Saturday, December 20, 2014

আমার এক ডজন

নিজের মনের খেয়ালখুশির পোস্ট। এক থেকে বারো, এই সংখ্যাগুলোর প্রত্যেকটাই আমাকে কিছু না কিছুর কথা মনে করিয়ে দেয়। সেগুলোই লিখে ফেললাম পরপর। আর 'নবাব কিনলে আরাম ফ্রি'-র মতই এক থেকে বারোর সঙ্গে শূন্য ফ্রি!
সময় থাকলে আপনাদের গুলোও কমেন্টে লিখে ফেলুন না হয়!!

0 – The score which put Don and Dada together in their last innings

1 – Shreya... একমেবদ্বিতীয়ম

2 – মানিকজোড়

3 – The Three Musketeers, Bengali kind

4 - Fab Four

5 – পান্ডব, মহাভারত বা গোয়েন্দা কাউকেই পোষায় না

6 -  দাদা মারত, বাপি বাড়ি যা

7 – Harry Potter, from seven horcruxes to seven players in a Quidditch game.

8 – দুর্গা পুজোর অষ্টমী

9 – 9/11, sad but true

10 – Pele

11 – Number of kids in Yadav household in Patna

12 – এক ডজন গপপো, আরো এক ডজন, আরো বারো...

Saturday, December 6, 2014

আমার আনন্দমেলা

প্রত্যেকবারই জন্মদিনের দিন ব্লগে নতুন কিছু পোস্ট করতে ইচ্ছে করে, তা সে রবীন্দ্র জাদেজার জন্মদিন নিয়েই হোক না কেন! তবে এবারের জন্মদিন সত্যিই স্পেশাল! ছুটির দিন, সঙ্গে শুদ্ধ এবং বিম্ববতীর বিয়ে-রিসেপশান, পিউয়ের দেওয়া জন্মদিনের উপহার 'The Class of '92' স্পেশাল কালেকশন ডিভিডি! ফাটাফাটি লং উইকএন্ড। 
আর এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় উপহার এল পাঁচ তারিখ। জন্মদিনের আগের দিন!
জীবনে কবে থেকে আনন্দমেলা পড়ছি মনে নেই। বোধ হয় সেই চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই, মানে পড়তে শিখেছি যেদিন সেদিন থেকে। একটা সময়ে তো প্রত্যেকটা সংখ্যা নিয়ম করে পড়তাম। যদিও খুব যত্ন করে আর তাড়াতাড়ি। ব্যাপার আর কিছুই নয়। আমার বাবা যে ভদ্রলোক কাগজ দিতেন তার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন যে প্রত্যেক পনের দিন অন্তর আনন্দমেলা বেরোলে আমি সেটা দুদিনের মধ্যে পড়ে নিয়ে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। সেটা তখন চলে যাবে অন্য কারোর বাড়িতে। এর সুবিধা ছিল এই যে বইগুলো পড়াও হয়ে যেত কিন্তু পয়সা লাগত না। কার লেখা না পড়েছি আনন্দমেলায়... সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিমল কর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, মতি নন্দী, সমরেশ মজুমদার তো বটেই পুরনো আনন্দমেলা জমানোর অভ্যেস ছিল যেহেতু তাই সত্যজিৎ রায়, প্রেমেন্দ মিত্র, সমরেশ বসু, জরাসন্ধ এমনকি আমার প্রিয় এবং অসম্ভব গর্বের জায়গায় আছেন যিনি সেই শরদিন্দু বন্দোপাধায়ের লেখাও পড়েছি। আমার ছোটবেলা মানেই তাই আনন্দমেলা! আর তাই এই ব্লগের লোগোতেও আমার প্রিয় লেখক, চরিত্র, অভিনেতা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দমেলার উপস্থিতি।

আর এই অসাধারণ সব লেখকদের লেখা পড়তে পড়তেই আস্তে আস্তে নিজের ইচ্ছে হয়েছে কলম ধরার। কিছু লেখার, নিজের কথা, নিজের গল্প। ছোটবেলায় লেখালেখি করেছি, বন্ধুদের পড়িয়েছি সেইসব নিছক ছেলেমানুষির কাঁচা হাতের লেখা ফেলুদার গল্প বা ভূতের গল্প। একটা সময়ে নানা কারণে লেখালেখি বন্ধ ছিল। তারপর আবার মনের জানালা খুলে বসেছিলাম সেই ২০০৮ থেকে। শুরু করেছিলাম এই ব্লগ। তারপর কখনো 'কথা তো বলার জন্যেই' আবার কখনো cricketworld.com সাইটে লেখা বেরিয়েছে। সযত্নে সেই ওয়েবপেজগুলোকে জমিয়ে রেখেছি আমার ল্যাপটপে।
সাহস করে লেখা পাঠিয়েছিলাম আনন্দমেলায়। সেটা সেই ২০১৩-র মাঝামাঝির কথা। একটা আইডিয়াকে সাজিয়ে গুছিয়ে পিউ, কণাদ আর অভিষেকদাকে পড়িয়ে ওদের মতামত নিয়ে ঝাড়ামোছা করে পাঠানো একটা গল্প। তারপর প্রতীক্ষা। শুনেছিলাম তিন মাসের মধ্যে ওনারা জানিয়ে দেন লেখা পছন্দ হলে। তিন মাস কেটে গেল, তারপর ছ মাস... কোন ফোন-চিঠি পেলাম না... ভেবে নিলাম এ লেখা আর বেরোবে না। তারপর তো ভুলেই গেছিলাম যে আনন্দমেলায় পাঠিয়েছি লেখা। গত সপ্তাহের পুরোটাই ছিল ফিল হিউজময়, তার অকালমৃত্যু আমায় দুঃখ দিয়েছে খুব। ভালো লাগছিল না কিছুই।  হঠাৎ তিন তারিখ অফিস যাওয়ার সময় একটা ফোন। আনন্দমেলা থেকে। লক্ষ্মীমন্ত, আমার লেখা গল্প বেরোচ্ছে এই সংখ্যায়। 
প্রথমে কিছুটা সময় কেমন ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেলাম। বুঝলামই না কী হচ্ছে! তারপর আস্তে আস্তে উপলব্ধি করলাম এর মানে কী। আসল লোকেদের জানানো হল কিন্তু তাও সন্দেহ ছিল। না আঁচালে বিশ্বাস নেই। শেষ পর্যন্ত গতকাল রাতে anandamela.in সাইটে নিজের নাম দেখে চক্ষুকর্নের বিবাদ ভঞ্জন হল। সকালে বইটাও পেলাম। আমার নাম ছাপার অক্ষরে, প্রথমবার, আনন্দমেলাতে। আমার আনন্দমেলা! সেই আনন্দমেলা, আমার ছোটবেলার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, যে আনন্দমেলার পুরনো যেকোন সংখ্যা খুলে আজও পড়তে বসে যেতে পারি আমি। 
জানি এ লেখার কোন মাথামুন্ডু নেই। হয়তো অর্থহীন নিজস্তুতির মত শোনাচ্ছে এটা। তবু এটা লিখতে চাই। ভবিষ্যতে এই লেখা দেখলেই যে মনে পড়ে যাবে, কোন স্বপ্ন খুব মন দিয়ে দেখলে সেটা কোন একদিন সত্যিও হয়ে যায়।


