Showing posts with label উপকারিতা সিরিজ. Show all posts
Showing posts with label উপকারিতা সিরিজ. Show all posts

Thursday, August 27, 2015

বাংলা মেগা সিরিয়াল - আরো কিছু কথা

বাংলা মেগা সিরিয়ালের উপকারিতা নিয়ে কমাস আগে একটা পোস্ট করেছিলাম। এটা তারই দ্বিতীয় পর্ব। আর এর অনেকটাই উঠে এসেছে ফেসবুকের 'বাংলা আড্ডা/কুইজ' গ্রুপের আড্ডা থেকে। তাই এই লেখার জন্য ঐ গ্রুপের বন্ধুদের একটা মস্ত বড় ধন্যবাদ প্রাপ্য
আগের লেখায় এই সময়কার বাংলা মেগা সিরিয়ালগুলোর যে সব বৈশিষ্ট উল্লেখ করেছিলাম সেগুলোর মত এই লেখাও পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ একমত না হলে দয়া করে রেগে যাবেন না। বরং কমেন্টে লিখবেন, খুশী হব।

(সূত্রঃ ঈন্টারনেট)
লক্ষ্য করেছি যে, বাংলা সিনেমার প্রাক্তন নায়ক নায়িকাদের জন্য এই সিরিয়ালগুলোর চেয়ে উপকারী আর কিছু হয় না। তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই এই বাংলা সিরিয়ালগুলোই তাঁদের ব্যস্ত থাকার একমাত্র উপায়। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের সেইসব দিকপাল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এই সব সিরিয়ালে অপ্রয়োজনীয় দাদু-দিদা বা বাড়ির গৃহকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। যদিও এঁদের চরিত্রগুলোর আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কিনা সেটাই দর্শকের পক্ষে বুঝে ওঠা চাপ। যা করার তা তো নায়িকা আর খলনায়িকারাই করেন তবু বোঝানো হয় যে সংসারে এঁদের নাকি প্রচণ্ড দাপট। নানা রকম বোকা বোকা সিদ্ধান্ত এরা মাঝে মধ্যে নিয়ে থাকেন সেটা সত্যি কথা। যেমন নায়িকার তৃতীয় বিয়ের সময় তার প্রথম বরের বাবা ঘোষণা করেন যে, সেই বিয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে হবে! কেন হবে? ওনার কীসের ইন্টারেস্ট? বাকিরা আপত্তি তুলছে না কেন? এইসব প্রশ্নের উত্তর চাইলে সিরিয়ালের পরিচালক বা আপনার বাড়ির যারা নিয়মিত ঐ সিরিয়ালের দর্শক তাঁরা নির্ঘাত আপনাকে কান ধরে ঘরের বাইরে নিল ডাউন করিয়ে দেবেন।
এ ব্যাপারে সন্তু বাবু আর সাবিত্রী দেবীর অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বেশী। তার মধ্যে হঠাৎ একটি সিরিয়ালের লেখক/লেখিকারা বোধ হয় নায়ক-নায়িকাদের এতগুলো করে বিয়ে দিয়েও নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করে উঠতে পারছিলেন না। তাই গল্পের স্রোতে ভাসতে ভাসতে সাবিত্রী দেবীর চরিত্রটির চল্লিশ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বর আবার গল্পে ফিরে এলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের আবার মালা বদল করে বিয়েও হল!
সবচেয়ে দুঃখের কথা, সাবিত্রী দেবীর স্বামীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে প্রথমবার বাংলা মেগা সিরিয়ালের জগতে পা দিলেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী! সিরিয়ালের টি আর পি যে বাড়ল তাতে সন্দেহ নেই কিন্তু আমার মত সৌমিত্র ভক্তরা আঁতকে উঠে চোখে-কানে গঙ্গাজল দিলাম! ভদ্রলোক যখন সিমেন্ট, ব্যাথার ওষুধ এমনকি হনুমান চল্লিশা মহা যন্ত্রেরও বিজ্ঞাপন করেছিলেন তখন বাঙ্গালী সেই পঞ্চাশ-ষাট দশকের রোমান্টিকতা থেকে সেটাকে খুব একটা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু তাই বলে মেগা সিরিয়াল! ঠিক হজম হল না সৌমিত্রবাবু, ক্ষমা করবেন।

