Showing posts with label Films. Show all posts
Showing posts with label Films. Show all posts

Saturday, December 24, 2016

Dangal - Quick Thoughts

Dangal is one of those intense sports dramas which keeps you on the edge for most of the time during the film. I think for general public this movie will have more impact regarding the intensity of wrestling than the medals we won because sadly not many follow wrestling despite the multiple medals in last three Olympics. This one is probably the best movie of this year and a must watch.
But don't go to theater thinking this is Aamir Khan's movie. More than Aamir Khan this movie belongs to Zaira Wasim, Sanya Malhotra, Fatima Sana Shaikh and Suhani Bhatnagar. Way to go girls! I will look forward to more such portrayal  from you (As a matter of fact, I am already looking forward to 'Secret Superstar' starring Zaira, the trailer was shown before Dangal in the theater).
P.S. Once this movie becomes a hit which I think it will be, I can foresee a group of Facebook naysayers will come out to bash the movie because it shows how a father forced (at times reaching almost a stage of torture) his daughters to realize his dreams, which is actually a complete opposite storyline of another Aamir Khan movie 'Tare Zamin Par'.
But I guess this is life with all its good, bad and ugly faces and we should just move on. Ohh by the way, watch this movie while you are moving on!
(Source: Internet)

Wednesday, August 27, 2014

Alia is not Alone : Thankfully

This will be a relatively smaller post in my blog because my main idea is to collate a few videos which I like to watch over and over again. I am writing this post to celebrate the awesome gift of humour which only few people have. Also not all humour but a special kind of humour. The humour which is targeted to no one else the person who is making the joke. This is the power of laughing at himself.
Sadly, in recent time Indians especially politicians and fans of certain cricket players have become so egoistic that they can not stand any joke or even a single opposite view from anyone else. In this time it’s like a breath of fresh air when I find a video where someone is making fun of himself instead of taking pot shot at someone else.
I love to laugh at myself and my friends Kanad or Sayantan would support that fact. I remember some of my drunken stories as some of the most hilarious stories I know. And I have told those stories many a time despite the risk of embarrassing myself.
The idea of this piece has come to my mind after watching Alia Bhatt in the wonderful video created by AIB which includes people like Karan Johar, Arjun Kapoor, Parineeti Chopra and Mahesh Bhatt alongside Alia. And they had a great time in that 10 minutes video and so do I. Alia was exceptional but I also loved those cameos from Arjun and Parineeti. With two and half million views in just two days this video is truly viral and deservingly so.


Few years back I have watched the following video. It was none other than Rajanikanth who took the centre stage. Not only it was a great narration by him but it also shows his humbleness and great sense of humour. I also understood why he was so very popular among his fans.

Anurag Kashyap generally comes out as a serious guy making serious movies. But the video he created with the folks of Qtiyapa shows his fun side. With movie ideas like ‘Jab We Kill’ and ‘Lingam’ it is an outrageously funny piece.

I can remember these three videos at this moment and I will keep adding as I find more. Before I close let me try to the same. I would like to end with a story of mine.

The year was 2007. I have just joined HSBC couple of months back. One of those days I and one of the senior members of the team were in the lift lobby for the elevator to come. Certain Middle aged gentleman joined us. He knew my team member and greeted him. My team member introduced me to him so we shook hands and then our conversation went like this:

Middle Aged Gentleman (smiling): Hi, Kandivelu!
Me: Sorry…
MAG: Kandivelu!!
Me: Sorry, I did not get you.
MAG: KANDIVELU!!!
Me (desperately): What’s that?

… A pause…

MAG: It’s my name!!!

Monday, October 21, 2013

স্বঘোষিত সিনেমাবোদ্ধাদের নিয়ে দু-চার কথা

ফেসবুক অতি কাজের জিনিস! পুরনো বন্ধু-বান্ধব, রেলাবাজ পাড়ার দাদা, বিরক্তিকর কলেজের জুনিয়ার, অফিসের সুন্দরী সহকর্মিনী সবার সব খবর সময় মত পাওয়া যায়। কে কাকে বিয়ে করল, কার কবার ব্রেক-আপ হল, কে অফিসের ট্যুরে বিদেশ গেল, কে অফিস কেটে হিমাচলে গিয়ে গাঁজা খেল সব খবরই যাকে বলে আঙ্গুলের ডগায়! এছাড়া ফেসবুকে নানা বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত প্রদান করাও যায় বৈকি। সে আপনি খেলা বলুন, সাহিত্য বলুন কিম্বা দেশ-বিদেশের চলচিত্র। আর ফেসবুকের এইসব বাঙ্গালী সিনেমাবোদ্ধাদের চারিত্রিক বিশিষ্টের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যই এই লেখা।

১. Angry Young Man

এরা সকলেই সবসময়েই অত্যন্ত রেগে আছেন। যেকোন সিনেমা(নাকি ফিল্ম!) দেখে খারাপ লাগলে হতাশা বা দুঃখের কোন জায়গা নেই এদের কাছে। এদের শুধু হয় দাঁত কিড়মিড়ে  রাগ এবং তারপর ফেসবুকে এসে তাদের আখাম্বা লম্বা লম্বা পোস্ট দিয়ে তাদের সেই রাগেরই বহিঃপ্রকাশ।

২. অপছন্দেই আনন্দ

এদের প্রায় সকলেরই সিনেমা নিয়ে প্রচন্ড তীব্র পছন্দ-অপছন্দ আছে। বিশেষ করে এদের অপছন্দের নায়ক বা পরিচালকদের গালমন্দ করতে এরা কোনদিনই ক্লান্ত হয় না। কিন্তু তারপরেই... যে মুহূর্তে তাদের অপছন্দের নায়ক/নায়িকা বা পরিচালকদের সিনেমা বাজারে এল সঙ্গে সঙ্গে হলে গিয়ে, দরকার হলে ব্ল্যাকে টিকিট কেটে প্রথম সপ্তাহেই সেটা না দেখলে তাদের চলে না। আর তারপরেই গোটা ফেসবুক জুড়ে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ, আগেই যার কথা বলেছি।

৩. রেখেছ বাঙ্গালী করে...

এরা প্রধানত বিদেশী (আজকাল ইরানি, জাপানী এবং পূর্ব ইউরোপীয় সিনেমা আঁতেলদের মধ্যে চলছে ভাল!) সিনেমা দেখে। ভারতীয় সিনেমা যে এরা দেখে না তা নয় তবে সেগুলো শুধু সেই ভাষারই যেটা তারা জানে না। বাংলা বা হিন্দিতে তৈরী যেকোন সিনেমাই এদের কাছে ট্র্যাশ আর বাজার-চলতি বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমা তো এদের কাছে আলোচনারই যোগ্য নয়। যদিও সেই সিনেমাটি যে তামিল বা তেলেগু সিনেমা থেকে বানানো হয়েছে সেই নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পোস্ট করে যেতে এরা ক্লান্ত হয় না, লোকে প্রাদেশিক বলবে যে!

৪. ভাষায় আমায় ভুলাবি কত...

Novelistic realism, Anti-intellectualism, Orientalist… এখানেই থামি! এইসব শব্দগুলোর অর্থ যদি আপনিও না জানেন তাহলে চুপি চুপি জানিয়ে রাখি যে ওই সব বোদ্ধারা সিনেমা নিয়ে আলোচনা করার সময় এইসব শব্দের গোলাগুলি চালিয়ে লোককে ঘাবড়ে দিতে বিশেষ পছন্দ করেন। শব্দগুলোর মানে আমি জানি না, এদের জিজ্ঞেস করলে যে তিন পাতা লম্বা উত্তর আসে সে বোঝার ক্ষমতা ভগবান আমাকে দিতে ভুলে গেছেন।

৫. পড়াশুনো করে যে...