Friday, November 28, 2014

63 Not Out

Source: Abhishek Mukherjee

Dear Phill,

I am still recovering from shock of the events of last couple of days and in no mood to write a big well structured letter. So, this one will be more of a short note, a note of thanks and farewell.
Being an intense follower of the game I have heard your name at least six years back when even before making your test debut you were touted as taking the responsibility of opening for Australia after retirement of Hayden and Langer, one of the most successful opening pairs in the history of the game. Then you were selected to play your first test in 2009 after Matthew Hayden’s retirement and I faintly remembered you had a great beginning of your international career. But like the entire Australian team on this post-2007 era, your form also deviate. You were dropped. But you were there somewhere all the time. Whenever I read any article about Australian cricket in Cricinfo and other sites your name kept coming up. I remember noticing that you had made a debut hundred in ODIs (Now I know you are the only Australian to do so), I remember the controversy involving you when you tweeted about you not getting selected in the next day’s test matches before the official team announcement. May be it was an immature move in today’s sporting world of professionalism and formality but it showed your discontent in not getting selected for your country.
Source: Twitter
I remember you from your last tour of India. You were particularly unstable and struggled a lot against the Indian spinners from the beginning. But you showed wonderful grit and application to finally produce couple of good, fighting innings for a team who were getting thrashed in the ground and also involved in  ‘homeworkgate’ off the fields.
All these were small memories Phill, may be ten-fifteen years down the line, I would have forget all those things but now that will not be the case. Since last Tuesday, you have become part of the Legends of this great game. You know Indians are now in Australia to play a test series, you could have been a part of that too. I was checking the scorecard of the Indian team’s practice match when I saw the news that you were hurt and taken to hospital in a very critical condition. I remembered a similar incident occurred to Nari Contractor, then Indian captain, during India’s tour of West Indies in 1962. Contractor survived, but had to left cricket at the age of 28. I thought similar fate was waiting for you and that made me sad. But little I knew I was ambitious. Yesterday, the worst possible thing happened and I was saddened beyond words. 
Source: Twitter
Look Phill, I have not played cricket at any serious level. But still I think myself as a part of the cricketing fraternity of the world as a fan. I love to read about cricket, watch cricket matches of any era, between any teams and get in a cricket related discussion every day, may be at work or with my friends, my parents or my wife. And as a follower of this nobel game, I felt heartbroken for your demise.
Phill, I know I am just a cricketing muggle compared to cricketing wizards like you, who has represented their countries but I am five years older to you and it felt like a younger brother has passed away. You were so young, with so much boundless potential and opportunity to represent your country for next 10-12 years that it made everyone hurt. But still it makes me a little happy to think that you had left us while doing what you loved the most, playing cricket. I hope that there must be an Australian cricket team in heaven with Bradman and Tramper in the team. There you can resume your innings from 63 not out. As one of my friends has written in Facebook, you were retired, we are hurt.
Be well, my dear brother. Hope god takes care of you up there and once you become an angel please protect Sean Abbot, a young boy who is feeling the most terrible among all of us.
A follower of the game you loved
PS. Advance Happy Birthday Bro!

