Showing posts with label Random. Show all posts
Showing posts with label Random. Show all posts

Saturday, June 26, 2021

Baba

 Baba enjoyed telling me this one story. This was from Dec 1983. The day after my birth. Baba visited the hospital and went to the section where all the newborn babies were kept. Apparently, there were quite a few but for Baba, it was easy to find me as I was the tallest baby in that group. This was one of Baba’s earliest memories of me.

My earliest memory of Baba which I can recollect was from sometime in the year 1986. I was later told that it was my first long-distance train journey. My parents were taking me to Banaras for some religious ceremony which included among other things to let go of all my hairs. I was two and half years old. I still remember that fun I had on the night train and how I kept asking questions for all of which Baba had an answer. Maybe, it was the excitement of a two and half years old to be on a moving train and see all these new things. And I can still faintly remember my father’s smile from that night. My earliest memory with Baba which I can remember.
Another of my earliest memories was from that trip when my father took me to the ghats of Banaras in the night and show me the lights coming from those boats far from the shore. I visited Banaras second time in 2017 and I could picture and almost identify the place where my father used to take me.
From then on there were countless memories. And memories are flooding back to me. Late 80’s and Baba taking me in his lap to my Pre-primary school. Baba taking me to so many different Puja pandals during Durga Puja. Baba telling me stories of Tintin and Bantul The Great, Baba coming from office early one afternoon and proudly telling us the story of how he went to check the admission list in Ballygunge Govt. High School and finding to his surprise that I not only got the chance but stood second in the admission test. Baba taking me to the local library and getting me a card as the youngest member of the library and so on.
Somehow most of my cherished memories with Baba were from my pre-teen days. Baba was in Patna from 1993 to 2000 as his Kolkata office was shifted to Patna. He used to come during few holidays, and I also have memories of how I used to greet him as soon as I can see him on a cycle-rickshaw entering our lane. By the time, he retired and returned to Kolkata, I was in my last years of school and already busy with my studies and the outside world. Still, there are memories. Baba was a serious man but with typical wit which made him a great man to talk to. His tall handsome frame always made him someone whom you will notice even from a crowd.
I know I am blabbering, but this is my Facebook profile, and this was my Baba.
He was not doing well for the last couple of years, and I have spent some really anxious times for him and with him. My last memory of Baba was from 24th June morning, and I will remember the date. Like last few days, Baba was getting support by Bi-PAP machine with a host of wires connected to his body. In my previous two days visits Baba was not in enough sense to respond. On 24th, when I called Baba he opened his eyes, something more than what he could do last two days. Then he raised his right hand like a wave. Every day I used to go and stand on the left side of Baba as his right eye was damaged from his childhood. Yesterday, I went to his right, hold his hand. He reciprocated and then very gently, maybe almost absentmindedly just brushed his fingers against my palm for the next few seconds, maybe a minute. Then I left him, I had to arrange a transfer for him from that hospital to another hospital and I wanted to do it at the earliest.
Baba left us on 24th June afternoon and my last memory of baba was that gentle stroking of his fingers on my hand. almost like he was trying to feel my presence by touching me.
I am not sure what was Baba’s last memory of me, but I can hope that he was happy and he was proud of what we have achieved as a family.
Thank you Baba for making me a reader, thank you for shaping me into a methodical person, and thanks for the Sharadindu connection.