Source: Google Image (http://www.soundonsight.org/)
এরা যতটা সময় সিনেমা দেখে তার চেয়ে অনেক বেশী সময় ব্যয় করে উইকিপিডিয়া থেকে সেই সিনেমার মানে বুঝতে! সত্যি বলছি!! এমনকি কয়েকজনের ক্ষেত্রে তো আমার মনে হয়ে যে এরা সময়ের অভাবে সিনেমাটা না দেখে শুধু উইকিটা পড়ে নেয় যাতে ফেসবুকে আলোচনায় অংশ নিতে পারে। যেকোন আলোচনা বা তর্কতে পাত্তা না পেলেই এরা নানাবিধ বই-এর নাম বা সিনেমা সমালোচকদের নাম ছুঁড়তে শুরু করে যেগুলো আপনার জানার সম্ভাবনা খুবই কম! আর তার পরেই এদের ভাবখানা হয়, একটা সিনেমা দেখার পর যারা সেই সিনেমা নিয়ে গোটা কুড়ি বই পড়েনি তাদের সঙ্গে আর এরা কি আলোচনাই বা করবে!
এতে সমস্যা তেমন নেই। তবে ওগুলোর সঙ্গে সঙ্গে তারা যদি বেশ কিছু ভালো সাহিত্য পড়ত, বিশেষ করে কোন সিনেমা নিয়ে আলোচনার আগে সেটার মূল বইটা পড়ে নিত তাহলে যে একটু লাভ হত সেটা এদের ঘটে ঢোকানো বেশ শক্ত কাজ, অভিজ্ঞতা থেকে বলছি!

৬. তুই আমার হিরো...

একটু আগে এদের অপছন্দের কথা বলেছি। এবার এদের পছন্দের কথা বলি। এদের সকলেরই এক বা একাধিক পছন্দের পরিচালক আছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে অভিনেতাও থাকতে পারেন। তা এদের কাছে এদের পছন্দের পরিচালক মোটামুটি ব্যাটম্যান, সুপারম্যান বা রজনীকান্তের ছোটখাট সংস্করণ! তাঁদের বানানো এক একটা সিনেমা যেন ছোট্ট একটা অ্যাটম বোম। প্রত্যেকটাই পৃথিবীর ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। আর শুধু সিনেমা নয়, তাদের প্রিয় পরিচালকের বানানো কলেজ প্রজেক্ট, শর্ট ফিল্ম, এমনকি দশ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনও তাদের কাছে বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসের একেকটা হীরকখণ্ড এবং সেগুলোর প্রত্যেকটা দৃশ্যের মূল বক্তব্য তারা যেরকম বুঝেছে মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় বোধ হয় যিনি পরিচালক তিনি নিজেও অত ভালো করে বুঝতে পারেননি!
এই প্রসঙ্গে, সিনেমা বোদ্ধা হতে চাওয়া পাঠকদের একটা ছোট্ট টিপস্‌ দিয়ে রাখি, যদি বাঙ্গালী পরিচালক পছন্দ করতে চান তাহলে সব সময় ঋত্বিকের ভক্ত হন এবং সত্যজিতের নিন্দে করুন। ওইসব গ্রুপে আপনার শত্তুর তো অনেক কমে যাবেই তার সঙ্গে আমি ঋত্বিককে বুঝি আর কেউ বোঝে না, এটা ভেবে যথেষ্ট শ্লাঘা বোধ করারও সুযোগ পাবেন!

আজকে আপাতত এখানেই শেষ করা যাক। সিনেমা দেখি বরং একটা। একটা সহজ সরল সিনেমা যেটা বোঝার জন্য আমাকে গুগল্‌ বা উইকিপিডিয়ার সাহায্য নিতে হবে না!

নিচের ফ্লো-চার্টটা বেশ পছন্দ হল, সেটাও দিলাম... 
Source: http://squathole.files.wordpress.com/2013/01/how-to-be-a-clever-film-critic.gif

Tuesday, July 30, 2013

Bhag Milkha Bhag – A Sports lover’s Take

Let me start with the standard disclaimer which I always prefer to mention while discussing movies. I am not a student of cinema. I am neither a person with great knowledge nor skills to understand each and every aspect of any cinema like some of my friends do. I am just a viewer and I go to a theatre to be entertained. Now obviously there are various forms of entertainment from different movies. Something like ‘Go Goa Gone’ can provide you laughter and corny on- liners for entertainment, where as ‘Shawshank Redemption’ or ‘The Dark Knight’ would provide entertainment through a well designed, thrilling story line.
In the same way ‘Bhag Milkha Bhag’ entertained me with its storyline which is very much dominated with sports, athletics to be precise and the wonderful narration style which kept moving back and forward to show the glimpses of Milkha’s childhood, training phase and success phase pretty much at the same time effortlessly.

Now during my childhood, the two things closest to my heart were books and sports and hence when both of those got combined to give me books about sports I was doubly interested to read them and remember them. Like many Indians during 90s cricket was and still is my most favourite sports but I also read about sports like Football and Tennis and also about past Indian greats like Dhyan Chand, Ramanathan Krishnan and C. K. Nayudu.
I do not remember when I first heard of Milkha Singh. But it was pretty early. My guess is that it was some random quiz book or GK book in school which mentioned him as the ‘Flying Shikh’! Later I got more details about him and about his 4th position in 1960 Olympics from one of those Bengali encyclopaedia types books (“Chhotoder Bishwakosh”) when I was around ten. But even that version lacked much details and written very briefly for children and only mentioned that he was the favourite to win that race and could not. Then I read about him later. Saw news paper articles. Know that his son Jeev is one of the leading golfers in India. I liked Milkha in a sense that in most of the articles about him he comes up as a person with strong point of view and who generally speaks his mind. I was also vaguely aware of his roots and his struggle during the partition of 1947.
So, with this much knowledge about Milkha Singh and based on the general positive reviews about the movie, Shreyasi and me decided to watch the movie in Inox in City centre. We went in the 3rd Sunday after its release and the movie hall was full which told me the people have interest in this movie. But I was not sure whether that was for Milkha Singh, for Farhan Akhtar or for Rakesh Om Prakash Mehra, whose earlier directed movies were ‘Rang De basanti’ and ‘Delhi Six’.
Source: Wikipedia
First thing first, this movie is more than three hours in length and if you are not interested in sports or trivia beyond cricket or football then this is not the movie for you. Now was the movie perfect for his length? The answer is No. The length could be trimmed and it could be made into a slicker, sharper movie. But then again this is not a thriller from Roberto Rodriguez, this is a bio-pic of one of the greats of Indians sports who had a pretty long struggling phase in his life. With that in mind I guess I would give a grace and support the director. But like RDB and Delhi-6, there are portions in this movie which are brilliant and then there are sequences which were pretty forgettable.

I specifically liked the part with young Milkha. The narration including the partition conflict; the location (Puarana Quila) and the acting were top notch. Especially the kid Japtej Singh who acted as young Milkha was wonderfully matured with a most innocent smile on his face! The running in Milkha's life started in that phase and he kept running towards the success through his life.
Among others, I would like to mention Pawan Malhotra, Yograj Singh and Prakash Raj, the three trainers/coaches of Milkha and all three of them have given wonderful performances. It was Surreal to see Yograj acting as a very hard working stern coach who made Milkha practice with Stones tied with his legs, it reminded about the stories of how he did pretty much the same thing with his son Yuvraj to make him one of the finest limited over cricketers in the world.
Farhan as Milkha was very convincing. I guess this would be the best way to describe his performance. He is a good actor with a wonderful physique and looked every bit a sportsman in this movie. He also depicted the rural charm and sense of humour of Milkha along with the struggle and difficulty he had faced quite well throughout the movie and showed lots of heart in the emotional scenes. Also, there is a five minute sequence of Farhan Aka Milkha training topless in the rain which was good enough to bring any girl to her knees according to my girl!!
Sonam Kapoor had nothing much to do and I anyway do not like her much. It looked more like a guest appearance may be driven by her god relationship with the director. Divya Dutta was good as usual in her role of Milkha’s elder sister and given a strong performance.