Source: Sify.com

Wednesday, October 29, 2014

অপরাধ

আজকের দিনটা অন্যরকম। না, গত চারদিনের অক্লান্ত বৃষ্টি আজও থামেনি। আমার মুকুন্দপুরের এই অ্যাপার্টমেন্টের সাত তোলার ফ্ল্যাটে আজকেও এই বুড়োটাকে বাদ দিয়ে আর কেউ নেই। আজকেও একটু পরে ছোটন বেল বাজিয়ে আমার খাবারটা দিয়ে যাবে গলির মুখের মা তারা হোটেল থেকে। কিন্তু তাও আজকের দিনটা একটু অন্যরকম।
কিচেন গিয়ে চায়ের জল বসিয়ে তাক থেকে আমার প্রিয় মকাইবাড়ির চায়ের প্যাকেট আর চিনি বের করলাম। কাল অনেক রাতে ফিরেছি। কাজটা অনেক আগেই হয়ে গেছিল কিন্তু তারপর সারা সন্ধ্যে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছি আমার শহরের রাস্তায় রাস্তায়। তখনো ভেবে চলেছি আমার আমার কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে, মনে হয়েছে যে কাজটা ঠিক করিনি, কিন্তু অনেক সময় তো ঠিক-ভুলের মধ্যের বিভেদগুলো দূরে সরে যায়, তখন সাদা-কালো, ঠিক-ভুল সবই আপেক্ষিক হয়ে যায়।
আমি এরকম ছিলাম না, জানেন। এর আগে কখনো কাজ করে ফেলার পর এত ভাবতাম না, বরং পুরোটাই আগে থেকে এত ভাল করে ভেবে নিতাম যে, কাজটা হত পুরো ১০০ শতাংশ সঠিক। কে জানে, বয়স হয়ে যাচ্ছে তো, তাছাড়া তখন সঙ্গে ছিল আমার স্যাটেলাইট। তখন ও নেহাতই কিশোর, কিন্তু তাও ওর সঙ্গে আলোচনা করলে আমারও জিনিসগুলো বেশ পরিষ্কার হয়ে যেত।
নাহ্‌! বড্ড হঠাৎ করে শুরু করে দিলাম। আগে একটু পুরনো কথা বলি, তাহলে আপনাদেরও বুঝতে সুবিধা হবে। তবে একদম শুরুতে যাব না। তাঁর দরকারও নেই। আর তাছাড়া আপানারা অনেকেই হয়তো সেই গল্পগুলো জানেন।
শুরুটা করি গত শতাব্দির শেষ দশকে, আমার যখন চল্লিশের কাছাকাছি বয়স। এই সেই নাইন্টিজ, যখন থেকে পৃথিবীটা আস্তে আস্তে বদলে যেতে লাগল। ভারতে এল উদার অর্থনীতি, সমস্ত মাল্টিন্যাশানালস, চিপ্স আর কোলা কোম্পানিগুলোর কাছে খুলে গেল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাজারের দরজা। সমস্ত পৃথিবীতে বাড়তে লাগলো অন্তর্জাল, ধনতন্ত্রের প্রভাব, লাগামছাড়া দুর্নীতি আর গা-শিরশিরে উগ্রপন্থা।
সেই সময়, ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে চলে গেলেন বাংলা সিনেমার সেই বিখ্যাত লম্বা লোকটি। আচ্ছা কখনো ভেবে দেখেছেন কি? বাঙ্গালীরা এমনিতে ছোটখাটো হলে কি হবে বিখ্যাত কয়েকজন বাঙ্গালী কিন্তু বেশ লম্বা, যেমন ধরুন রবীন্দ্রনাথ, বিধান রায় কিংবা শরদিন্দু... এবং তিনি।
যাই হোক, তার কিছুদিন আগে থেকেই কাজ কমে আসছিল, তারপর একদম ছেড়েই দিলাম। ভাবছেন নিশ্চয়ই আমার কাজটা কি ছিল? কাজটা ছিল রহস্যোদ্ধার। আমি ছিলাম একজন ব্যাক্তিগত গোয়েন্দা। না, ব্যোমকেশের মত নিজেকে সত্যান্বেষী নয় বরং একজন গোয়েন্দা ভাবতেই ভাল লাগত আমার। দীর্ঘদিন কাজ করেছি, ভারতের নানা জায়গা ঘুরেছি, এমনকি গেছি বিদেশেও। খ্যাতি, অর্থ কোনটারই অভাব হয়নি।
তাই হঠাৎ কাজ ছেড়ে দিলেও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কোন অসুবিধা হয়নি। বরং যে টাকা জমেছিল তা নিয়ে কিছুদিন ঘুরে বেড়ালাম দুই আমেরিকার অনেকগুলো দেশে। দেশে ফিরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়ে যাই ফরাসি দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা, পেপার লেখা, বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা, ভালই ছিলাম। কিন্তু অনেক দিন ধরেই দেশের জন্য মন কেমন করছিল। শেষে যখন ভারতে ফিরলাম সেটা ২০০৫ সাল। এর মধ্যেই মৃত্যুর খবর পেয়েছি আমার প্রিয় এক লেখক বন্ধুর।
কলকাতায় কাকার বাড়িতে থাকতাম, কিন্তু যতদিনে ফিরলাম, ততদিনে আমার খুড়তুতো ভাইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা শেষ করে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছে। কাকা-কাকিমা ওখানেই চলে গেলেন। যাওয়ার আগে কলকাতার বাড়িটা বিক্রি করে তার একটা অংশ জোর করেই দিয়ে গেলেন আমাকে। সেই টাকা আর ফ্রান্সে জমানো টাকা মিলিয়ে কিনে ফেললাম এই ফ্ল্যাটটা। তখন এসব জায়গা জঙ্গল, খুবই ফাঁকা ছিল, খুব সস্তাতেই পেয়ে গেছিলাম। এখন যত দিন যাচ্ছে আর কোন জমিই খালি পড়ে থাকছে না।
ওই বয়সে বিয়ে-টিয়ে করে সংসারী জীবনের ইচ্ছে কোনকালেই ছিল না। কাকারা বিদেশে, আরেকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৃত, তাই একাই বেশ দিন কেটে যাচ্ছিল, ভেবেছিলাম পড়াশুনো করেই সময় কাটিয়ে দেব, কিন্তু সেটাও হল না। আমার কলকাতা ফেরার খবর পেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন ভারতের গোয়েন্দা দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা।  ভদ্রলোক আমার কাজের সঙ্গে আগেই পরিচিত ছিলেন, তাছাড়া ফ্রান্সে থাকাকালীন আমার কিছু গবেষণার কথাও তিনি জানতেন। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতরে যোগদান করার।
অনেক চিন্তাভাবনা করলাম। আমি প্রধানত একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ। এইভাবে সরকারি নিয়মকানুন মেনে কাজ করা ভালো লাগবে তো? নিজের মত করে কাজ করতে পারবো কি? এরকম নানা প্রশ্ন এসেছিল মনের মধ্যে। কিন্তু তারপর মনে হল যে চ্যালেঞ্জটা নিয়েই দেখি। একটা নতুন অভিজ্ঞতা তো হবে! এই সব ভেবেই রাজী হয়ে গেলাম, চলে গেলাম দিল্লী।
গল্পের পরের অংশটা একেবারেই ভাল নয়। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম যে আমি এখানে সময় নষ্ট করছি। হাঁফিয়ে উঠলাম, সঙ্গে এল চরম হতাশা। বুঝতে পারলাম যে, ব্যাক্তিগত গোয়েন্দা আর পুলিশের উচ্চবিভাগের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। হাজার-হাজার নিয়মের জালে বন্দী লাগছিল নিজেকে। শুধু তাই নয়, ওইসব নিয়মের মধ্যে দিয়ে যখন শেষ অবধি অপরাধীর কাছহে পৌঁছতাম, দেখতাম তিনি হয় মন্ত্রী, নয় বিশিষ্ট শিল্পপতি নয়তো বা কোন বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বা তাদের আত্মীয়, আর তারপরেই শুরু হত আরেক খেলা! কি করে আড়াল করা হবে তাদের, কি করে লুকিয়ে ফেলতে হবে সমস্ত প্রমাণ, দরকার পরলে সাক্ষীদের ভয় দেখানো এমনকি মেরে ফেলাও কোন ব্যাপারই নয় তাদের কাছে। তাঁর সঙ্গে আছে আরো অনেক বাধা। অনেক শর্ত, অনেক গোলমেলে হিসেবনিকেশ। ভোটের হিসেব, সংখ্যালঘুদের খুশি রাখা, আমরা-ওরা, অনেক লাভ-ক্ষতির অংক আছে এর মধ্যে।
তাও কিছুদিন চেষ্টা করলাম। কিন্তু পারলাম না। শেষ অবধি ফিরে এলাম কলকাতাতেই, এই বাড়িতে। আমার পরিচিত সেই উচ্চপদস্থ ভদ্রলোককে বুঝিয়ে বললাম আমার অসুবিধার কথা। উনি বুঝলেম পুরোটাই, সহানুভূতিও জানালেন। শেষ অবধি উনিই একটা ভাল প্রস্তাব দিলেন। বললেন, “আপনি বরং কলকাতাতেই থাকুন, কন্সাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে। সাধারণ ছাপোষা কেসে আপনার দরকার নেই, আমি আপনার সাহায্য নেব চরম বিপদে পড়লে।“
কথা না বাড়িয়ে রাজী হয়ে গেলাম। সত্যি বলতে ভালোই লাগল প্রস্তাবটা। বেশ নিজের মত করে পড়াশুনোও করা যাবে আবার কখনো কখনো তেমন জটিল কেস এলে সেটার পেছনে খেটে মগজাস্ত্রেও বেশ শান দিয়ে নেওয়া যাবে। ভালোই ছিলাম কিন্তু আবার ধীরে ধীরে হতাশা গ্রাস করতে লাগল। বুঝতে পারলাম যে এরা আমার  সাহায্য চান, কিন্তু শুধুই রহস্যটুকু সমাধান করার জন্য, যখনই অপরাধীকে সনাক্ত করে ফেলি, তখনই চলে আসে অনেক স্বার্থ, অনেক গোলমেলে হিসেব। কোন ঘটনাই আর জনগণের সামনে আসে না। এলে আপনারাও বুঝতে পারতেন যে, ভারতের সবচেয়ে বড় অপরাধীরা বাবা বিশ্বনাথ বা পরেশনাথের গলিতে নয়, থাকে আপনাদের আশেপাশেই।
এরকম একদিন, এই কয়েক মাস আগে, চরম অস্থির অবস্থায় কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি, হঠাৎ ডঃ ওয়াটসনের একটা কথা মনে পরে গেল। শার্লক হোমসের বন্ধু ও লেখক ডঃ জন ওয়াটসন, তাঁর কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে।  জন শার্লককে একটা কথা প্রায়ই বলত। বলত, “শার্লক, তুমি যদি কোনদিন আপরাধের সঠিক দিক থেকে বেরিয়ে অন্যদিকে চলে যাও, সেইদিন হবে লন্ডন শহরের পুলিশ বিভাগের জন্য শেষ দিন! তোমার মত মস্তিষ্কের একজন অপরাধীকে সনাক্ত করা হবে খুব শক্ত কারণ তোমার করা অপরাধ হত ত্রুটিহীন।“
চিন্তাটা মাথার মধ্যে গেঁথে গেল। পারব কি আমি, খুঁজে পাব কি সেই পরিকল্পনা যেটা হবে, ‘The perfect crime!অনেক চিন্তাভাবনা, পড়াশুনো আর বিনিদ্র রাত্রির পর শেষ অবধি পেলাম সেই প্ল্যান। নিখুঁত, নিটোল, তুলনাহীন এক পরিকল্পনা। সু্যোগটাও এসে গেল খুব সহজে। জানতে পারলাম এক প্রদর্শনীর কথা। কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরেই হবে সেই প্রদর্শনী, সেখানে থাকবে দুষ্প্রাপ্য কিছু বই এবং পান্ডুলিপি। পান্ডুলিপিগুলোর মধ্যেই থাকবে টিনটিনের স্রষ্টা হার্জের আঁকা অপ্রকাশিত কিছু ছবি আর বইয়ের খসড়া, ইউরোপের বিভিন্ন নিলামঘরে যার মূল্য ছুঁতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমার তো ডলার চাই না, আমার চাই শুধু সেই perfect crime-এর পরিতৃপ্তি। আমার চাই একটা নিখুঁত পরিকল্পনা সফল করার আনন্দ।
কী ভাবছেন? এই বৃষ্টি মাথায় নিয়েও কি আপনি দেখে এসেছেন সেই প্রদর্শনী? আপনার ছোট্ট ছেলে বা মেয়েটির হাত ধরে? গত এক সপ্তাহ ধরে সব খবরের কাগজে-কাগজেই আলোচনা চলছে ঐ দূর্লভ প্রদর্শনী নিয়ে, তাই না? তবে আজকের পর হয়তো বন্ধ থাকবে সেটা।
কারণ কাল বিকেলের ঐ প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আমি হাতে পেয়ে গেছি হার্জের আঁকা চারখানা ছবি। হ্যাঁ, আমি কাজে লাগিয়েছি মানুষের বিভিন্ন আদিম প্রবৃত্তিকে। আমাদের দেশের বিভিন্ন নামী মাফিয়া, নেতা বা ব্যবসায়ীদের মত লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, এমনকি তাদের জীবনের সবচেয়ে গোপনীয় ঘটনার সাহায্যে ব্ল্যাকমেল করে হাত করেছি যাদুঘরের তিনজন কর্মীকে, যারা কালকে যাদুঘর বন্ধ হওয়ার একটু পরে ছবিগুলো তুলে দিয়ে গেছে আমার হাতে। না, ওরা জানে না আমার পরিচয়। ওদের কাছে আমার নাম রণবীর সেনগুপ্ত আর যদি কোনদিন তারা পুলিশের জেরায় স্বীকার করে ফেলে তাদের দোষ, তাহলে তাদের বর্ণনায় যে লোকটির ছবি আঁকা হবে তাঁর ঘাড় অবধি লম্বা সাদা চুল, লম্বা সামান্য ভাঙ্গা নাক, আর হাফফ্রেম চশমায় সেটা অনেকটাই হয়ে যাবে হ্যারি পটারের বইয়ের প্রফেসর ডাম্বেলডোরের মত।
কিন্তু এর পরেই তো গল্পের শুরু। আজ সকালেই সম্ভবত ধরা পড়েছে চুরির কথা। নিশ্চই হইচই পরে গেছে পুলিশ আর সরকারি ওপর মহলে। আমি জানি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোন আসবে কলকাতার পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে। তিনি আমাকে জানাবেন পুরো ঘটনাটা, সাহায্য চাইবেন আমার কাছে? সারা কলকাতা পুলিশের মানসম্মান জড়িয়ে আছে ঐ ছবিগুলোর সঙ্গে।
কিন্তু আমি কী করব তারপর? আমি কি যাব তদন্ত করতে? প্রশ্ন করব মিউজিয়ামের কর্মচারীদের? যখন আর কেউ না জানলেও আমি নিজে জানি যে ছবিগুলো লুকিয়ে রাখা আছে এই বাড়িরই কোন ঘরে।
ঐ যে... আমার সেলফোনটা বাজছে, বাজছে আমার প্রিয় রিংটোন। সোনার কেল্লা সিনেমার সেই চিরস্মরনীয় বাজনা, ‘ফেলুদা থিম’। ফোনটা তুলে নিলাম টেবিল থেকে, টিপলাম সবুজ বোতামটা, প্রত্যেকবারের মতই বললাম, “নমস্কার... প্রদোষ মিত্র বলছি...”