Tuesday, February 14, 2017

একটি সুপ্রাচীন কাহিনী

আমার এই কাহিনীর সময়কাল অতি প্রাচীন। কত প্রাচীন সেই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে সঠিকভাবে নাইএই মানব সভ্যতা তখন সবে হামাগুড়ি দিতেছিল। তবে এসব ক্ষেত্রে গুরুজনদের সাহায্য গ্রহণ অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং শরদিন্দুর হইতে ঋণ লইয়া বলি,
'সন-তারিখ দিয়া বলিতে পারিব না। সন-তারিখ তখনও তৈয়ার হয় নাই। তখন আমরা কাঁচা মাংস খাইতাম।'
এই পৃথিবীতে সেই সময় দেশ বলিয়া কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। পর্বতময় অরণ্যসংকুল সেই স্থানে দুটি উপজাতি পাশাপাশি বসবাস করিত। অরণ্যের ঠিক মধ্যভাগ দিয়া একটি নদী বহিয়া গিয়াছিল। স্থানীয় ভাষায় সেটির নাম ছিল যশহোর। এই যশহোরের পূর্ব দিকে যে উপজাতিরা থাকিত তাহারা নিজের মাচস্‌ এবং পশ্চিমতীরের উপজাতিরা নিজেদের লোটস্‌ বলিয়া উল্লেখ করিত। নদীর নিকটবর্তী অরণ্যে পশু এবং নদীতে মৎস্য শিকার করিয়াই তাহারা দিন অতিবাহিত করিত
পশুপক্ষী শিকার ব্যতীত উহাদের কাজ ছিল পরস্পরকে উত্যক্ত করা লোটস্‌ এবং মাচস্‌ এই দুই উপজাতির মধ্যে দীর্ঘদিনের এক বিবাদ উপস্থিত ছিল। তাহারা একে অপরকে মনুষ্য পদবাচ্য বলেই মনে করিত না। একে অপরকে দেখিলেই মর্কট, অকালকুষ্মাণ্ড, বরাহনন্দন ইত্যাদি গালি পাড়িতশুধু তাহাই নহে, এক অপরের পৃষ্ঠের চর্মাবরণ তুলে দিবার সাবধানবাণী ঘোষণা করিত এবং সময়বিশেষে করিয়াও দেখাইতলোটস্‌ এবং মাচস্‌দের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ লাগিয়াই থাকিত। তাহাতে দুই পক্ষেরই যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হইলেও কেহই ইহার অবসান ঘটাইতে প্রস্তুত ছিল না। এবং সময়ের সঙ্গে তাল রাখিয়া তাহাদের যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র ছিল প্রস্তর খণ্ড যাহা দূর-দূরান্ত হইতে ইহারা পরস্পরের উপর নিক্ষেপ করিত। বর্তমানকালের ন্যায় ছুরি, পাইপগান বা পেটো সম্বন্ধে ইহাদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটে নাই।
এই সময় মাচস্‌ উপজাতির তরুণ নেতা তব্রপোত ঠিক করিল এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাইতে হইবে। তন্মধ্যে ইহারা একে অপরের শিকার হরণ করিতে শুরু করিয়াছেন। এমনকি বেকায়দায় পাইলেই নানাবিধ অপমানেরও খামতি হইতেছিল না। কিছুদিন পূর্বেই একদল লোটস্‌ দুটি মাচস্‌ বালককে একাকী পাইয়া তাহাদের একে অপরে কর্ণ আকর্ষণ করিয়া তিন ঘটিকা দণ্ডায়মান রাখিয়াছিল। প্রত্যুত্তরে কল্য কিছু মাচস্‌ দুই স্নানরত লোটস্‌কে ধরিয়া ধারালো প্রস্তর দিয়ে মস্তকের অর্দ্ধেক কেশ কর্তন করিয়া একটি গর্দভের পৃষ্ঠে বসাইয়া তাহাদের নদীর পরপারে পলায়ন করিতে বাধ্য করিয়াছে। ফলস্বরূপ প্রভাত হইতেই লোটস্‌ ভূমি হইতে একের পর এক প্রস্তর খণ্ড উড়িয়া আসিতেছে এবং নদী কূলবর্তী গৃহগুলিতে বিস্তর ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করিতেছে।