Overall ‘Bhag Milkha Bhag’ is a good, inspiring movie which has highlighted the life long race of a legendary sportsman of India, the race which started for his survival from a massacre turned to a race for Milk and egg and finally to a race in the country where his family was brutally murdered.  As I have already said it is a movie which all the members of the family can enjoy given that they have some interest on sports.

Sunday, July 7, 2013

মাচো মুভি অথবা মস্তানা মুভি! Yo!!!

সিনেমার সমালোচনা লেখা খুবই বীরত্বের কাজ। এই কাজ যাঁরা করে থাকেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা আমার বেড়ে গেছে এবং তাঁদের শ্রীচরণে আমার শত-সহস্র প্রণাম!
ভাবছেন যে, এতদিন পরে কেন এটা খেয়াল হল! আসলে গতকাল ইউটিউবে একটা সিনেমা দেখলাম। প্রথম ১৫ মিনিট দেখেই মনে হল যে, এই অসাধারণ সিনেমা নিয়ে ব্লগে পোস্ট না করলে পুরো জীবনটাই বৃথা। সুতরাং বসে পুরো ২ ঘন্টা ১১ মিনিটের সিনেমাটি দেখতে হয়েছে এবং তার পরেই আমার এই চরম উপলব্ধি!

সিনেমাটির নাম ‘মাচো মস্তানা’, নায়ক হিরণ, নায়িকা পুজা। না না নাম শুনেই ঘাবড়াবেন না! মানে, ঘাবড়াতে পারেন তবে শেষ অবধি পৌঁছতে হলে আপাতত সামলে-সুমলে থাকুন।

সিনেমাটিতে হিরণ খুবই মাচো, সিক্স-প্যাক ছাড়িয়ে এইট-প্যাক বানিয়ে বসে আছে! সেই এইট-প্যাক আবার দাদা মানে সৌরভ গাঙ্গুলীর নিজস্ব জিমে গিয়ে বানানো। মস্তানিও সে করেই থাকে, তবে সে যে মস্তানি করছে এটা যদি দর্শকরা বুঝতে না পারেন সেই ভয় পরিচালিকা (হুঁ হুঁ বাওয়া!!) মাঝে মধ্যেই ব্যাকগ্রাউন্ডে “মাস্তানা... মাস্তানা...” শব্দ ভেসে আসার ব্যবস্থা করেন। হিরণ হি-ম্যানের মত যখন-তখন যাকে তাকে ক্যালায়! শুধু ক্যালায় না ক্যালাবার মাঝখানে আবার নিজের বিদেশী বাইকের গুপ্ত তাক থেকে ফার্স্ট-এড বক্স বের করে গুণ্ডাদের শুশ্রূষা করে আবার ক্যালায়! গোটা সিনেমায় হিরণ কতজন কে কেলিয়েছে তার হিসেব নেই তবে তাঁর মধ্যে ল্যাকপ্যাকে আলুভাতে খাওয়া চেহারার বাঙ্গালী গুণ্ডা থেকে শুরু করে ড্যানি ট্রেহোর ম্যাসাটের জমজ ভাই গুণ্ডা কেউ বাদ যায় না! নিচের ছবিতে দেখে নিনঃ

মস্তানা মারে ম্যাসাটেকে!!
এছাড়া হিরণ বাড়িতে দাদা দেবদূত এবং দাদু বিভুবাবুর আদর খায়! সঙ্গে আছেন এক প্রচন্ড ভার্সেটাইল বৌদি যিনি কোন দৃশ্যে আদর্শ গৃহকর্মে নিপুণা ঘরোয়া সন্তানসম্ভবা লাজুক বউ-র ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেন আবার একই সঙ্গে একটি দৃশ্যে দেওরের প্রেমের কথা শুনেই লাফিয়ে উঠে সিটি মারেন (এত কষ্ট করে ভার্সেটাইল কি আর শুধু শুধু লিখেছি!)। ছোট বোন, যে নিজে বেশ ছোট এবং তার পোষাকগুলোও বেশ ছোট!
আর আছেন হিরণের বাবা! রজতবাবু প্রথমে কিছুক্ষণ হিরণের দায়িত্ববান বাবা হিসেবে গম্ভীর থাকেন এবং বাকি সময়টা গুন্ডাদের হাতে মার খেয়ে অথর্ব হয়ে থাকার অভিনয় করে যান!

হিরণ আরও যেটা করে সেটা হল পুলিশের হাতে মার খায়, অত্যাচারিত হয় আর পাগলের অভিনয় করে। সে খুবই জটিল ব্যাপার-সাপার! পুলিশ তাকে ঠিক কি করে ধরল সেটা বুঝিনি তারপর চিরকালীন সিনেমার মত তাকে জলে ভিজিয়ে মারধোর করা হয়। এই সিনেমায় আবার হিরণকে নগ্ন করেও রাখা হয় দীর্ঘ সময় (পরিচালিকাকে ধন্যবাদ ‘পুরকি’ খেয়ে হিরণের ফ্রন্টাল বা ব্যাক ন্যুডিটি দেখানোর চেষ্টা করেননি!) আর তার পরেই সেই অসাধারণ দৃশ্য, ব্যাপারটা ভাবুন কেমন, পুলিশ হিরণকে নগ্ন করে রেখে অত্যাচার করছে। হিরণের বাবা আর বৌদি (মানে ততক্ষণে বাকিরা পটল তুলেছে কিনা!) এসেছে দেখা করতে। তারপরেই সেই মনে রাখার মত সংলাপ, “বাবার সামনে তাও ঠিক আছে, কিন্তু বৌদির সামনে তো তুই এই অবস্থায় দাঁড়াতে পারবি না! এই একে কিছু পড়ানোর ব্যবস্থা কর!!”
কিন্তু এতেই কি মাচোর অপমানের শেষ! না!! পুলিশ একটা বস্তা জাতীয় কিছু দিল হিরণকে পড়বার জন্য আর তার আগে তার মধ্যে ছেড়ে দিল কিছু ডেঁয়ো পিঁপড়ে!! পরের দৃশ্য, হিরণের ক্রন্দনরতা বৌদি, হুইলচেয়ারে অথর্ব বাবা আর তাঁদের সামনে বস্তা সজ্জিত হিরণের ‘Ants in pants’ অভিব্যক্তি! উফ্‌... বলুন এর পরেও চোখের জল ধরে রাখতে পারে এমন পাষন্ড কেউ আছে দুনিয়ায়??

আরো অনেক কিছুই আছে এই সিনেমায়। অরুণ ব্যানার্জী, যিনি সমাজসেবীর মুখোসের আড়ালে একজন খলনায়ক যার ওপর ওনার নিজের ভাষায়, “আইএসআই থেকে পুরো ইস্টার্ন জোনের দায়িত্ব দেওয়া আছে!” শান্তিলাল যিনি একজন উগ্রপন্থী নেতা যিনি সাপের মত জিভ বের করেন, মেদিনীপুর বা বাঁকুড়ার উচ্চারণে বাংলা বলেন, হিরণের বোনকে ধর্ষণ করেন এবং শেষে হিরণের কারসাজীতে ইলেকট্রিক শক খেয়ে মারা যান! দোলন রায়, যিনি হঠাৎ করে থানার মধ্যে ঢুকে পুলিশের ইলেকট্রিক শক্‌ দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে ঘোষণা করেন, “আমি মানবাধিকার কমিশন থেকে এসেছি!”