Sunday, October 19, 2014

ISL - The New Dream


On last Sunday I became part of the history. I was part of the huge cheering crowd In Salt Lake stadium and observed ISL taking small steps which can turn into huge leap for Indian Football. I was there when artists from the eight cities including Anandan Shivamani played their various form of drums in a glamorous opening ceremony, I was there when (sadly) Priyanka Chopra spent more time talking about the owners (some of them her colleagues) than the football icons beside them, I was there when Sourav Ganguly and Sachin Tendulkar sat side by side to watch a football match, the first match of the ISL, Indian Super League, between Atletico De Kolkata and Mumbai City FC.
I am not going into minor details like Kolkata won the match by a 3-0 scoreline or Fikru Teferra, Kolkata’s Ethiopian striker, became the first scorer in the history of ISL. But let’s look into the bigger picture.

India has a long history in football. Like many British colonies, in India also the football were started by the English people but Indians quickly caught on the game especially after Mohun Bagan’s victory in the 1911 IFA Shield final. Indian national team started their journey post independence and in first 15 years of independent India were quite a force in the Asian level. They won the gold in Aisan games of 1951 and 1962 and were fourth in 1956 Olympics in Melbourne.
But post that period the performance started to drop, the other Asian teams through their hard work and more focused scientific approach leaped across when India fall behind and now with their FIFA ranking hovering around 150-160 India can only be called a ‘sleeping giant’ as referred by Sepp Blatter.

So what can ISL bring to this cricket crazy nation? The answer could be many folds. Obviously with proper publicity and marketing this can become hugely popular, creates new fan bases, spread the game to the remote parts of the country (like happened in cricket) and inspire a new generation to take up this game more seriously. But along with that this should also be hugely beneficial for the players.
Firstly it will give them a great chance to follow some of the most modern techniques and skills thanks the coaches coming from some of the mainstream footballing countries with vast experience. Playing with good foreign players and icon players, some of the biggest stars in world football in their own right, will not only inspire the Indian youngsters but will also provide the key insights about the game in general. The important factor would be the exposure which the Indian football will get through ISL. Some of the biggest corporate are part of this venture and with their business policy they will ensure that this tournament is well known and news about this is well spread out. Already foreign media from the countries like UK and Spain has shown significant interest in ISL. Team Kolkata’s partnership with Athletico Madrid is a great boon for the team as well as the league. Someone like Arsene Wenger is speaking about ISL in his press conference and hopes that this can bring new dawn for Indian football, this is wonderful.
The quality of football in ISL is definitely much better than the domestic I-league or the state level leagues. The teams are playing much fast paced and technically better football. And it looks great when the Indian players also doing pretty well with respect to speed and skill like their foreign team mates. Folkes like Arnab Mandal, Subhasish Roy Choudhury, Subhash Singh has already in focus with their performances. If they can utilize their learning from ISL in the international matches that will be hugely beneficial for the national team.
ISL also brought a more professional approach in the overall game. Hope some of these will be replicated in I-league too, like the foreign player selection for Indian clubs. ISL is clearly showing that the current group of foreign players like Dudu and Ranti are no match with the foreigners playing in ISL despite having a higher price tag on them and that raises the question about the player recruitment process of clubs like Mohun Bagan and East Bengal and proves that the rumour about club officials hiring players based on the commission they are getting than the player’s skill may have some truth behind them.

But with all these great aspect are ISL perfect? If now then how could we improve ISL more and make it more meaningful for the world football scenario. May be I can share couple of ideas.
 ISL clubs should get under FIFA registration and somehow get eligible to utilize the summer transfer window. If ISL continues to take place in September to December then these clubs can easily sign a few good quality young as well as aged players in half a season loans. Let them play for the clubs till December and then go back to their parent club in January. Obviously even the younger players are involved in reserve squad leagues and under-21 leagues but still we see many Premier league clubs loan out their players for the clubs in championship teams. Hoep ISL can also get involved there.
I absolutely love the way Kolkata franchise get in collaboration with Atletico Madrid. Delhi and Pune have also follow suit with their association with Feyenoord and Fiorentina. It is a win-win scenario for both the parties and I think all the remaining teams also should look to get in a relationship with any club from one of top football nations. Let me explain why I think it will be beneficial for the ISL clubs. If the ISL clubs have a partnership with one of those big clubs they can easily go and use their training facilities which are currently much better than what you get anywhere in India. They can also play practice matches with their players from their academy or reserve teams, get tips from coaching and physical training staffs and even learn from some of their first squad players.
Not only that, those clubs would definitely have a look into the performance of their ISL Counterparts (Atletico Madrid is already doing it) and if some young Indian player can attract them with his performance and technical skill they can be easily selected to be part of those clubs setup through reserve teams.

I also think at some point AIFF needs to find a way to combine I-league and ISL. Otherwise after this high quality football in ISL if we again go back to our slow, meaningless long ball based football in I-league that will not make any sense. Already I-league does not generate enough interest and now with the Indian fans watching top quality football in their own city may become more disinterested about I-league if the quality does not include. So somehow I think it is very important that there is a way we combine the traditional big clubs like Mohun Bagan, East Bengal, Dempo and others get in some kind of partnership with the ISL clubs and embrace their professional approach.


I am very hopeful about ISL’s success and if I go by the quality of football and the support it got from the fans in the very first week of the league, this year’s ISL is already a success. Now if this can sustain for years to come and also bring the Indian football to significant spot in world football that needs to be seen. And with all the heroics from Virat Kohli, Saina Nehwal and Sushil Kumar I will also dream of a day when we can also cheer for someone like Subrata Pal saving a powerful long range drive from Sunil Chhetri in the final minutes of the El Clasico or Manchester Darby.

Tuesday, October 14, 2014

Yatrik: The Journey Within

It was a Saturday evening in South City, the shopping mall. And it was chaturthi, just before the Durga Puja. A huge number of people focussing on their last moment Puja shopping were strolling through various floors, moving in and out of different shops. But Shreya and I were not visiting Pantaloons or Shoppers Stop. We were in Starmark, the book store which also sells DVDs, gift items, folders, perfumes and even foreign chocolates. Just near the entrance there is a rack with all the latest books, a few books on politics, Mahabharata, sports. There were a few books from foreign authors. Also there were books from so-called new age Indian writers who wrote about sweet love and college hotties in their books intended for India’s youth.