এহেন পরিস্থিতিতে তব্রপোত তার পোষ্য সারমেয়টিকে বগলদাবা করিয়া তাহার প্রধান পরামর্শদাতা কষেভি অবুবার উদ্দেশ্যে গমন করিল। কষেভি একাধারে জাদুকর, বৈজ্ঞানিক, রন্ধন-বিশারদ এবং অতিশয় জ্ঞানী ব্যক্তিকেহ কেহ ইহাও বলিয়া থাকে যে কষেভি ভবিষ্যৎ দর্শনেরও ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়াছে যদিও সে বিষয়ে তব্রপোত সম্যক ধারণা ছিল না। সে গিয়া দেখিল, কষেভি তাহার গৃহের পিছন দিকে এক বৃহৎ গর্ত খনন করিয়া তাহার ভিতর বিবিধ শুষ্ক কাষ্ঠখণ্ড একত্র করিয়াছে। তব্রপোতকে দেখিয়া সে বলিল,
"এসো হে শাল-বৃক্ষ! কী সংবাদ?" অন্য মাচস্‌দের তুলনায় তব্রপোত উচ্চতায় অনেকটাই বেশি ছিল।
"তোমার কী সংবাদ? এই আয়োজন কীসের?"
"ইহা এক নতুন জাদু! কৃত্রিম পদ্ধতিতে অগ্নি জ্বালাইয়া এই শাখাপ্রশাখায় আমি তাহা ধরিয়া রাখিয়াছিসেই আগুনে ছাগ-মাংস, গো-মাংস, বন্য বরাহ-মাংস, কুক্কুট-মাংস ইত্যাদি সিদ্ধ করিয়া খাইতেছি। শুধু তাহাই নহে, তাহার সঙ্গে বিভিন্ন উদ্ভিদও সিদ্ধ অবস্থায় খাইয়া দেখিতেছি।"
"উদ্ভিদ খাইতেছ? বাণপ্রস্থে যাওয়ার সময় কি আগতপ্রায়?" তব্রপোত চক্ষু টিপিয়া জিজ্ঞাসা করিল।
"মুর্খ! শুধু উদ্ভহিদ ভক্ষণ যে সুখকর নহে তাহা আমিও জানি। কিন্তু এ সবই আমার বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়। এহেন অগ্নি পৃথিবীর আর কোথাও এখনও আবিষ্কৃত হয় নাই। তাই ইহার ব্যবহার সম্বন্ধেও লোকের বিশেষ ধারণা নাই। আমি তাহাই বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়া দেখিতেছি। শুধু তাহাই নহে, তণ্ডুল-জাতীয় দানাশস্যকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা তাহাও আমার গবেষণার বিষয়। যাহা হউক তোমার এই দগ্ধস্থূলকন্দক পূর্ণ মস্তকে এসব প্রবেশ করিবে না? কী কারণে আসিয়াছ বল?"
"বলতেছি যে, লোটস্‌দের সঙ্গে যুদ্ধ করে তো আর পারিয়া উঠিতেছি না। এই যুদ্ধের তো কোনরূপ শেষ নাই! একটা কিছু সমাধান বের করিয়া দাও না!"
"যাও তো বাপু, বিরক্ত করিও না। ইহা তো তোমাদের শিশুদের মত যুদ্ধক্রীড়াপরস্পরের কেশাকর্ষণ তথবা কর্ণাকর্ষণ করিয়া মজা দেখিতেছে। বরং বাপু ওই দলের অধিনায়কের সঙ্গে দেখা করিয়া কথা বলিলেই হয়। বাক্যালাপে সর্ব সমস্যারই সমাধান হয়।"
কষেভির দ্বারা বিতাড়িত হইলেও তাহার কয়েকটি কথা তব্রপোতের মনে বিশেষ রেখাপাত করিল। সে মনে মনে এক পরিকল্পনা করিয়া দূতকে তাহার সহিত দেখা করিবার জন্য খবর পাঠাইল।
লোটস্‌দের কাছে যেতে হবে শুনিয়াই দূতবাবাজী বাঁকিয়া বাসিয়াছিল। অনেক কষ্টে বিভিন্ন পুরস্কারের লোভ দেখাইয়া তব্রপোত তাহাকে সম্মত করাইতে সক্ষম হইল। বাক্যালাপ যে প্রয়োজন সে বিষয়ে তব্রপোত কষেভির সহিত একমত হইয়াছিল। তাহা ব্যাতীত আরো কিছু প্রস্তাব তাহার মস্তিষ্কে ছিল, যাহা লইয়া চিন্তা ভাবনার জন্য কতিপয় দিবস হাতে রাখিয়া তব্রপোত চিঠি লিখিল লোটস্‌ দলপতির প্রতি। লিখিতে গিয়া সে উপলব্ধি করিল যে এত যুদ্ধ সত্ত্বেও লোটস্‌দের দলপতির পরিচয় সম্বন্ধে সে অবগত নহে। সাধারণ যুদ্ধ সেনাপতিরাই পরিচালনা করিয়া থাকেন,  সেই কারণে তব্রপোত লোটস্‌দের দলপতির সম্মুখে কোনদিন আসে নাই।