আর একটা ঘটনার কথা না বললে তো চলবেই না। তা হিরণ একটা দুষ্টু লোককে নানাভাবে ক্যাল-ট্যাল দিয়ে অরুণবাবুদের রাখা বোমার কথা জানতে পেরে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছে। তাই এখন আইএসআই কে খুশী করতে তাঁরা আবার বোমা রেখেছেন এক রক্তদান শিবিরে। সেই বোমার কথা আবার অরুনবাবু এবং পুলিশেরই ডিএসপি রাণা রায় (যার গোঁফটা দেখলে মনে হয় যে পরিচালিকা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভদ্রলোককে ঐ গোঁফটি দিয়ে!) একটি আইটেম নাম্বার দেখতে দেখতে খোলা আকাশের নীচে আলোচনা করছিলেন ঠিক সেই সময়ে যখন হিরণ একটি নীল আফগানি স্যুট, নীল পাজামা আর নীল পাগড়ি পরে তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল, অনেকটা নিচের ভিডিওটির মতঃ




যাই হোক, পরের দিন ঠিক ১২টায় বোমা ফাটবে, প্ল্যান মত ডিএসপি সাড়ে এগারোটার সময় আর একজনও পুলিশ না নিয়ে রক্তদান শিবিরে ঘুরতে গেলেন। সেখানে আবার একটা বেডে শুয়ে ছিল হিরণ (কেন ঠিক জানি না!) এবং তার পর মুহূর্তেই ডিএসপি যখন তাঁর নিজের গাড়িতে ফিরে গেলেন ততক্ষণে তার মধ্যে ঢুকে বসে আছে... কে আবার? হিরণ!
তারপর ডিএসপি কে জানানো যে ঐ বোমা তাঁর নিজের গাড়ির ইঞ্জিনেই লাগানো আছে এবং তারপর তাঁকে গাড়িতেই বন্দী রেখে তাঁকে শুদ্ধু গাড়ি উড়িয়ে দেওয়া যে হিরণের বাঁ হাতের কাজ সেটা তো বুঝতেই পারছেন।

সিনেমায় পূজাও আছে, পূজা মানে পূজা বোস, বেশ কিছু হিন্দি সিরিয়াল করার পর এটাই ছিল ওর প্রথম বাংলা সিনেমা, এর পরে পূজা চ্যালেঞ্জ-২ এবং রকির মত কালজয়ী সিনেমাতেও কাজ করেছে।
পূজার প্রথম দৃশ্যে পুজা শার্ট-প্যান্ট-টুপি পরে নকল গোঁফ লাগিয়ে বাড়ি থেকে পালাচ্ছে। তারপরেই হিরণের বিদেশী বাইকের সঙ্গে বিশাল ধাক্কা! যদিও ধাক্কা লাগার পর পূজার নাকের নিচের নকল গোঁফটা একটু আলগা হয়ে যাওয়া আর তার মৃত মায়ের দেওয়া লকেট পরে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই হয় না। আর তারপরেই ঐ লকেট ফেরত দিতে গিয়ে চলন্ত বাস এবং লরিতে হিরণের সামান্য গুন্ডা-ধোলাই এবং তারপর বাস থেকে পরে গিয়ে দুজনে মিলে জঙ্গলে হন্টন এবং রাত কাটানো।
আইআইটিতে পড়ার সময় আমার চেনা একটি ছেলে একবার আমাকে বলেছিল যে, সে দুর্গা পুজোর ছুটিতে বাড়ি থেকে স্নান করে আসে আর তার পরে আবার স্নান করে ডিসেম্বর মাসে বাড়ি গিয়ে! কিন্তু সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের কাছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই জরুরী তাই জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতেও স্নান না করলে তাদের চলে না। সুতরাং সেই চিরকালীন দৃশ্য, হিরণকে চোখ বন্ধ করিয়ে গাছের পেছনে রেখে, সে যেন পূজাকে না দেখে এইসব প্রমিস করিয়ে পূজা একটা সাদা জামা পরে স্নান করে এল। তারপর দেখা গেল পূজা ঐ সাদা জামা এবং জিন্স খুলে একটা কালো স্লিভলেস গেঞ্জি আর হাফ প্যান্ট পরে হিরণের সঙ্গে ঘুরছে। তাই তার স্নান করা দেখলে ঠিক কি মহাভারত অশুদ্ধ হত সেটা এখনো আমার মাথায় ঠিক ঢোকেনি।
এর পরে পূজার বেশি রোল নেই, কয়েকটা গানের সঙ্গে নাচ, মাঝেমধ্যে কান্না এবং শেষ দৃশ্যে পুলিশ নিয়ে এসে নিজের বাবাকে ধরিয়ে দেওয়াতেই পূজার কাজ শেষ!

সবার শেষে বলি সিনেমার গানগুলোর কথা। যা বুঝলাম, সিনেমার পরিচালক এবং সঙ্গীত পরিচালক খুবই খোলা মনের মানুষ! তাই বাংলা সিনেমার গান শুধু বাংলা হতে হবে এতে ওনারা বিশ্বাস করেন না। তাই সিনেমায় হিন্দি-ইংরেজি-বাংলা মেশানো ‘মাচো মস্তানা’ গানটা ছাড়াও গোটা একটা হিন্দি গান আছে, বাংলা সুফি গান আছে, আর হিন্দি এবং আফ্রিকান র‍্যাপ মিশিয়ে আর একটা গান আছে যেখানে নায়ক-নায়িকা নেচে নেচে গাইছে,
“চল না চল না বায়লামো
চল না চল না বায়লামো
চল না চল না বায়লামো
লেটস্‌ রোমান্স!”

যাই হোক, সবার শেষে একটা কথাই বলি, এই লেখাটা হালকা চালে মজার জন্য লেখা, ‘মাচো মস্তানা’ সিনেমার সঙ্গে জড়িত কেউ বা ঐ সিনেমাটির ভক্তদের খারাপ লাগলে আমি আগাম ক্ষমাপ্রার্থী। কাউকে অপমান করার কোন উদ্দেশ্যই আমার নেই।

আর লেখায় একাধিক বার ‘গুণ্ডা’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ আর কিছুই নয়... এই সিনেমার কিছু কিছু জায়গা দেখলে শ্রদ্ধেয় কান্তি শাহ্‌ মহাশয়েও হয়তো সেগুলো তাঁর পরবর্তী সিনেমায় ব্যবহার করতে চাইবেন আর তাই তাঁর অমর সৃষ্টি গুণ্ডার প্রতি ওইটুকুই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য!


Sunday, November 11, 2012

দুই Genius-এর গপ্পো


“কিস্তিমাত!”