We however were looking for a different book and despite searching through various sections of the store we started fearing that the book may not be yet released in Kolkata. Hence we asked one attendant in the shop and he after consulting with another couple of his colleagues finally handed me the book from one of the almost-hidden corners of the fiction section. They said that the book arrived just day before and I wondered how that could reach such a farthest corner in just a day! The book we were looking for was Yatrik, the third book written by Arnab Ray aka Greatbong. Well, I just wanted to write this to show like everything in life how in the publishing industry also it all depending on the marketing and publicity but not on the quality. Not good news for potential writers with no connections like me!!

Arnab has a long presence in the Indian blogger community. After spending a considerable time writing blogs on topics ranging from Lambu Ata (Who ultimately got his 'Maut ki Chnata' in the movie Gunda) to Twilight saga to his local sweet shop he ventured into writing books. Obviously his first book was different from his regular blog posts in the web but the themes were similar based on his style of humour and satire. He did not only get the attention but rather turned a few heads on the way.
His second book ‘The Mine’ can boast as the first Indian horror novel. A rather dark plot line with multiple twists to shock the reader, the mine is a wonderful psychological thriller which made me finished that book at one go. At that time I could not stop myself from writing a review for ‘The Mine’.

Yatrik is nothing like any of the first two books. Yes, it may come as similar to ‘The Mine’ but that may be because of the death being a common theme in both the books but the similarities just end there.
Yatrik means a traveller. And the book focuses on the journey of Anushtup, the main protagonist of this book, the journey of his life. Although the book started with a death in the first chapter but Yatrik eventually talks about the life.
Anushtup is a typical Bengali guy. Like any one of us he gets confused about life, makes glaring mistakes while judging someone, get disillusioned of politics once he knows all the dirty tricks of it and has a huge ego which make him leave his home and stay in a slum but stops him from taking unfair help from others, even if they are their closest relatives. And despite being the story of a regular Bengali guy, the book does not move in a straight, one-directional way. It moves with twist and turns. Old myths were broken; truth starts to lift his ugly head from the past, people changes, perception changes too.
Questions were answered, unanswered questions like ones which keep bugging us all through our life. Don’t all us have some questions in our life for which we never know the answers! Why everyone in my class did get 82 in life science in the board examination? Why that one close friend of mine stopped contacting me just without any reason? Why do I did not crack the interview I was so confident about? Yatrik tried to identify some of such answers and tried to break the myth about destiny. Ultimately every event in life has some explanation which may not be clear to us because it happened when we were not looking.
Despite being in US for quite a long time Arneb can still paint the city of Kolkata quite accurately with its various characters. There is a call centre boss, a shopping mall bunny, a political leader, a financial chit fund… small incidents which brings out the uniqueness of the city through Anushtup’s journey of life.
Yatrik is a beautiful read and I want to make just a couple of points for Arnab to keep in mind while writing his next (And I know he is busy in quite a few ongoing projects). I was not convinced with some part of the book near the end and think that plot could have been tighter but again Arnab being the storyteller can argue that he was convinced when he thought about that part of story and he thought that plot was the best for the overall story.
The second observation is regarding the dialogues. I think it is already mentioned in Abhishekda’s blog and I kind of agree with him. I feel Arnab gets confused about what should be the right mix of English for his Indian characters. It’s always easy if you are writing dialogues for an American or a British character as they are speaking English all the time and has a significantly different way of expressing themselves. Whereas for a Bengali character, who is a simplest of common man in his mid forties, it’s not always easy to picture in one’s mind regarding how he would speak in English without sounding too snobbish or sounding too cool.

At the end I would say, after ‘The Mine’, the expectation was very high from Arnab and to me he has delivered successfully with Yatrik, the story of one’s journey of life. Now the appetite has just increased and I am waiting eagerly for his next.

Wednesday, August 27, 2014

Alia is not Alone : Thankfully

This will be a relatively smaller post in my blog because my main idea is to collate a few videos which I like to watch over and over again. I am writing this post to celebrate the awesome gift of humour which only few people have. Also not all humour but a special kind of humour. The humour which is targeted to no one else the person who is making the joke. This is the power of laughing at himself.
Sadly, in recent time Indians especially politicians and fans of certain cricket players have become so egoistic that they can not stand any joke or even a single opposite view from anyone else. In this time it’s like a breath of fresh air when I find a video where someone is making fun of himself instead of taking pot shot at someone else.
I love to laugh at myself and my friends Kanad or Sayantan would support that fact. I remember some of my drunken stories as some of the most hilarious stories I know. And I have told those stories many a time despite the risk of embarrassing myself.
The idea of this piece has come to my mind after watching Alia Bhatt in the wonderful video created by AIB which includes people like Karan Johar, Arjun Kapoor, Parineeti Chopra and Mahesh Bhatt alongside Alia. And they had a great time in that 10 minutes video and so do I. Alia was exceptional but I also loved those cameos from Arjun and Parineeti. With two and half million views in just two days this video is truly viral and deservingly so.


Few years back I have watched the following video. It was none other than Rajanikanth who took the centre stage. Not only it was a great narration by him but it also shows his humbleness and great sense of humour. I also understood why he was so very popular among his fans.

Anurag Kashyap generally comes out as a serious guy making serious movies. But the video he created with the folks of Qtiyapa shows his fun side. With movie ideas like ‘Jab We Kill’ and ‘Lingam’ it is an outrageously funny piece.

I can remember these three videos at this moment and I will keep adding as I find more. Before I close let me try to the same. I would like to end with a story of mine.

The year was 2007. I have just joined HSBC couple of months back. One of those days I and one of the senior members of the team were in the lift lobby for the elevator to come. Certain Middle aged gentleman joined us. He knew my team member and greeted him. My team member introduced me to him so we shook hands and then our conversation went like this:

Middle Aged Gentleman (smiling): Hi, Kandivelu!
Me: Sorry…
MAG: Kandivelu!!
Me: Sorry, I did not get you.
MAG: KANDIVELU!!!
Me (desperately): What’s that?

… A pause…

MAG: It’s my name!!!

Saturday, July 19, 2014

The Lords’ Encore – 18 years down the line

Eighteen years back in the evening of 22nd June the whole India were treated to the welcome note sung by the two young Indian batsmen making their way into the grind of international test cricket. It was the second test of India’s tour of England and in an extremely messy scenario, perfectly exampled by the Indian team quite a few times during that era, those two young men were playing their first test match in the ‘Head-quarters’, the Lords.
India was already behind in the test series thanks largely to a very mediocre batting performance in both the innings of the Trent Bridge test match. Even a Sachin Tendulkar century was not enough for a team to save the test match for whom the next best score in that innings was 18. Clearly something has to give and it was obvious that Tendulkar needs some support in the other end to build his innings and also for India to make some sizable total.
To make matter worse, Navjot Singh Sidhu, one of the mainstay of the Indian batting line up walked out of the tour just before the second test due to an ugly spat with then Captain Mohammed Azharuddin. Already there were talks of giving chance to one of the newbie’s Sourav Ganguly to make his debut in Lords. Ganguly just played two ODIs before that with a gap of more than 4 years between them. But his 46 in the last One day was a good innings and he was generally in a good form during the tour with couple of centuries in the first class matches against the counties and other minor teams.
The other option in the middle order was Rahul Dravid. Despite being a prolific run scorer in domestic cricket Rahul was quickly gaining the dubious reputation of being a ‘domestic tiger’ much like Raman Lamba and some others due to the poor return in his first few ODIs. From his debut in April of that year till that test, Rahul played 5 ODIs scoring only 43 runs in those. But he also got a chance in that last ODI along with Sourav and made quick unbeaten 22 of 15 at the death. Hence when Sanjay Manjarekar was deemed injured before the second test then Rahul replaced him in the number 7 position in the batting line up.
(Source: Internet)
India won the toss and put England in. England with a very strong top order with Atherton, Stewart, Hussain, Thorpe and Hick found an unlikely hero in their eccentric wicketkeeper Jack Russel, whose 124 along with support from Thorpe, who scored 89, took England to 344. For India, Venkatesh Prasad, playing his second test, put his name in the Lords Honour board with five wickets. Srinath got 3 and Ganguly with his slow medium pace utilized the condition and pitch to get enough swing to finish with two big scalps of Hussain and Hick.
At the end of second day’s play India was 83 for loss of two wickets with Ganguly and Tendulkar in the middle. India kept losing wickets in regular interval on the third day and at 202 for 5 was at the risk of getting allout below 300. Ganguly was solid in one side but needed support. Rahul Dravid came out of the dressing room and joined Sourav to bat in his first test match. Rest as they say is history. That day, their partnership of 94 runs was the first of many such partnerships in next 12 years. Ganguly got that elusive debut century at Lords to get out for 131. Dravid built important partnerships with his Karnataka team mates Kumble and Srinath but unfortunately got out just 5 short of his debut hundred.

