of 1951 and 1962 and were fourth in 1956 Olympics in Melbourne.
But post that period the performance started to drop, the other Asian teams through their hard work and more focused scientific approach leaped across when India fall behind and now with their FIFA ranking hovering around 150-160 India can only be called a ‘sleeping giant’ as referred by Sepp Blatter.

So what can ISL bring to this cricket crazy nation? The answer could be many folds. Obviously with proper publicity and marketing this can become hugely popular, creates new fan bases, spread the game to the remote parts of the country (like happened in cricket) and inspire a new generation to take up this game more seriously. But along with that this should also be hugely beneficial for the players.
Firstly it will give them a great chance to follow some of the most modern techniques and skills thanks the coaches coming from some of the mainstream footballing countries with vast experience. Playing with good foreign players and icon players, some of the biggest stars in world football in their own right, will not only inspire the Indian youngsters but will also provide the key insights about the game in general. The important factor would be the exposure which the Indian football will get through ISL. Some of the biggest corporate are part of this venture and with their business policy they will ensure that this tournament is well known and news about this is well spread out. Already foreign media from the countries like UK and Spain has shown significant interest in ISL. Team Kolkata’s partnership with Athletico Madrid is a great boon for the team as well as the league. Someone like Arsene Wenger is speaking about ISL in his press conference and hopes that this can bring new dawn for Indian football, this is wonderful.
The quality of football in ISL is definitely much better than the domestic I-league or the state level leagues. The teams are playing much fast paced and technically better football. And it looks great when the Indian players also doing pretty well with respect to speed and skill like their foreign team mates. Folkes like Arnab Mandal, Subhasish Roy Choudhury, Subhash Singh has already in focus with their performances. If they can utilize their learning from ISL in the international matches that will be hugely beneficial for the national team.
ISL also brought a more professional approach in the overall game. Hope some of these will be replicated in I-league too, like the foreign player selection for Indian clubs. ISL is clearly showing that the current group of foreign players like Dudu and Ranti are no match with the foreigners playing in ISL despite having a higher price tag on them and that raises the question about the player recruitment process of clubs like Mohun Bagan and East Bengal and proves that the rumour about club officials hiring players based on the commission they are getting than the player’s skill may have some truth behind them.

But with all these great aspect are ISL perfect? If now then how could we improve ISL more and make it more meaningful for the world football scenario. May be I can share couple of ideas.
 ISL clubs should get under FIFA registration and somehow get eligible to utilize the summer transfer window. If ISL continues to take place in September to December then these clubs can easily sign a few good quality young as well as aged players in half a season loans. Let them play for the clubs till December and then go back to their parent club in January. Obviously even the younger players are involved in reserve squad leagues and under-21 leagues but still we see many Premier league clubs loan out their players for the clubs in championship teams. Hoep ISL can also get involved there.
I absolutely love the way Kolkata franchise get in collaboration with Atletico Madrid. Delhi and Pune have also follow suit with their association with Feyenoord and Fiorentina. It is a win-win scenario for both the parties and I think all the remaining teams also should look to get in a relationship with any club from one of top football nations. Let me explain why I think it will be beneficial for the ISL clubs. If the ISL clubs have a partnership with one of those big clubs they can easily go and use their training facilities which are currently much better than what you get anywhere in India. They can also play practice matches with their players from their academy or reserve teams, get tips from coaching and physical training staffs and even learn from some of their first squad players.
Not only that, those clubs would definitely have a look into the performance of their ISL Counterparts (Atletico Madrid is already doing it) and if some young Indian player can attract them with his performance and technical skill they can be easily selected to be part of those clubs setup through reserve teams.

I also think at some point AIFF needs to find a way to combine I-league and ISL. Otherwise after this high quality football in ISL if we again go back to our slow, meaningless long ball based football in I-league that will not make any sense. Already I-league does not generate enough interest and now with the Indian fans watching top quality football in their own city may become more disinterested about I-league if the quality does not include. So somehow I think it is very important that there is a way we combine the traditional big clubs like Mohun Bagan, East Bengal, Dempo and others get in some kind of partnership with the ISL clubs and embrace their professional approach.


I am very hopeful about ISL’s success and if I go by the quality of football and the support it got from the fans in the very first week of the league, this year’s ISL is already a success. Now if this can sustain for years to come and also bring the Indian football to significant spot in world football that needs to be seen. And with all the heroics from Virat Kohli, Saina Nehwal and Sushil Kumar I will also dream of a day when we can also cheer for someone like Subrata Pal saving a powerful long range drive from Sunil Chhetri in the final minutes of the El Clasico or Manchester Darby.