কথাটা শুনে দাবার বোর্ড থেকে মুখটা তুলে একবার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখের দিকে তাকালেন আর্থার। চশমার আড়ালে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চোখগুলো তখন খুশীতে জ্বলজ্বল করছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বোর্ডের দিকেই চোখ ফেরালেন তিনি। কোন রাস্তা আছে কি কিস্তি বাঁচানোর?
বোর্ডের ওপর গুটি বেশি নেই। অনেকক্ষণ ধরে খেলা হচ্ছে তাই বেশিরভাগ গুটিই বোর্ডের বাইরে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আর্থারের সাদা রাজার সঙ্গে তিনটে বোড়ে, একটা গজ আর একটা নৌকো আছে। উল্টোদিকে রাজার সঙ্গে গজ, নৌকো তো আছেই আর আছে একটা ঘোড়া আর সেটা দিয়েই জব্বর কিস্তিটা খেয়েছেন তিনি, রাজাকে সরানোর কোন রাস্তাই তাঁর কাছে নেই, সরালেও সেটা পড়ে যাবে গজ বা নৌকোর সামনে। অনেকক্ষণ ভেবেও কোন রাস্তা না পেয়ে বোর্ড ছেড়ে উঠে পড়লেন তিনি। তাঁর প্রতিপক্ষ এতক্ষণ মুচকি মুচকি হাসছিলেন। এবার তাঁকে উঠতে দেখে বললেন, “কি হল হে ডাক্তার? Dark Knight-এর চালটায় রণে ভঙ্গ দিলে আজকের মত? আচ্ছা হিসেবটা লিখে রাখি! কত হল বল তো? ২৩৮৭-২৩৪২?”
এই শেষ কথাটায় কাজ হল! তার আগে অবধি আর্থার কিছু বলেননি, হিসেবটা শুনে তেড়ে উঠে বললেন, “২৩৪২ বললেই হল? কালকেই তো জিতে ২৩৪৫ করলাম! আর তোমারই বা ২৩৮৭ হল কি করে? এক-একবারে ৫ টা করে বাড়িয়ে নিচ্ছ নাকি ব্যানার্জী?”
“আচ্ছা-আচ্ছা, ঐ তোমার ২৩৮৩-২৩৪৫ ই না হয় হল!” দুষ্টু হেসে ছোট্ট নোটবইটা বন্ধ করলেন ব্যানার্জী, তবে তাঁর মুখ দেখে কিন্তু মনে হল যে, ঠিক হিসেবটাই তিনি জানতেন, শুধু আর্থারকে একটু রাগিয়ে দেওয়ার জন্যেই এটা তাঁর একটা প্রচেষ্টা।
সেটাতে কাজও হয়েছে। আর্থার গজগজ করতে করতে বললেন, “নেহাত বয়সে ছোট, তাই তোমাকে জিততে দি, নাহলে...”
“বয়সে ছোট কথাটার মানে কি? আমার বয়সও ৭১, তোমার সমান!”, তাঁকে মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন অন্যজন, মানে যাকে আমরা এখনও ব্যানার্জী বলেই জানি।
হাত তুলে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে আর্থার বললেন, “আঃ! বয়স এক তো কি হয়েছে? আমি তোমার ৪০ বছর আগে পৃথিবীতে গেছিলাম, তোমার অনেক আগে থেকে পৃথিবী দেখেছি আমি!”
“হ্যাঁ, তাতে কি মাথা কিনে নিয়েছ নাকি ডাক্তার? আমি তোমার ঠিক ৪০ বছর পর পৃথিবী থেকে পরলোকে এসেছি। তোমার চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আমার। তুমি তো ১৯৩০-এই কেটে পড়েছিলে পৃথিবী থেকে! আমি ১৯৭০ অবধি ছিলাম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভারতের স্বাধীনতা, Cold war... অনেক কিছুই দেখেছি, বুঝলে!” বলে উঠলেন ব্যানার্জী!
************************************************************************************************
বুঝতেই পারছেন যে আমি পরলোকের কথা বলছি। যেখানে মানুষ বিভিন্ন সময়ে এসে পৌঁছলেও তাঁদের মধ্যে আলাপ জমতে বেশী সময় লাগে না। যেমন ধরুন না এই দুই বৃদ্ধেরই কথা। জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় জন প্রথম জনের নাম ভালভাবেই জানতেন, কিন্তু দ্বিতীয় জনের কথা প্রথম জন পরলোকে আসার আগে শুনেছিলেন বলে মনে হয় না। এখনকার ঘনিষ্ঠতা অবশ্য এনাদের কথা শুনলে আর দাবার রেষারেষি দেখলেই বোঝা যায়। হবে নাই বা কেন? দুজনের মধ্যে মিলের অভাব নেই। দুজনেই লেখালেখি করে থাকতেন। সামান্য বলতে পারলাম না, অন্তত যার লেখা নিয়ে ১২টা রচনাসমগ্র হয় তাঁর লেখার পরিমান সামান্য বলি কি করে।
প্রথম জন জাতিতে স্কটিশ, পেশায় ডাক্তার, লেখালেখিতে পারদর্শী। লেখার মধ্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস, অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, ভূতের গল্প তো আছেই তবে তাঁর সর্বাধিক খ্যাতি একটি গোয়েন্দা চরিত্রের রচনার জন্য। চরিত্রটি আমাদের অতি প্রিয় শার্লক হোমস, সুতরাং ভদ্রলোক যে আর্থার কোনান ডয়াল সেটা বোধ হয় না লিখলেও চলত।
দ্বিতীয় জন বাঙ্গালী সেটা নিশ্চয়ই ওনার নামের শেষাংশ শুনেই বুঝেছেন, ইনি আইন পাস করলেও লেখার ক্ষেত্রেই এনার খ্যাতিটি। “লেখার মধ্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস, অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, ভূতের গল্প তো আছেই তবে তাঁর সর্বাধিক খ্যাতি একটি গোয়েন্দা চরিত্রের রচনার জন্য।” এতক্ষণে বুদ্ধিমান পাঠক/পাঠিকারা নিশ্চয়ই বুঝেই ফেলেছেন তবু বলি এনার নাম শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যোমকেশের স্রষ্টা।
পরলোকে এদের বন্ধুত্ব প্রবাদপ্রতিম, রোজই আড্ডা, দাবা খেলা, নিজেদের আর অন্যদের লেখা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতেই থাকে। শরদিন্দু কিছুদিন বলিউডে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, সেই সিনেমাগুলোও দেখা হয়, আর সেগুলো দেখতে গিয়েই কোনান ডয়ালের হিন্দি সিনেমা দেখার বেশ নেশা হয়ে গেছে। শরদিন্দু অবশ্য আজকালকার হিন্দি সিনেমা দু চোখে দেখতে পারেন না, তাই কোনান ডয়াল কখোন-সখোন তাঁর কাছ থেকে লুকিয়ে-চুরিয়ে বলিউডি সিনেমা দেখে থাকেন!
মাঝেমধ্যে হয়তো এঁদের আড্ডায় আগাথা ক্রিস্টি, আলফ্রেড হিচকক বা সত্যজিৎবাবুও যোগদান করেন তবে তা বেশ অনিয়মিত। সত্যজিতের আসলে বেশিরভাগ সময়টাই কেটে যায় আকিরা কুরসোয়ার সঙ্গে, এখানে এসেও ভালো সিনেমা দেখায় কোন ক্লান্তি নেই তাঁদের! যাকগে সে অন্য গল্প, অন্য আরেকদিন হবে!