That test match ended in a draw but the course of Indian cricket was changed that day. Those two youngsters with their talent and capability drive Indian cricket to many new peaks and accomplishment throughout their career.
Together they have scored almost 43,000 international runs to go with 137 wickets and almost 600 catches. I can keep listing their 100’s and 50’s but these dry statistics cannot completely illustrate their contribution to the Indian cricket. They are two ideal ‘Sportsman’ in true sense of the term and as leaders and as great performers they are well respected and loved by thousands of fans and critics all over the cricketing world and beyond.

Let’s move forward to 2014. India is playing another test match in Lords and the surroundings are very similar to that 96 tour. India has not won an away test match for over 2 years during which they have played 15 test matches outside home. People are asking questions about the team combinations and line up. To add to that, things got messier with India’s complaint against James Anderson and England’s counter-complaint against Ravindra Jadeja just before the start of the test matches. India again has a young batting line-up and although no one is making their debut but two of them have played less than 10 test matches. Among them Ajinkya Rahane played just 6 test matches and all though he already scored his maiden test century in New Zealand it’s safe to say that he is still finding his feat in the longer version of the game.
After the slow lifeless pitch in Trent Bridge during the first test, the Lords pitch was completely different. It is the most greenish pitch produced in Lords in ages and just before the test match the tweeter and other social media sites were buzzing with ex-cricketers and cricket followers exclaiming their surprise in such a green pitch.
(Source: Internet)
India lost the toss and was sent in by England. The pitch had lots of life in it and Indians had quite a difficult time throughout the first session. But after a relatively better first session where they scored 78 runs with loss of just 2 wickets India lost their way in the middle session and when they lost their 7th wicket with 145 on board even 200 looked like a distant dream. Rahane came to bat at the fall of 3rd wicket and by the time the 7th wicket fall he reached 26. Although he looked solid but there was a possibility that he could run out of partners.
But Bhuvneshwar Kumar was not ready to give in easily; he became just the right ally for Rahane playing very sensibly with a mindset and technique of a batsman. And as the pressure were off from his shoulder Rahane became more and more assured and with the second new balls coming to bat more quickly he started playing his shots which included a wonderful lofted six of Anderson, arguably England’s best bowler of the day. Although Kumar got out with Rahane at 78 he found more able support in Mohammed Shami and finally reached his first Lords’ century with punch through point boundary.
It is a memorable innings played in a difficult pitch with the team in dire straits. Rahane is slowly making his name in test cricket and getting the reputation of not only Top-class test batsman but also someone who has the traits to build long partnership with the tail, an enviable quality for any middle order batsman.

18 years back those two gentlemen made an entire generation of cricket followers falling in love with their brand of cricket. And although we do not know whether India will be able to snatch a win or not but we can just hope that Ajinkya Rahane will be able to create many such generations of fans with other great innings like this one.

Sunday, July 13, 2014

খেলার গল্প কিম্বা জীবনের...

ফুটবলের বাজারে সত্যি কথাটা প্রথমেই স্বীকার করে নি। এখনও ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটটাই আমি বেশী পছন্দ করি। তা, ক্রিকেটে যে দেশটাকে আমি সমর্থন করি সেটা খুব মজার দল। হ্যাঁ যদিও পৃথিবীর সবচেয়ে মজার দল এটা নয়। সেই জায়গাটা আমাদের প্রতিবেশী দেশটি নিয়ে বসে আছে। বছরে দুবার করে অধিনায়ক পরিবর্তন, খেলোয়াড়দের মধ্যে মারপিট, ফিক্সিং নিয়ে দোষারোপ কোন কিছুই সেখানে বাদ যায় না। আজকাল বাংলাদেশও মাঝে মধ্যেই বেশ ভালো খোরাক যোগায়। গত সপ্তাহের শাকিবের সাস্পেন্সানটা যেমন একটা।
কিন্তু তাই বলে ভারতকে গত ২৫ বছর ধরে সমর্থন করা মোটেই সহজ কাজ ছিল না। আমার জেতা ম্যাচ হেরেছি, কত ম্যাচে যে আমাদের বোলাররা প্রথমে দারুণ বল করেও শেষ দুটো বা তিনটে উইকেট ফেলতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে তার লেখাজোখা নেই। কালকেই তো চূড়ান্ত অসম্মানটা হয়েছে যখন জো রুট আর জিমি অ্যান্ডারসন মিলে টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৭ বছরের ইতিহাসে দশম উইকেটের সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপের রেকর্ড বানিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে।
আমাকে ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, দেখতে হয়েছে পাঁচ-পাঁচটা বিশ্বকাপ যেখানে ওই ১০-১৫ দলের মধ্যেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হতে ব্যর্থ হয়েছে আমার দল। কিন্তু যখন শেষ অবধি জয় এসেছে ২০১১র বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় এপ্রিল রাত্তিরে নিজেকে মনে হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে খুশী মানুষ।
(সুত্রঃ ইন্টারনেট)
ভারত ১২০ রান তাড়া করতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট ম্যাচ, অলআউট হয়েছে ৬৬ রানে, সাউথ আফ্রিকার বাউন্সি পিচে ধরাশয়ী হয়েছে বার বার।
কিন্তু যখন সৌরভের ভারত সিরিজ জিতেছে পাকিস্তানের মাটিতে বা সেই অ্যাডিলেডের টেস্ট জয়, ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়, টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারানো, প্রত্যেকটা দিন গেঁথে গেছে আমার মনে। সৌরভ, রাহুল, অনিল, শচীন, লক্ষণকে মনে হয়েছে নিজের ঘরের লোক। ওদের একটা অসামান্য ক্যাচ বা উইকেটকে মনে হয়ে নিজের কৃতিত্ব।
দল হেরে গেলে ঝগড়া করেছি অন্যদের সঙ্গে, রাগ করে খাইনি রাতে, স্বপ্ন দেখেছি ভারত জিতে গেছে, ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসেছি। আবার জিতলে মিষ্টি খাইয়েছি অন্যদের, ধন্যবাদ জানিয়েছি আমার ইষ্টদেবতাকে। আর এই ভাবেই সাফল্য, ব্যর্থতা, উচ্ছাস, ক্রোধ এই সব মিলিয়েই সমর্থন করে চলেছি আমার টিম ইন্ডিয়াকে। ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, সব খেলা দেখার সুযোগও পাইনা আজকাল, তাও এই দলটা আজও আমার বড় প্রিয়, আমার বড় কাছের।

(সুত্রঃ ইন্টারনেট)
আমার দেশের যে ফুটবল ক্লাবকে আমি সমর্থন করি তার এ বছর বয়স হবে ১২৫ বছর। এতো দিন ধরে থাকলে যা হয়, মোহনবাগান ক্লাবও অনেক ওঠানামার মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯১১ সালের সেই ইস্ট ইয়র্কশায়ারের বিরুদ্ধে আইএফে শিল্ড জয়ের গল্প ছড়িয়ে গেছে বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে। তার পরে এসেছে আরো সাফল্য, ৩টে জাতীয় লিগ, ১৩টা ফেডারেশন কাপ, ২৯টা কলকাতা লিগ সঙ্গে আরো অসংখ্য শিল্ড, ট্রফি। কিন্তু এই দলটা গত চার বছর কোন ট্রফি জেতেনি। জেতা তো দূরের কথা, ট্রফি জেতার ধারেকাছেও আসেনি। সঙ্গে কর্মকর্তাদের নোংরামি, লোভ, খেলোয়াড়দের দিয়ে দলাদলি, কোন কিছুই বাদ যায়নি।
তাও আমি, শুধু আমি কেন লাখ লাখ মোহনবাগান সমর্থক দলটাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। প্রত্যেক বছর ফুটবল মরসুম শুরু হলেই স্বপ্ন দেখি এ বছর ট্রফি আসবে বাগানে। অফিস বা পাড়ার আড্ডায় মুখের মত জবাব দিতে পারব ইস্ট বেঙ্গলের সাপোর্টারদের।

ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় টিম তার নিজের দেশের সবচেয়ে সফল ক্লাব। তাদের ১৯ নম্বর লিগ খেতাব ভেঙ্গে দিয়েছিল লিভারপুলের ১৮টা লিগ জেতার রেকর্ড। ২০১২-১৩ মরশুমে তার জিতেছিল তাদের ২০ নম্বর লিগ। আর তার পরের বছরেই স্যার অ্যালেক্সের অবসরের পর ডেভিড মোয়েসের ভুল স্ট্র্যাটেজি, খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা আর চোট-আঘাতের দৌলতে ১৩-১৪ মরসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিগ শেষ করেছে সপ্তম স্থানে। প্রায় ২৫ বছর পর চ্যাম্পিয়ান্স লিগ তো দুরের কথা ইউরোপা কাপেও খেলবে না তারা।
(সুত্রঃ ইন্টারনেট)
আমি গত দশ বছরে ইউনাইটেডকে ৫ বার লিগ জিততে দেখেছি। দেখেছি কিভাবে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন একদল সাধারণ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটা অসাধারণ দল গড়ে তুলেছিলেন। কিভাবে বেকহ্যাম বা রোনাল্ডোর মত দলের সুপারস্টাররা চলে যাওয়ার কোন প্রভাব ফেলতে দেননি দলের খেলায়। কিভাবে ইউনাইটেড বার বার শেষ মুহূর্তে গোল করে হারা ম্যাচ জিতে ফিরেছে। সাত তো দূরের কথা, ‘টপ থ্রি’-র বাইরে শেষ করতেই দেখিনি কোনদিন। তাই গত বছরের ওই অভিশপ্ত মরসুম আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মত। কিন্তু তাও সব ভুলে আবার অপেক্ষা করছি এই মরসুমের জন্য। স্বপ্ন দেখছি ডাচ কোচ লুই ভ্যান গালের হাত ধরে ইউনাইটেড আবার ফিরবে স্বমহিমায়।

ইপিএল থেকে এবার আসি আইপিএলের কথায়। যদিও আইপিএলকে আমি খুব একটা সিরিয়াসলি নিইনা, তবু এখানেও আমার একটা প্রিয় দল আছে। আর এই দলের গল্পটাই বোধ হয়ে সবচেয়ে মজার। কেকেআর মানে কলকাতা নাইট রাইডার আইপিলের সবচেয়ে চর্চিত দল। প্রথম তিন বছর কেকেআর যা খেলেছিল তাতে দলের নাম কেকেআর নয় কেকেহার মনে হচ্ছিল। ব্র্যান্ডন ম্যাকুলামের বিস্ফোরক ১৫৮ দিয়ে শুরু করলেও সাফল্য খুব তাড়াতাড়ি চলে গেছিল কেকেআরের ঘর থেকে। প্রথম বছর আট দলের মধ্যে ষষ্ঠ, তৃতীয় বছরও তাই। আর দ্বিতীয় বছরের কথা না বলাই ভালো। কেকেআর আইপিএল শেষ করেছিল টুর্নামেন্টের শেষ দল হিসেবে, সঙ্গে সৌরভের সঙ্গে কোচ বুকানানের সমস্যা, ফেক আইপিএল প্লেয়ার নামক ব্লগ লেখক নিয়ে বিতর্ক... এক এক সময়ে মনে হয়েছিল কলকাতার নাম নিয়ে এই ধাষ্টামোর চেয়ে টিমটা উঠে যাওয়াই হয়তো ভাল।
(সুত্রঃ ইন্টারনেট)
আর তারপর... খেলোয়াড় নিলামের জন্য সুনির্দিষ্ট প্ল্যান, সঠিক খেলোয়াড় চয়ন আর প্লেয়ারদের দায়বদ্ধতা। প্রথম তিন বছরের বাকিদের হাসির খোরাক কেকেআর শেষ তিনটে আইপিএলের দুটোতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। এ বছরের ফাইনালের জয় জায়গা পেয়েছে রেকর্ডবইয়ের পাতায়। আজ নাইট রাইডার চেন্নাই সুপার কিংসদের সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলের সবচেয়ে সফল দল। আর যতই মুখে বলি যে, আইপিএল সিরিয়াসলি নিইনা কিন্তু কলকাতার দল জিতলে ভালো তো লাগেই।

এতগুলো কথা কেন লিখলাম? কারণ আমি মনে করি যে জীবনের মত খেলাতেও উত্থান-পতন আছে। জীবনের মত খেলাও অনেক সময় অন্যায্য। জীবনের মত খেলাও সব সময় বলিউডের সিনেমার ছক মেনে চলে না। খেলাধুলোয় তাই ‘হ্যাপি এন্ডিং’-র সঙ্গে সঙ্গে ‘হার্টব্রেক’-এরও জায়গা আছে। এই ধরুন ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার কথা। আমার তো সব সময় নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। আমি ১৯৯০ থেকে ক্রিকেট দেখছি। আমার সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের রেজাল্টে ভারতই হয়তো সামান্য এগিয়ে আছে। কিন্তু আমি যদি আমার চেয়ে বছর দশেক বড় ভারতীয়দের কথা ভাবি। তাদের দেখতে হয়েছে শারজায় মিয়াঁদাদের ম্যাচ জেতানো শেষ বলে মারা ছয়। শুধু ওই একটা ম্যাচ তো নয়, ওই সময়ে একের একের পর এক ম্যাচ হেরেছে লড়াই না করে, নিজেদের মনোবলকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে হেরে গেছে ভারত। আজ যখন বিরাট কোহলিরা হাসতে হাসতে হারিয়ে দেন তখন কি তাদের সেই পুরনো দিনগুলো মনে পড়ে। আবার আমি এটাও জানি হয়তো আজ নয়, কিন্তু পাঁচ-দশ বছর পরে আবার পাকিস্তানের সুদিন আসতেই পারে। তখন হয়তো আবার একের পর এক ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারবে ভারত। ভারতের ফ্যান হিসেবে ভেতরে ভেতরে ক্ষত-বিক্ষত হব আমরা।

আর সেই জন্যেই ব্রাজিলের শেষ দুটো হার নিয়েও বেশী ভাবছি না আমি। হ্যাঁ, এই লেখাটা লেখার প্রধান কারণ হয়তো ব্রাজিলের গত সপ্তাহের ১-৭ হার কিন্তু আমিও জানি এটা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের শেষ নয়। আমার নিজের দেখা প্রথম তিনটে বিশ্বকাপের ফাইনালের একটা দল ছিল ব্রাজিল। তার মধ্যে ব্রাজিল কাপ জিতেছিল দু বার। রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রবার্টো কার্লোস, কাফু, রোনাল্ডিনহোর সেই ব্রাজিল ম্যাজিক দেখাতে পারতো। হয়তো সেই ম্যাজিক ৭০-৮০ দশকের ব্রাজিল দলগুলোর কাছে কিছুই নয়। কিন্তু তখনো বাকি দলগুলো ব্রাজিলকে ভয় পেত। তারা জানতো একজন রোনাল্ডো বা একজন রোনাল্ডিনহো হাসতে হাসতে তাদের দলের কাঁপন ধরিয়ে গোল করে দিয়ে চলে যাবে।
(সুত্রঃ ইন্টারনেট)
আজ ব্রাজিল হয়তো একটা মধ্যবিত্ত ফুটবল দল। আগের মত আজ আর ব্রাজিল যেকোন টুর্নামেন্ট ফেভারিট হিসেবে শুরু করে না। আজ ব্রাজিলের মাঝ মাঠে দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের চেয়ে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার লোক অনেক বেশী। কিন্তু আজও ব্রাজিলের একটা নেয়েমার আছে, যার চোট সেমিফাইনালে দলের মনোবলকে শেষ করে দিয়েছিল, বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছিল। যে নেয়েমার চোট সারিয়ে ফিরে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভবনা রাখে। আছে অস্কার, লুকাস মউরার বা কৌটিনহোর মত তরুণ খেলোয়াড় যাদের পেছনে ইউরোপের ক্লাবগুলো যেকোন মুহূর্তে কোটি কোটি টাকা ঢালতে প্রস্তুত থাকে। আর তাই জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি ব্রাজিলিয় দল আবার সাফল্য পাবে, আর এখানে সাফল্য মানে প্রদর্শনী ম্যাচ বা কোপা জেতা নয়, আমি বলছি বিশ্বকাপ জেতার কথা। হয়তো চার বছর পরেই বা হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু বছর।