বাংলা সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকাদের ছদ্মবেশ নেওয়ার ক্ষমতা হলিউডের বাঘা বাঘা মেক-আপ আর্টিস্টকেও হার মানাবে! তারা যত ছাপোষাই হোক না কেন বিপদে পড়লেই ছদ্মবেশের আশ্রয় নেয়। আর শুধু তাই নয়, ছদ্মবেশ যেমনই হোক, হালকা কিম্বা ভারী, সিরিয়ালের আর অন্য কোন চরিত্ররা কোনদিনই তাদের চিনে উঠতে পারে না! একটা গোঁফ লাগালেই (নায়িকাদের কথা বলছি না) বা কপালে একটা টিপ আর দু-চারটে চন্দনের ফোঁটা লাগালেই (নায়িকাদের কথাই বলছি) তাদের আর কেউ চিনতে পারে না!

এই প্রসঙ্গে একটা পুরনো গল্প মনে পড়ে গেল। আদিত্য চোপড়া মহাশয়ের ক্লাসিক সিনেমা ‘রব্‌ নে বানা দি জোড়ি’ সময়ের ঘটনা। কোন এক শুক্রবার আমার অফিসের তদানিন্তন টিম ডিরেক্টর বাকিদের সঙ্গে খেজুরে করছিলেন। আমায় জিজ্ঞেস করলেন,“লাস্ট উইকেন্ডে কী করলে?”
তাঁকে জানালুম যে, উপরে উল্লেখিত সিনেমাটা দেখেছি। উনি উৎসাহিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন হয়েছে? রোমান্টিক সিনেমা?”
“না তো... আমার মনে হল হরর্‌ সিনেমা।”
“হরর্‌ সিনেমা! কেন?”
“আপনিই বলুন, আমি আমার চশমাটা খুলে ফেললে আর চুলটা খোঁচাখোঁচা করে আঁচড়ালেই আমার গার্ল ফ্রেন্ড আর আমাকে চিনতে পারবে না! এটা হরর্‌ সিনেমা নয়?”
ভদ্রলোক আমাকে আর ঘাঁটাননি তারপর।

ও, বাংলা সিরিয়ালের কূট-কাচালি নিয়ে তো আগেই বলেছি, আজকাল আবার দেখছি বিষের ব্যবহার খুব বেড়ে গেছে। যে পারছে যখন তখন অন্যের পায়েসে (হ্যাঁ পায়েসেই শুধু... কেন জানি না!) বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে। আর কে না জানে প্রখর রুদ্র, জেমস বন্ড ও বাংলা সিরিয়ালের নায়িকাদের কেউ কখনো মেরে ফেলতে পারে না। তাই হয়ে বিষ মেশানো বাটি বদলে যাচ্ছে নয় গল্পের খলনায়কের হৃদয় পরিবর্তনের ফলে সে ঐ বিষ মেশানো পায়েস খলনায়িকাকেই খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে একটি সাম্প্রতিক সিরিয়াল একঘেয়েমির দিক দিয়ে সবাইকে হার মানিয়েছে। নিজের ইচ্ছে না হলেও ওটি আমাকে দেখতে হয় এবং দেখতে দেখতে আমার ইচ্ছে করে গল্পের লেখক বা লেখিকাকে ধরে ঠ্যাঙ্গাতে (যেমন অজিত বিওমকেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেরকমভাবে)।
(সূত্রঃ ইন্টারনেট)
এই গল্পের দুই নায়িকা-এক নায়ক। দুই নায়িকা আবার বোন... সহোদরা না সৎ জানি না, জিজ্ঞেস করে লজ্জা দেবেন না। যা বুঝেছি, নায়কের বাড়ির লোকের ইচ্ছে বড় বোনের সঙ্গে নায়কের বিয়ে ঠিক করেছে, কিন্তু নায়ক আর ছোট বোন প্রেম করছে (ইচ্ছে করেই...)। বড় বোন সেই ব্যাপারে বেশ ক্রুদ্ধ। তাই সেও নায়কের সঙ্গে প্রেম করার চেষ্টা করছে। নায়িকাদের বাড়ির লোক বোধহয় এই কনফ্লিক্টের কথা জানে কিন্তু তাঁদের সেটা নায়কের বাড়ির লোককে সেটা জানানোর ইচ্ছে হয়নি (এরকম তো কতই হয়!)। ফলে নায়কের বাড়ির লোক বড় বোনকেই ভাবী বউমা ভেবে ন্যাকামি করে যাচ্ছে। এদিকে নায়ক-নায়িকা এবং বড় বোন ব্যাপারটা কাউকে বলছেও না, কেন বলছে না সেটা ভগবানবাবুও জানেন বলে মনে হয় না, সুতরাং তিনজনেই ইচ্ছে করে সারাক্ষণ মুখ ব্যাজার করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এবার বলুন, বড়মন্ত্রীর রাজকন্যার গুলিসুতো খেয়ে ফেলাটা কি এর চেয়েও জটিল?