************************************************************************************************
দুই বৃদ্ধ হাঁটতে হাঁটতে বারান্দায় এসে বসলেন। এখান থেকে দূরে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা যায়। সামনে টেবিলে কফি রাখা ছিল। শরদিন্দু তার থেকে কফি ঢাললেন দুটি কাপে। একটি এগিয়ে দিলেন কোনান ডয়ালের দিকে। কোনান ডয়াল তখনও বেশ অন্যমনস্ক, হয়তো এখনও দাবার চালের কথাই ভাবছেন। শরদিন্দুর বাড়িয়ে দেওয়া কফির কাপ নিয়ে তাতে আলতো একটা চুমুক দিলেন।
“চিনি ঠিক আছে?” শরদিন্দুর প্রশ্নের উত্তরে আনমনেই মাথা নাড়লেন তিনি। দৃষ্টি তখনও দিগন্তে।
শরদিন্দু পাশের টেবিল থেকে একটা বই তুলে নিয়ে সেটা কোনান ডয়ালের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “এই বইটা দেখেছ?”
এতক্ষনে কোনান ডয়াল তাকালেন শরদিন্দুর দিকে, শরদিন্দুর হাতের বইটার নাম ‘The House of Silk’।
“হুম... এইটা পড়েছি। বছর খানেক আগেই বেড়িয়েছিল।”
“তা ঠিক, আমি অবশ্য এই কদিন আগেই পড়লাম। কেমন বুঝলে ডাক্তার?’’
“মন্দ কি? অ্যান্টনি হরউইজ ছেলেটি ভালই লেখে, বাচ্চাদের জন্য আগেও বেশ কিছু জনপ্রিয় বই লিখেছে। লেখার হাত বেশ মসৃণ।”
“তা তো হতেই হবে। নাহলে তোমার এস্টেট ওকে লেখার দ্বায়িত্বই বা দেবে কেন? ভেবে দেখ তোমার মৃত্যুর ৮০ বছর পর প্রথম কাউকে দেওয়া হল এটা লিখতে!”
“ঠিক বলেছ। এদিক-ওদিকে বেশ কয়েকজন লিখেছে, তার কয়েকটা পড়েওছি, বেশিরভাগই অপাঠ্য!” মাথা নাড়লেন আর্থার, “তুমি তো নিজে লেখক ব্যানার্জী, তুমি নিশ্চয়ই জানো যে, নিজের সৃষ্টি নিয়ে এরকম নয়ছয় করলে কেমন লাগে!”
“সে আর বলতে!” নিজের মনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন শরদিন্দু।
“তবে এই বইটা আলাদা...” শরদিন্দুর হাত থেকে বইটা নিয়ে পাতা ওলটাতে ওলটাতে বললেন কোনান ডয়াল, “আমার লেখার style অনেকটাই ধরে রেখেছে হরউইজ। সেই বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিককার লন্ডন, কুয়াশা, ঘোড়ার গাড়ি... সেই সঙ্গে শার্লক আর ওয়াটসনের সম্পর্ক, শার্লকের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, ছদ্মবেশ... সবই এসেছে গল্পটায় ।”
মাথা নাড়লেন শরদিন্দু, “ঠিক বলেছ, এগুলো আমিও লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে চরিত্রগুলো যেভাবে ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছে সেটা ভালো লাগল, তবে গল্পের প্লটটা একটু যেন বেশি জটিল...”
“একদম!” তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন কোনান ডয়াল, “শার্লকের কিছু গল্পের প্লট কিন্তু বেশ জটিল এবং দীর্ঘ, যেমন ধর ‘The Hound of Baskervilles’। কিন্তু এই গল্পটার প্লট পুরো অন্যরকম, সেই আমেরিকায় ছবি চুরি দিয়ে শুরু, তারপর আইরিশ চোরের দল, আফিমের আড্ডা, শার্লককে ফাঁসিয়ে দেওয়া, সত্যি কথা বলতে কি, আমার তো এটা পড়তে পড়তে অনেক সময় আগাথার লেখার কথা মনে পরে যাচ্ছিল!”
“সেটা অবশ্য আমার তেমন মনে হয়েনি।”
“না ব্যানার্জী, তুমি ভেবে দেখ, এই গল্পে ওদের যে adventure বা ধর ঐ climax টা, সেগুলো কিন্তু আমার গল্পের চেয়ে আগাথার গল্পের সঙ্গেই মিল বেশি। আমি চাইলে হয়তো ওরকম লিখতে পারতাম কিন্তু অত ঘটনাবহুল করিনি খুব বেশি সময়।”
“তা ঠিক!” মেনে নিলেন শরদিন্দু। কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে বললেন, “তবে যাই বল, হোমসকে নিয়ে কিন্তু বেশ অভিনব কিছু কাজ হচ্ছে আজকাল।”
“তা হচ্ছে।” স্বীকার করে নিলেন আর্থার, “তা ধর, BBC  তো ঐ ৬টা এপিসোড দেখাল ‘শার্লক’-এর। শার্লক আর জন একবিংশ শতাব্দীর লন্ডনে, সমস্ত রকম অত্যাধুনিক গবেষণার সুযোগ শার্লকের হাতের মুঠোয়। জনের সঙ্গে প্রথম আলাপে জনের ফোন দেখে ওর সমন্ধে সব তথ্য দিয়ে চমকে দেয় শার্লক, আইরিন অ্যাডলারের smartphone এ থাকে রাজবাড়ির কোন অল্পবয়স্ক সদস্যের গোপন ছবি, বাস্কারভিল হয়ে যায় সেনাবাহিনীর গোপনীয় গবেষণাগার... কিন্তু তবুও দেখতে ভালো লাগে। কারণ গল্পগুলো যারা লেখে শার্লকের গল্পের মূল চরিত্রটাকে ধরে রাখতে পেরেছে, হ্যাঁ শার্লক হোমস প্রচন্ড খামখেয়ালি, এমনকি অনেক জায়গাতেই কর্কশ, অপরাধ ঘটলে খুশী হয় সে, show-off ও কম নেই, কিন্তু তবু কোথাও যেন আমার সৃষ্টি শার্লকের সঙ্গে এই শার্লকের আত্মার যোগ, আর তাই এটা দেখতে এত ভালো লাগে।”
শরদিন্দু বললেন, “আমি কিন্তু দেখতে চাই ঐ নকল আত্মহত্যার ঘটনাটা কিভাবে ব্যাখ্যা করে ওরা। কারণ দেখে কিন্তু খুব সহজ সরল মৃত্যু মনে হয়েছে। সন্দেহের কোন জায়গাই নেই।”
“ঠিক বলেছ, সেটা আমিও দেখতে চাই, ২০১৩-র শুরুর দিকে নাকি পরের এপিসোডগুলোর শুটিং শুরু হবে শুনলাম, তবে আমার একটা জিনিস ভালো লেগেছে। শার্লক যে বেঁচে আছে সেটা কিন্তু ওরা শেষ করার আগে দেখিয়ে দিয়েছে!”
“দেখ, ‘The Final Problem’ গল্পটা হোমসের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পগুলোর মধ্যে একটা, খুব কম লোকই আছে যারা শার্লক পড়েছে কিন্তু এই ঘটনার কথা জানে না, তাই এই জিনিসটা চেপে রাখলেও লাভ হত না।”