কিন্তু ওই যে বললাম, আমি ২৮ বছর অপেক্ষা করেছি ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য, মোহনবাগানের ট্রফির জন্য অপেক্ষা করছি গত চার বছর। ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তনের জন্য কয়েকটা বছর অপেক্ষা করা আর এমনকি। আর যখন তারা ফিরবে... সেটার কথা ভেবে বাকিরা হয়তো এখন থেকেই ভয় পেতে শুরু করেছেন।

Friday, June 13, 2014

স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়

আজ প্রভাত হইতেই মহারাজ মানিক্যবর্মার শরীরটি ঠিক যুত হইতেছে না। সমগ্র গাত্র ম্যাজম্যাজ করিতেছে, চক্ষু রক্তবর্ণ, মস্তক ভার, নাসিকা যে শুধু বন্ধ তাহাই নহে তাহার সহিত নাসিকা দিয়া একদিক্রমে বারিধারাও বয়ে চলিতেছে। তবে জ্বর যে আসে নাই তাহা রাজবৈদ্য পরীক্ষা করিয়া নিশ্চিত হইয়াছেন।

ঘটনা হইল এইরূপ যে রাজা গতকল্য বৈকালে বৎসরের প্রথম কালবৈশাখীর আনন্দ উপভোগের জন্য আপন গৃহিণীদের সঙ্গে বৃষ্টিধারায় সিক্ত হইয়া সামান্য জলকেলি করেছিলেন। এরপর জবজবে সিক্ত গাত্র এবং ততোধিক জবজবে সিক্ত কেশে একটি নিষিক্ত পরভৃতের ন্যায় কাঁপিতে কাঁপিতে এক পাত্র চা সহযোগে দুই গণ্ডা ভর্জিত বার্তাকু ভক্ষণের লোভ সংবরণ করিতে না পারায় বৃষ্টির জল গাত্রে বসিয়া রাজার সামান্য সর্দি হইয়াছে। মানিক্যবর্মা জানেন ঔষধ খাইলে সর্দির উপসম হয় এক সপ্তাহে আর ঔষধ না খাইলে সারিতে সময় লাগে ঠিক সাতটি দিবস, সেই কারণে ইহা লইয়া তিনি সবিশেষ চিন্তিত নন।

তবে অন্য একটি সমস্যা আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে, যাহার কথাই তিনি এক মনে চিন্তা করিতেছিলেন। প্রবল শ্লেষ্মার কারণে রাজার কথপোকথনে জিহ্বা, তালুব্য বা দন্ত অপেক্ষা নাসিকার প্রভাব ক্রমেই বাড়িয়া চলিয়াছে। এদিকে দ্বিপ্রহরে বয়স্যদের সহিত দৈনন্দিন আলাপের কাল আগতপ্রায়। সেথায় দৈনন্দিন বার্তালাপে  সমস্যা হইবার সমূহ সম্ভাবনা, তথাপি মানিক্যবর্মা ভাবিলেন, হাজার হউক তিনি রাজাধিরাজ, সামান্য সর্দির কারণে এই প্রাত্যহিক কার্যসূচি পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নাই।

রাজার বয়স্য বলিতে মহামন্ত্রী, রাজবৈদ্য, বিদূষক এবং সভাগায়ক। অন্যান্য দিবসের ন্যায় আজও বৈকালে পাঁচ ঘটিকার পূর্বেই এনারা রাজ-উদ্যানে এসে মিলিত হইলেন। এনাদের বয়স একে অপরের কাছাকাছি হইলেও মহামন্ত্রী এনাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ। নিজের সুদীর্ঘ, পক্ক, পাংশুল বর্ণ শ্মশ্রুতে অঙ্গুলি চালনা করিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহারাজ, সকাল থেকেই দেখছি আপনি সুস্থ্য নন। ঐ রেশমের বস্ত্র দিয়ে বারবার নাক মুছছেন। এখন আপনি কেমন আছেন? রাজবৈদ্যের কাছ থেকে কোন ঔষধ নিয়েছেন কি?”

“না মঁন্ত্রীবঁর। এ সামান্য সঁর্দি, নাতিউষ্ণ জলে লবণ সঁহযোগে কুলি কঁরিলেই সেঁরে যাঁবে বঁলে মনে হঁয়।”

কথা বলিয়াই রাজন বুঝিলেন, কন্ঠের অবস্থা খুবই সঙ্গিন। বাকিরাও তাহা বুঝিলেন তবে মহামন্ত্রী এবং রাজবৈদ্য তাঁদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীরবতা বজায় রাখিলেও বিদূষক গোলকচন্দ্র স্বভাব বাচাল। বলিলেন, “রাজন যে কত আশ্চর্য্য শক্তির অধিকারী তার তো দেখছি সীমা-পরিসীমা নেই। এই মুহূর্তে রাজন শুধু মনুষ্য নয় প্রেতেদের ন্যায় বাক্যালাপেও সক্ষম।”

সভাগায়ক কুমার ভট্ট সাধারণত উদাস হয়ে সর্বদা নিজ অন্তরে সুর ভাঁজিতে থাকেনঅদ্য ঠিক কি হইল জানা নাই তবে গোলকচন্দ্রের কথা শুনিয়া সহসা অট্টহাস্য করিয়া উঠিলেন তিনি। যদিও তৎক্ষণাৎ তাঁর ভ্রান্তি উপলব্ধি করে লজ্জিত হইয়া নিজ মস্তকের পশ্চাৎ দিকে তুরঙ্গম পুচ্ছের ন্যায় সংক্ষিপ্ত ঝুঁটিতে হস্ত বুলাইতে লাগিলেন তিনি।

কিন্তু যা গোলমাল হইবার তাহা ইতিমধ্যে ঘটিয়া গিয়াছে। রাজা তাঁর রক্তবর্ণ চক্ষুকে আরো আরক্তিম করিয়া তুলিলেন এবং অতঃপর রাজন্যসুলভ খেয়ালের বশবর্তী হইয়া বিদূষককে কিছু না বলিয়া সভাগায়ক কুমার ভট্টের প্রতি রোষকষায়িত হইয়া বলিলেন, “আমার এই দূর্দশায় আপনি আনন্দ পাচ্ছেন সভাগায়ক! আমার আদেশ এই মুহূর্ত থেকে সর্বদা আপনাকে আপনার নাসিকা দিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করতে হবে। এর সামান্যতম অন্যথা হলে আপনার মস্তক ছেদ করে সেটি আমি নিজ গর্ভগৃহে রেখে দেব। আর মস্তক না থাকলে আপনার পক্ষে সঙ্গীতচর্চা বা রাজভোগ ভক্ষণ যে সম্ভব হবে না তা আশা করি আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন!”

----------------------------------

একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে গেল বিখ্যাত গায়ক কুমার শানুর। ঘড়িতে এখন বাজছে রাত চারটে। বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে গিয়ে ভালো করে ঘাড়ে-মাথায় ঠান্ডা জল দিয়ে এসে তাঁর ত্রিশ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফ্রিজ থেকে বের করে আনা দুটো রসগোল্লা খেতে খেতে ভাবলেন, “বাঁব্বা, এই একটাঁ আঁদেশ যেঁ আঁর কঁত জন্ম বঁয়ে বেঁড়াতে হঁবে কেঁ জানে!”

[কুমার শানু বা তাঁর ভক্তদের যদি এই লেখা কোনভাবে খারাপ লাগে তাহলে তাঁর জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে রাখলাম।]