Tuesday, October 14, 2014

Yatrik: The Journey Within

It was a Saturday evening in South City, the shopping mall. And it was chaturthi, just before the Durga Puja. A huge number of people focussing on their last moment Puja shopping were strolling through various floors, moving in and out of different shops. But Shreya and I were not visiting Pantaloons or Shoppers Stop. We were in Starmark, the book store which also sells DVDs, gift items, folders, perfumes and even foreign chocolates. Just near the entrance there is a rack with all the latest books, a few books on politics, Mahabharata, sports. There were a few books from foreign authors. Also there were books from so-called new age Indian writers who wrote about sweet love and college hotties in their books intended for India’s youth.

We however were looking for a different book and despite searching through various sections of the store we started fearing that the book may not be yet released in Kolkata. Hence we asked one attendant in the shop and he after consulting with another couple of his colleagues finally handed me the book from one of the almost-hidden corners of the fiction section. They said that the book arrived just day before and I wondered how that could reach such a farthest corner in just a day! The book we were looking for was Yatrik, the third book written by Arnab Ray aka Greatbong. Well, I just wanted to write this to show like everything in life how in the publishing industry also it all depending on the marketing and publicity but not on the quality. Not good news for potential writers with no connections like me!!

Arnab has a long presence in the Indian blogger community. After spending a considerable time writing blogs on topics ranging from Lambu Ata (Who ultimately got his 'Maut ki Chnata' in the movie Gunda) to Twilight saga to his local sweet shop he ventured into writing books. Obviously his first book was different from his regular blog posts in the web but the themes were similar based on his style of humour and satire. He did not only get the attention but rather turned a few heads on the way.
His second book ‘The Mine’ can boast as the first Indian horror novel. A rather dark plot line with multiple twists to shock the reader, the mine is a wonderful psychological thriller which made me finished that book at one go. At that time I could not stop myself from writing a review for ‘The Mine’.

Yatrik is nothing like any of the first two books. Yes, it may come as similar to ‘The Mine’ but that may be because of the death being a common theme in both the books but the similarities just end there.
Yatrik means a traveller. And the book focuses on the journey of Anushtup, the main protagonist of this book, the journey of his life. Although the book started with a death in the first chapter but Yatrik eventually talks about the life.
Anushtup is a typical Bengali guy. Like any one of us he gets confused about life, makes glaring mistakes while judging someone, get disillusioned of politics once he knows all the dirty tricks of it and has a huge ego which make him leave his home and stay in a slum but stops him from taking unfair help from others, even if they are their closest relatives. And despite being the story of a regular Bengali guy, the book does not move in a straight, one-directional way. It moves with twist and turns. Old myths were broken; truth starts to lift his ugly head from the past, people changes, perception changes too.
Questions were answered, unanswered questions like ones which keep bugging us all through our life. Don’t all us have some questions in our life for which we never know the answers! Why everyone in my class did get 82 in life science in the board examination? Why that one close friend of mine stopped contacting me just without any reason? Why do I did not crack the interview I was so confident about? Yatrik tried to identify some of such answers and tried to break the myth about destiny. Ultimately every event in life has some explanation which may not be clear to us because it happened when we were not looking.
Despite being in US for quite a long time Arneb can still paint the city of Kolkata quite accurately with its various characters. There is a call centre boss, a shopping mall bunny, a political leader, a financial chit fund… small incidents which brings out the uniqueness of the city through Anushtup’s journey of life.
Yatrik is a beautiful read and I want to make just a couple of points for Arnab to keep in mind while writing his next (And I know he is busy in quite a few ongoing projects). I was not convinced with some part of the book near the end and think that plot could have been tighter but again Arnab being the storyteller can argue that he was convinced when he thought about that part of story and he thought that plot was the best for the overall story.
The second observation is regarding the dialogues. I think it is already mentioned in Abhishekda’s blog and I kind of agree with him. I feel Arnab gets confused about what should be the right mix of English for his Indian characters. It’s always easy if you are writing dialogues for an American or a British character as they are speaking English all the time and has a significantly different way of expressing themselves. Whereas for a Bengali character, who is a simplest of common man in his mid forties, it’s not always easy to picture in one’s mind regarding how he would speak in English without sounding too snobbish or sounding too cool.

At the end I would say, after ‘The Mine’, the expectation was very high from Arnab and to me he has delivered successfully with Yatrik, the story of one’s journey of life. Now the appetite has just increased and I am waiting eagerly for his next.