Thursday, April 23, 2015

পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের উপকারিতা

এক কালে পাকিস্তান ক্রিকেট টিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে ছিল। ছোটবেলায় রীতিমত ভয় পেতাম পাকিস্তান আর ওয়াসিম আক্রমকে। কিন্তু আজ তাদের সেই গৌরব আর নেই। আজকাল পাকিস্তান বড্ড উপকারী দল। সেই নিয়েই কয়েকটি কথা!

১. আপনি কি আপনার প্রিয় ভারতীয় বা অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়কে তাঁর অবসরের পর মিস্‌ করেন? কিন্তু আপনি কখনোই আপনার প্রিয় পাকিস্তানি খেলোয়াড়টিকে মিস্‌ করবেন না। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার পরেও না। কে বলতে পারে যে আগামী কালই তিনি তাঁর অবসর ভেঙ্গে ফিরে আসবেন না? তাঁর নাম আফ্রিদি হলে হয়তো আজকেও ফিরে আসতে পারেন!

২. দল হারলে কখনোই একা অধিনায়কের ওপর দায়িত্ব চাপাতে পারবেন না। দলে সব সময় চার-পাঁচ জন প্রাক্তন অধিনায়ক উপস্থিত থাকেন। তাই কেউ “ক্যাপ্টেনের জন্য দল হেরেছে” বললেই প্রশ্ন করুন, “কোন ক্যাপ্টেন?”

৩. ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে কুস্তি বা কিক্‌ বক্সিং খেলারও খোঁজ রাখুন। মাঝে মধ্যেই খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ঐসব খেলায় তাঁদের প্রতিভার পরিচয় দেবেন।

৪. আপনার ক্রিকেট টিম খেলায় জিততে পারে না? যেকোন ম্যাচ হেরে গেলেই বঞ্চনার নামে আইসিসি, সি কে নাইডু, বারাক ওবামা বা উইন্সটন চার্চিলকে দোষ দিয়ে ধিক্কার মিছিল করে চোখের জল ফেলেন? পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে ডেকে তাঁদের হারিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। আপনার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং গড় আর বোলারদের বোলিং গড় অদলবদল হয়ে যাবে!

৫. পাকিস্তানের খেলা দেখুন আর শাহিদ আফ্রিদির দেখানো পথে বিকেলের হালকা ক্ষিদের মুখে ক্রিকেট বল বা অন্যান্য সরঞ্জাম কামড়ে খাবার আইডিয়া পান!

৬. অনিদ্রা রোগে ভুগছেন? যেকোন পাকিস্তানি অধিনায়কের প্রেস কনফারেন্সের ভিডিও ইউটিউব থেকে চালিয়ে দিন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুম আপনার চোখের ডগায় এসে কিত্‌ কিত্‌ খেলবে।

৭. শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতির উত্তরণ দেখতে চান? পাকিস্তানের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের ধারাবিবরণী শুনুন। যে ভদ্রলোক নিজে ১০০ বলে ৩০ রানের বেশী করতেন না তিনি আজকালকার ব্যাটসম্যানদের ১০ ওভারে ৮০ রান করতে না পারলে ধিক্কার দেন। যিনি রান আউট নিয়ে সবচেয়ে বেশী হাহাকার করেন তাঁর নিজের রান আউটের রেকর্ড আছে! লোকজন অকারণে মারতে গিয়ে আউট হলে শাহিদ আফ্রিদি সবচেয়ে বেশী হতাশ হন!