আর্থার হাসলেন, “বাব্বা! আমার এখনও মনে আছে, সেই যেবার আমি শার্লককে মেরে ফেললাম, তারপর কত যে চিঠি এসেছিল কি বলব! কি করব বল, শার্লক যে আমার সেরা কীর্তি সেটা আমি বুঝেছিলাম কিন্তু আমার তো অন্য লেখালেখিও ছিল, বল। ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলো নিয়ে কি পরিমাণ পড়াশুনো করতে হয় সেটা আর কেউ না জানুক, তুমি তো জানো ব্যানার্জী। তাই মেরেই ফেললাম শার্লককে। তখন কি আর জানি যে, আরও ২৫ বছর ধরে লিখতে হবে শার্লকের গল্প।”
শরদিন্দু হাসলেন। খুব ভালো করেই জানেন তিনি। তবে ব্যোমকেশকে নিয়ে লিখতে গিয়ে ১৯৬৫ সালের ‘তুঙ্গাভদ্রার তীরে’-এর পর আর ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখা হয়ে ওঠেনি তাঁর। অবশ্য ঐ উপন্যাসের জন্যেই রবীন্দ্র পুরষ্কার পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর অনেক পাঠকের মতে ওটাই ওনার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, তাই শেষটা মন্দ হয়নি বোধহয়।
ব্যোমকেশকে নিয়ে অবশ্য শেষ দিন পর্যন্ত লিখে গেছেন। ‘বিশুপাল বধ’টা শেষ করে আসা হয়নি। একটু মন খারাপ তো থেকেই যায়। গল্পটা মন্দ ভাবেননি তিনি। যাকগে কি আর করা যাবে!
শরদিন্দু যখন এসব ভাবছিলেন ততক্ষনে আর্থার কফিটা শেষ করলেন, তারপর ফাঁকা কফির কাপটা টেবিলে নামিয়ে রেখে বললেন, “তবে ঐ সিনেমা দুটো আমার মোটেই পছন্দ হয়েনি!”
“কোন সিনেমা দুটো?”
“আরে ঐ যে গাই রিচি বলে লোকটা বানিয়েছে, রবার্ট ডাউনি বলে ছেলেটা শার্লক হয়েছে! ওটা শার্লক হোমস না জেমস বন্ড সেটাই আমি মাঝে মধ্যে বুঝতে পারি না!”
“ও... ওইটা? আমি তো ওটার সেকেন্ডটা দেখিওনি এখনও, প্রথমটাই যে কি বিচ্ছিরি লেগেছিল কি বলব! কিছু মনে কর না ডাক্তার, তবে ঐ সিনেমা দুটো একদম পদের নয়!”
কোনান ডয়াল শরদিন্দুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “আরে বাবা, মনে করার আছেটা কি? ও জিনিসটাকে আমি ত্যাজ্য করেছি। ওগুলোকে শার্লকের সিনেমা বলেই আমি মনে করি না। তার চেয়ে বরং তোমার ব্যোমকেশকে নিয়ে বানানো সিনেমাগুলোর কথা বলা ভালো!”
“ব্যোমকেশ নিয়ে সিনেমা! সেগুলো নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো।” শরদিন্দু মাথা নাড়লেন।
“কেন? এখনও অবধি তো তোমার লেখা ব্যোমকেশ নিয়েই কাজ হচ্ছে। শার্লকের মত নতুন কোন গল্প লেখার সাহস কেউ দেখায়নি।”
“সেটা ঠিক, বাংলাতে সেরকম কাজ কখোনই খুব বেশি হয়নি, ফেলুদা বল, ব্যোমকেশ বল... কিন্তু আমার গল্প নিয়েও যা হচ্ছে তাতে অনেক সময় মনে হয় আমার কপালে ওকে নিয়ে বানানো ভালো সিনেমা দেখা নেই!”
“কেন বল তো?”
শরদিন্দু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তা ধর, ব্যোমকেশকে নিয়ে কাজ তো আজ থেকে হচ্ছে না। সেই চিড়িয়াখানা নিয়ে মাণিক সিনেমা বানিয়েছিল আজ থেকে ৪৫ বছর আগে, ১৯৬৭তে। মাণিকের সিনেমা, তাতে উত্তম ব্যোমকেশ, ভেবেছিলাম দারুণ হবে কিন্তু...”
“হ্যাঁ, ওটা দেখেছিলাম বলে মনে হচ্ছে।”
“হ্যাঁ, দেখেছ... তাই জানবে, মাণিক ওটা কি বানিয়েছিল! চিত্রনাট্য একদম জোরদার নয়, ব্যোমকেশের পোষা সাপ, ব্যোমকেশ বিবাহিত... পুরো চরিত্রটাই বদলে দিয়েছিল। তারপর তো আবার চীনে না জাপানী সেজে গিয়ে হাজির হবে গোলাপ কলোনিতে! পুরো ব্যাপারটাই ঘেঁটে গেছিল একদম!”
“তুমি মাণিককে জিজ্ঞেস করনি কখনো এই সিনেমাটার কথা?”
“কথা বলেছি, জান তো ডাক্তার। মাণিকেরও একদমই পছন্দ নয় সিনেমাটা। আগেও বলেছে এটা ওর নিজের বানানো সবচেয়ে অপছন্দের সিনেমা। আসলে এই ‘whodunit’ জাতীয় গল্প নিয়ে সিনেমা বানাতে ও একদম স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। শুনেছি এটা নাকি আসলে ওর কোন সহকারীর বানানোর কথা ছিল, সে ব্যাটা শেষ মুহূর্তে নার্ভাস হয়ে পড়ায় মাণিক ওটা বানায়। ওর পরিকল্পনা ছিল না ওটার।”
“এহেহ!” মাথা নাড়লেন কোনান ডয়াল, “গল্পটা নিয়ে কিন্তু ভালো সিনেমা হতে পারত, এতগুলো অদ্ভুত চরিত্র তোমার বেশী গল্পে নেই!”
“জানি আমি, আর তাই তো মনে হয় যে ব্যোমকেশের কপালটাই খারাপ!”
“হুঁ... তারপর?”
“তারপর আর কি?” শরদিন্দু বললেন, “১৯৭৪ সালে মঞ্জু দে ‘সজারুর কাঁটা’ নিয়ে সিনেমা বানিয়েছিল, ব্যোমকেশ করেছিল সতিন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলে একটা ছেলে, কিন্তু চলেনি ভালো, খুব বেশী লোক দেখেছিল বলেও মনে হয় না!”
“আমিও দেখিনি!” স্বীকার করলেন কোনান ডয়াল!
“এর পর আবার ব্যোমকেশ নিয়ে কাজ হয়ে ১৯৯৩ তে! তবে বাংলায় নয় হিন্দিতে। বাসু চ্যাটার্জী বলে এক পরিচালক ব্যোমকেশকে নিয়ে টিভিতে সিরিয়াল বানিয়েছিল। অনেকগুলো এপিসোড, আর একদম প্রথম থেকে আমার গল্পের order মেনে একটার পর একটা বানিয়েছিল। বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল সেই সময়!”
“ব্যোমকেশের অভিনয় কে করেছিল?” কোনান ডয়ালের প্রশ্ন।
“ব্যোমকেশ হয়েছিল রজিত কাপুর বলে একটি ছেলে, আর অজিত হয়েছিল কে. কে. রায়না! রজিত ছেলেটি মূলত নাটকে অভিনয় করত। খুব ভালো করেছিল, আজ অবধি শ্রেষ্ঠ ব্যোমকেশ ওই। তবে কি জান, ঐ ৯৩-৯৪ সালে আমিও যখন দেখেছিলাম ভালোই লেগেছিল, তবে পরে আবার দেখেছি, বেশ কিছু গন্ডগোল আছে। আসলে কম পয়সায় বানানো তো, সেট সেরকম উন্নত মানের নয়, কাপড়ের দেওয়াল দেখলেই বোঝা যায়। এমনকি আভিনয়ও অনেকেরই বেশ খারাপ!”
“সে যাই হোক, তবু তুমি যখন বলছ যে রজিত ছেলেটি শ্রেষ্ঠ ব্যোমকেশ তখন দেখা উচিত। কোথায় পাব?”
“ডিভিডি আছে বাজারে, তবে চাইলে টরেন্ট থেকেও নামিয়ে নিতেই পারো।”
কোনান ডয়াল মাথা নাড়লেন।