৮. আপনার চেনা পরিচিত কেউ কি নিজের কাজ বা পড়াশুনো নিয়ে হতোদ্যম? তাঁকে পাকিস্তান দলের ফিল্ডিং করার ভিডিও দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ান। ওই ফিল্ডিং করার পরেও যখন ওনারা ক্রিকেট খেলতে পারছেন তাহলে অংকে সাড়ে ১৩ পেয়েছেন বলে তিনিই বা অংক নিয়ে পি এইচ ডি করবেন না কেন?


(সূত্রঃ ইউটিউব)

Monday, April 20, 2015

বাংলা মেগা সিরিয়ালের উপকারিতা

বছর দুয়েক আগে এই ব্লগেই লিখেছিলাম আনন্দবাজারপত্রিকার উপকারিতার কথা। সেই পথেই এগিয়ে গিয়ে এবার বাংলা মেগা সিরিয়ালগুলো আমাদের জীবনে কত কাজে লাগে সেই নিয়েই দু-চার কথা।

১. বাংলা সিরিয়ালের দৌলতেই যে আজকালকার ছেলেপুলেরা একটু-আধটু আত্মীয়স্বজনের নাম জানতে শিখেছে সেটা মানতেই হবে। বিশেষ করে আজকের এই নিউক্লিয়াস ফ্যামিলির যুগে ফুলপিসি বা ন-কাকিমার মত চরিত্রগুলো বাংলা সিরিয়াল না থাকলে খুঁজেই পাওয়া যেত না। মনে রাখবেন বাংলা সিরিয়ালের পরিবার মানেই সেটা আবশ্যিকভাবেই একটা একান্নবর্তী পরিবার যেখানে পিসি, মাসি বা জামাইয়ের মাসতুতো ভাইয়ের শালার মত যেকোন আত্মীয়ই যখন তখন এসে হাজির হোন!
যদিও নিজের মায়ের প্রথম বরের দ্বিতীয় বউ, যে আবার মায়েরই বৈমাত্রেয় বোন, তাকে মাসী বা কাকিমা কী বলে ডাকা উচিত? এই প্রশ্নটা বাঘা বাঘা লোককে ঘাবড়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

২. বিদ্যাসাগর আমাদের সুবোধ বালক গোপালের কথা বলে গেছিলেন। আর তার চেয়েও সুবোধ বালিকাদের দেখা পাওয়া যায় আজকের বাংলা সিরিয়ালগুলোতে। এখানে অবিশ্যি সব চরিত্রই হয় কালো নয় সাদা। নাহলে দর্শকদের বুঝতে অসুবিধা হতে পারে কিনা। তাই ধূসর কোন চরিত্রের জায়গাই নেই এখানে। এদের মধ্যে আবার সবচেয়ে সুবোধমতি হলেন সিরিয়ালের নায়িকারা।
বিছানা গোছানো থেকে বাসন মাজা অবধি বাড়ির সব কাজই এঁদের ঘাড়ে সমর্পিত থাকে। এমনকি দরকারে বাড়ির ছোট মেয়ের বদমাইশ প্রাক্তন প্রেমিককে গুলি করে মারার কাজটাও এঁদের কাছে চা বানানোর মতই সহজ!
এনারা খারাপ কাজ করেন না, খারাপ কাজ দেখেন না, খারাপ কিছু বলেন না, খারাপ কথা শোনেন না, এমনকি ভুল করে কাউকে নিয়ে খারাপ কথা ভেবে ফেললে বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাড়ির পাশের মন্দিরের গুরুদেব বা গোমাতার চরণামৃত খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে যান। গল্পের খলনায়িকা যদি নায়িকাকে বিষ খাইয়ে মারতে গিয়ে, বা বারে গান গাওয়াতে (অবশ্যই রবীন্দ্রসঙ্গীত) গিয়ে ধরা পড়ে জেলে যান তাহলে পুলিশকে যুক্তির জালে হার মানিয়ে তাঁকে জেল থেকে বের করে আনাও গল্পের নায়িকার দায়িত্বের মধ্যেই পরে!

৩. প্রায় সব বাংলা সিরিয়ালেই একটি বা দুটি বিশেষ চরিত্র থাকেন। কেউ হয়তো হুইল চেয়ার নিয়ে ঘোরেন, কেউ সারাক্ষণ আধো আধো করে কথা বলেন, কেউ আবার কিছুই করেন না শুধু এক জায়গায় চেয়ারে বসে দোলেন (টেমপ্লেটঃ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় – শাখাপ্রশাখা)। কিন্তু এঁরা প্রত্যেকেই মুখ খুললে প্লেটো কিম্বা সক্রেটিস, ছবি আঁকলে পিকাসো কিম্বা ফিদা হুসেন আর গান গাইলেই শ্রাবনী সেন! আমার তো সন্দেহ হয় শ্রাবনী সেনের গাওয়া দু-তিনটি গান বোধহয় এই সিরিয়ালের প্রযোজকদের কাছে রাখা আছে। সেগুলোকেই বিভিন্ন সিরিয়ালে বিভিন্ন সময়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়।

৪. গত বিশ্বকাপের সময় একটা জোকস্‌ ফেসবুকের দেওয়ালে দেওয়ালে ঘুরছিল। ভারতীয় দলের খেলোয়াড় স্টুয়ার্ট বিনি দলে জায়গা না পেয়ে দিনের পর দিন বোর হয়ে একদিন তাঁর স্ত্রী ময়ান্তী ল্যাঙ্গারকে বললেন, “চল না কোথাও ঘুরে আসি।” ময়ান্তী, স্টার স্পোর্টসের উপস্থাপক, গম্ভীরভাবে (গৌতম গম্ভীর নয়) বললেন, “তোমার কাজ না থাকলেও আমার আছে!”
কিন্তু স্টুয়ার্ট বিনির চেয়েও করুণ অবস্থা বাংলা সিরিয়ালগুলোর পুরুষ অভিনেতাদের। এঁরা থাকেন, মাঝেমধ্যে বাক্যালাপেরও সুযোগ পান কিন্তু সেগুলো কেউ তেমন পাত্তা দেয় না। নায়িকার স্বামীই হোন বা খলনায়িকার স্বামী, এই ব্যাপারে সব পুরুষই সমান সমান।
এঁরা রোজ একসঙ্গে খাবার খান, সেখানে নানারকম কূটকাচালী (কে কাকে কখন কার দিকে কী ভাবে তাকিয়ে কী খাবার দিয়ে কী বলল!) দেখার পর কোন এক রহস্যজনক অফিসে চলে যান। মাঝেমধ্যে পরিচালকের ইচ্ছে না হলে অফিসে না গিয়ে বাড়িতে ঘুরে বেরান (ছুটি কী করে ম্যানেজ হয় সেটা জিজ্ঞেস করা মানা!), বাড়িতে কোন অনুষ্ঠান চললে খুব ব্যস্ত হয়ে কোন কাজ না করে এদিক ওদিক যাওয়া আসা করেন, সেরকম বিশেষ ঘটনা ঘটলে ক্যামেরা তিনবার করে তাঁদের দেখায়। কিন্তু সব মিলিয়ে এরা সারাক্ষণই ভ্যাবা গঙ্গারামের মত আচরণ করেন যেটাকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির মেয়েরা এবং টিভির মহিলা দর্শকরা গুরুত্ব না দিয়ে কাটিয়ে দেন।

৫. বাংলা সিরিয়ালগুলো তাদের দর্শকদের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। দর্শকদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে তাদের বিশেষ নজর থাকে। এই ব্যাপারে অর্ণব (গ্রেট বং) আগেই লিখে গেছে তবু একবার লিখি। ধরুন আপনি একটি বাংলা সিরিয়াল খুব মন দিয়ে দেখেন। কিন্তু বাচ্চাদের গরমের ছুটিতে দশদিনের জন্য সিকিম বা উত্তরাঞ্চল গেলেন যেখানে সিরিয়াল দেখার সুযোগ পেলেন না। তাহলে ফিরে এসে গল্প যদি পাঁই পাঁই করে এগিয়ে যায় তাহলে তো আপনি অথৈ জলে পড়বেন।
সেই কারণেই এখানে গল্প শামুকের চেয়েও ধীরগতিতে এগিয়ে চলে। এমনকি আপনার ভাগ্য ভালো থাকতে এসে দেখতে পারেন গল্প এক লাইনও এগোয়নি। কারণ গত দশ দিনে ধরে হয় বড়ির আদরের মেয়ে তাঁর গানের অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির সবাইকে নিয়ে রেওয়াজ করে গেছেন (সব নারী কন্ঠই শ্রাবনী সেন, পুরুষ কন্ঠ... ৪ নম্বর পয়েন্ট দেখুন!) অথবা বাড়ির বড় ছেলের ছোট মেয়ের ননদের বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ের তত্ব সাজানোর জন্য দশটি এপিসোড খরচ হয়ে গেছে!