শরদিন্দু বলে যাচ্ছিলেন, “এরপরে আর কিছু ছোটখাটো বাংলা সিরিয়াল, সিনেমা এসব হয়েছে, মাঝে কথা হয়েছিল যে ঐ ঋতুপর্ণ ছেলেটি প্রসেনজিৎ কে ব্যোমকেশ বানিয়ে সিনেমা বানাবে...”
ফিক করে হেসে ফেলেছিলেন কোনান ডয়াল, সামলে নিলেন।
“...শেষ অবধি সিনেমা বানালো অঞ্জন দত্ত!”
“অঞ্জন দত্ত! সে কে?”
“এটার উত্তর যদি জানা থাকতো! ছোকরা এক কালে সিনেমায় অভিনয় করত, মৃণালের বেশ কিছু ছবিতে ছিল। তারপর গান লিখতে আর গাইতে শুরু করল। জীবনমুখী, ঐ সুমন, নচিকেতাদের সঙ্গে। সে ভয়ঙ্কর সব গান... হয় দার্জিলিং নাহলে ব্যর্থ প্রেম... এই দুটোই বিষয়...”
“এই দার্জিলিং আমি জানি! ওখানে ‘ম্যায় হুঁ না’-র শুটিং হয়েছিল!” বলে উঠলেন কোনান ডয়াল!
শরদিন্দু প্রখরভাবে কোনান ডয়ালের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজকাল এইসব সিনেমা দেখছ নাকি হে ডাক্তার! বয়স তো কম হল না!!”
কোনান ডয়াল একটু থতমত খেয়ে গিয়ে বললেন, “আহা রাগ করো না ব্যানার্জী। তুমি দেখ, তোমারও দারুণ লাগবে! খুব মজার সিনেমা! আমি তো পুরোটা দেখিনি তাতেই ৭৩টা ভুল আর ২৭টা টোকা জায়গা খুঁজে পেয়েছিলাম! Amazing!”
শরদিন্দু গজগজ করতে করতে বললেন, “তা বসেছিলে যখন পুরোটা দেখেই উঠতে, তোমার গঙ্গাপ্রাপ্তি সম্পূর্ণ হত!”
“ আরে পুরো দেখারই তো প্ল্যান ছিল, আসলে তোমাদের ঐ হিরো যখন একটা সাইকেল রিকশা নিয়ে একটা বোলেরোকে ধাওয়া করল তখন আমি হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পড়ে গেছিলাম! বিশ্বাস কর! যাকে বলে literally ROTFL!!”
“যাকগে, বাজে কথা ছাড়। তা এই অঞ্জন ছোকরা আজকাল সিনেমাও বানায়, উদ্ভট যত নাম দিয়ে। সে ঠিক করল যে ব্যোমকেশ নিয়ে সিনেমা বানাবে। আদিম রিপু নিয়ে প্রথম সিনেমাটা বানাল, নাম দিল ব্যোমকেশ বক্সী!”
“যাহ্‌! গল্পের নাম দিল না!” অবাক হলেন কোনান ডয়াল!
“শুধু তাই নয়, গল্পের সময়কাল বদলে দিল, চরিত্রগুলোকে বদলে দিল, ব্যোমকেশকে বারে বসিয়ে মদ খাওয়ালো... এমনকি শেষটাও বদলে দিল!”
“শেষটা বদলে দিল মানে? আদিম রিপু গল্পের শেষটাই তো আসল হে! সেই যে তোমাদের স্বাধীনতার দিন ব্যোমকেশ গরম লোহার আংটা দিয়ে একটা একটা করে টাকা পুড়িয়ে ছাই করে দিল! Impact টাই অন্য রকম!”
“তাহলে আর বলছি কি! এক তো ছোকরা গল্পটাকে ১৯৬০ সালে এনে ফেলেছিল, কেন কে জানে! আর শেষে ব্যোমকেশ নাকি টাকাগুলো নিয়ে গঙ্গায় ফেলে দিয়ে এলো। তার চেয়ে পুরো সিনেমাটাই ধরে গঙ্গায় ফেলে এলে পারতো।”
শরদিন্দু উঠে একটা জলের বোতল নিয়ে এলেন, “দ্বিতীয়টা আর এক কাঠি সরেস। চিত্রচোর নিয়ে সিনেমা, গল্পটা মোটামুটি ঠিকই ছিল, কিন্তু চরিত্রগুলোর কোন মাথা মুণ্ডু নেই। ব্যোমকেশ মাঝখানে বন্দুক বের করে চালিয়ে দিল। দুর... দুর, তার মধ্যে আবার এই সিনেমার নাম ‘আবার ব্যোমকেশ’, ছোকরা নাকি একটা তিন নম্বর সিনেমাও বানাবে ‘কহেন কবি কালিদাস’ নিয়ে, সেটার নাম কি দেবে ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছি!!”
“বারবার ব্যোমকেশ!” মুচকি হেসে বললেন কোনান ডয়াল! “এটাতে আবার ব্যোমকেশ কে হল?”
“হয়েছে আবীর বলে একটি ছেলে, অভিনয়টা মন্দ করে না, ওর বয়সী বাকি বাঙ্গালী অভিনেতাদের চেয়ে ভাল, আর অজিত হয়েছে শাশ্বত...”
“এক মিনিট! শাশ্বত মানে ঐ বব বিশ্বাস আর হাতকাটা কার্তিক?”
“হ্যাঁ ঠিকই ধরেছ! ওহ... সে আর এক কান্ড! আচ্ছা বল দেখি ব্যোমকেশের সহকারী কে? আমি?”
“না, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, তোমার alter-ego বলা যায়।”
“একদম! কিন্তু এই ‘আবার ব্যোমকেশ’ দেখতে গিয়ে জানতে পারলাম যে ব্যোমকেশের সহকারী নাকি আমি নিজেই! আয়্যসা রাগ হয়েছে কি বলব!”
“মানে? সে আবার হয় নাকি?”
“আর বল কেন? হঠাৎ দেখি একটা চরিত্র এসে শাশ্বতকে বলছে, আপনার লেখা আমার দারুণ লাগে, ঝিন্দের বন্দী পড়ে খুব ভালো লেগেছিল! আর আবীর মানে সবজান্তা ব্যোমকেশ তাকে বোঝাচ্ছে যে, ঐ যে ঝিন্দের বন্দী ওটা কিন্তু অ্যান্টনি হোপের ‘Prisoner of Zenda’ থেকে টোকা!”
কোনান ডয়াল নিজেই উত্তেজিত হয়ে বললেন, “এটার মানে কি! এর চেয়ে খারাপ তো আর কিছু হতে পারে না! ভয়ঙ্কর!!”
“হ্যাঁ” শরদিন্দু হতাশ ভাবে মাথা নাড়লেন, “এই সবই হচ্ছে, বাঙ্গালীরাও দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত এইসব জিনিস দেখছে। সাধে কি বলেছি যে, ব্যোমকেশের ভাগ্যটাই খারাপ!”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। শরদিন্দু একটু আনমনা হয়ে পড়েছিলেন। কোনান ডয়ালই বা কি বলবেন। তাঁরা লেখক, তাঁরা সাহিত্য সৃষ্টি করেন, এরপর তা যখন সিনেমা বা টিভি তে রূপান্তরিত হয় তখন তাঁদের আর কিছু করার থাকে না। শুধু আশা থাকে যে, হয়তো তাঁদের লেখা যোগ্য মর্যাদা পাবে, হয়তো পরিচালক তাঁদের লেখার মূল সুরটিকে ধরে রাখতে পারবেন। এটুকুই হয়তো তাঁদের প্রাপ্য।



·         লেখার অধিকাংশ মতামত আমার নিজের, অনেকে এর সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, তবে সেই নিয়ে আলোচনা সব সময়ই স্বাগত।
·        কোনান ডয়াল আর শরদিন্দু নিজেদের মধ্যে কোন ভাষায় কথা বলতেন সেটা নিশ্চয়ই কেউ জানতে চাইবেন না, চাইলে বলি পরলোকে সবাই সব ভাষাতেই পারদর্শী, অসুবিধা হয় না!
"It’s always very easy to give up. All you have to say is ‘I quit’ and that’s all there is to it. The hard part is to carry on”