৬. বাংলা সিরিয়ালের আর একটা উপকারিতা দিয়ে শেষ করি। ‘গরুর রচনা’ প্রবাদটা মাঝে মধ্যেই ব্যবহৃত হয়। সেই যে ছোট্ট ছেলেটি শুধু গরুর রচনা মুখস্ত করেছিল বলে পরীক্ষার যেকোন রচনাতেই শেষ অবধি গরুর বিবরণ লিখে ফেলত। 
এখানেও সেই একই অবস্থা। সিরিয়ালের শুরুটা থ্রিলারধর্মী হোক বা ছোট্ট বাচ্চাদের নিয়ে শেষ অবধি সবই গিয়ে দাঁড়ায় শাশুড়ী-বউমা-জা-ননদের ল্যাং মারামারির গল্পে। এমনকি সেই ল্যাং মারার পদ্ধতিগুলো পর্যন্ত মোটামুটি একই... রান্নায় নুন মিশিয়ে দেওয়া, প্রাক্তন প্রেমিক-প্রেমিকাকে ডেকে এনে ঝামেলা করানো বা গয়না চুরির বদনাম দেওয়া... মানে যতটা কিম্ভুত কিছু হতে পারে আর কি! এর সুবিধাও কম নয়... ১ নম্বর এপিসোড থেকে না দেখলেও চলে, ১০০ এপিসোড বা ৫০০ এপিসোড, যখন ইচ্ছে দেখা শুরু করুন, গল্প বুঝতে পাঁচ মিনিটও সময় লাগবে না!

Friday, May 24, 2013

আনন্দবাজার পত্রিকার উপকারিতা


বঙ্গ জীবনের অঙ্গ শুধু বোরলিনই নয় আনন্দবাজার পত্রিকাও। গত ৯০ বছর ধরে যে দৈনন্দিন পত্রিকা বাঙ্গালীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এই লেখায় তারই সামান্য গুণ-কীর্তন।

প্রতিবেশীর ছেলে বিল্টু ইস্কুলের পরীক্ষায় GK- তে আপনার খোকনকে টপকে যাচ্ছে।

পাড়ার হকারকে বলে রোজ বিল্টুদের বাড়িতে আনন্দবাজার ফেলবার ব্যবস্থা করলেন।

পরের পরীক্ষায় বিল্টু ‘নীল তিমির ডিম ফুটে বাচ্চা হয়’ নিয়ে লিখে GK- তে ১০০-র মধ্যে সাড়ে তিন পেল।

পাড়ার ক্লাবের ছেলেগুলো সবসময় ইউরোপিয়ান ফুটবল নিয়ে আলোচনা করে আর আপনার ফুটবলের ফান্ডা নিয়ে হ্যাটা দেয়। পাড়ার ফুটবল ক্যুইজ জেতা নিয়েও ওদের হেভি ঘ্যাম।

পাড়ার ক্লাবে রোজ শুধু আনন্দবাজার রাখার ব্যবস্থা করলেন।

পরের মাসে পাশের পাড়ার ক্যুইজ থেকে ছেলেগুলো মুখ চুন করে ফিরে এল। জানা গেল, মেসী চেলসির গোলকিপার আর অ্যালেক্স ফার্গুসন ইতালির দল ডর্তমুন্ডের কোচ বলায় প্রথম রাউন্ডেই নাম কাটা গেছে।

অফিসে লোকজন ক্রিকেট আর আইপিএল নিয়ে কথা বলে বলে আপনার মাথা ধরিয়ে দিচ্ছে।

হঠাৎ আনন্দবাজার খুলে ম্যাচ-রিপোর্ট জোরে জোরে পড়তে লাগলেন।

কয়েক মিনিটের মধ্যে ঐ ম্যাচ-রিপোর্ট থেকে আলোচনা ভীমনাগের সন্দেশ, ক্যাটরিনা কাইফ আর রাহুল গান্ধীতে পৌঁছে গেল।।

আপনি আইপিএল টিমের ক্যাপ্টেন। টিম ধ্যারাচ্ছে, ম্যাচের শেষে নিজের কলামে ম্যাচ নিয়ে লিখতে সাহস পাচ্ছেন না, কিন্তু কলাম না লিখলে প্রেস্টিজ থাকে না।

আনন্দবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন।

আনন্দবাজারের কলামে ম্যাচের বদলে নিজের প্রিয় হিন্দি সিনেমা, বউ-এর প্রিয় ক্রিকেটার আর পুনে এয়ারপোর্টের টয়লেট নিয়ে লিখলেন। শেষে আগের ম্যাচ, পরের ম্যাচ নিয়ে এক লাইন লিখলেন, ‘শেষ ম্যাচ হারার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, তবে আমরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন, এখনো আমাদের আশা আছে!’

আপনি প্রাক্তন সিনেমা পরিচালক। আজকাল তেমন কাজ নেই বলে bore হচ্ছেন।

আনন্দবাজারে খবর দিলেন।

আনন্দবাজার পরপর দু সপ্তাহ আপনাকে নিয়ে খবর করল। প্রথম সংখ্যায় আপনি প্রচুর মৃত অভিনেতা, পরিচালকদের নিন্দে করলেন। পরের সংখ্যায় তাঁদের ছেলেপুলে, আত্মীয়-স্বজন, ভক্তরা আপনাকে ‘বুড়ো ভাম’ বলে গাল পাড়ল। আপনার চমৎকার সময় কেটে গেল।

আপনি একজন বর্তমান সিনেমা পরিচালক। কিন্তু সিনেমা আর তেমন চলে না।

আনন্দবাজারে ফোন করে চলচিত্র সমালোচনা লিখতে আগ্রহ দেখালেন।

কদিন পরে জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমার সমালোচনা লিখতে গিয়ে ৭০% লেখায় নিজের আগামী সিনেমার বিজ্ঞাপন করলেন। শেষে লিখলেন, “এই সিনেমার মত সিনেমা বানানো সম্ভব নয়, তবু আমার সিনেমা রিলিজ হলে এই সিনেমার কতটা কাছাকাছি বানাতে পেরেছি দয়া করে দেখতে আসবেন।”

আপনি একজন প্রাক্তন ফুটবলার। মাঝে কিছুদিন কোচিং করিয়েছিলেন, কিন্তু গ্যালারির ইঁট আর সমর্থকদের থুতুর ভয় কাটিয়ে দিয়েছেন।

আনন্দবাজারকে ধরে উয়েফা কাপ বা ইপিএল নিয়ে বিশেষজ্ঞের কলাম লেখার সুযোগ পেলেন।

এখন নিয়মিত ব্রাজিল, জার্মানী, বার্সেলোনা বা ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের খেলার খুঁত ধরে সময় কাটান। মাঝে মধ্যেই লেখেন, “আজকের দিনে খেললে আমি রোনাল্ডো বা বেকহ্যামের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হতাম!”

বাড়িতে ৩ দিনের জন্য বড় মেসো এসেছেন। আপনাকে দেখলেই ধরে চাকরির বাজার কত খারাপ সেই নিয়ে জ্ঞান দেবেন।

নিজের ঘরে ঢুকে আনন্দ প্লাস বা পত্রিকা খুলে পড়ার ভান করে বসে রইলেন।

মেসো আর ঘরে ঢোকার সাহস পেলেন না। আপনার হাতের কাগজে সানি লিওনি, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর স্বাস্তিকা মুখার্জীর অন্তর্বাস পরা ছবি, সঙ্গে হেডলাইন, “চোলি কে পিছে ক্যা হ্যায়?”

"It’s always very easy to give up. All you have to say is ‘I quit’ and that’s all there is to it. The hard part is to carry on”