কয়েক দিবস পর কাঁপিতে কাঁপিতে হাতে একখানি শ্বেত বস্ত্রখণ্ড লইয়া দূত মহাশয় লোটস্‌ শিবিরে গিয়া তব্রপোতের আমন্ত্রনপত্র প্রদান করলেন। লোটস্‌রাও দেখা গেল, এই প্রস্তাবে একবাক্যে রাজী হইয়া গেল। বয়স্ক ব্যাক্তিগণ তাঁদের নেতার সঙ্গে কথা বলিয়া দূতকে জানাইলেন যে, সাড়ে ছয় সপ্তাহ পরে লোটস্‌ দলাধিপতি মাচস্‌ দলাধিপতির সহিত যশহোর নদীর তীরে সাক্ষাতে সম্মত হইয়াছেন।
দূতের নিকট এই বার্তা শুনিয়া তব্রপোত তাহার পরিকল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিলেন। ঐদিন ছড়াইলে চলিবে না! প্রায়শই তাহাকে কষেভির গৃহের উদ্দেশ্যে যাইতে দেখা গেল। বুঝা যাইল, ইহারা দুজনে মিলিয়া একটি বিশেষ ফন্দি আঁটিতেছে!
দেখিতে দেখিতে শীর্ষ সম্মেলনের দিন উপস্থিত হইল। সকাল হইতে সাজো সাজো রব। তব্রপোত তাহার শ্রেষ্ঠ ভল্লুক চর্মের পোশাক পরিধান করিয়া সঙ্গী সারমেয়টিকে লইয়া তাহার উপজাতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে যশহোরের তীরে উপস্থিত হইল। যদিও কষেভিকে সেখানে দেখা যাইতেছিল না, কিন্তু সেদিকে দেখিবার সময় কাহারও ছিল না।
অল্পক্ষণের মধ্যেই নদীর বুকে বেশ কিছু সংখ্যক ভেলক দেখা দিল। তাহাদের মধ্যভাগের সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল, সুসজ্জিত ভেলকটিতেই যে লোটস্‌দের অধিনায়ক আছেন তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। ভেলকবৃন্দ নিকটে আসিতেই লোটস্‌দের অভাগ্যতদের আকার মাচস্‌দের দৃষ্টিগোচর হইল। তাহাদিগের সেনাপতিবৃন্দ সৈন্যসমাগমে সম্মুখের ভেলকগুলিতে আসীন ছিলেন, সম্ভবত কোন আকস্মিক আক্রমণের আশঙ্কায়। এই ভয় মাচস্‌দেরও ছিল এবং সেইমত সুকৌশলে বিভিন্ন স্থানে সৈন্য প্রস্তুত হইয়া ছিল। তবে কোন প্রকার গোলযোগ ঘটিল না।
তবে লোটস্‌দের অধিনায়ককে দেখিয়া মাচস্‌বৃন্দ সবিষ্ময়ে মুখব্যাদান করিল। ইহার কারণ আর কিছুই নহে, লোটস্‌দের অধিনায়ক এক সুন্দরী তরুণী, যদিও দৈর্ঘ্যে কিঞ্চিৎ খর্বরানীসুলভ গাম্ভীর্যের সহিত সে তীরে অবতরণ করিলে তব্রপোত এগিয়ে গেল তাহাকে অভ্যর্থনার জন্য। তাহার সারমেয়টি পেছনেই ছিল। লোটস্‌দের রানী তাহাদের প্রতি গম্ভীর হইয়া বলিলেন, "একটা গর্দভকে সঙ্গে লইয়া আসিয়াছ?"
তব্রপোত খুবই বিস্মিত হইয়া বলিল, "ইহা গর্দভ নয় দেবী, ইহা একটি সারমেয়।"
লোটস্‌দের রানী ঠোঁট উল্টাইয়া জবাব দিলেন, "তোমাকে নয়, তোমার সারমেয়টিকেই বলিয়াছি!"
(ভবিষ্যতে এই বাক্যালাপটি অনেকেই ব্যবহার করিয়াছেন। এই কারণেই বলা হয় 'History repeats itself')
রাগে চিড়বিড়িয়া জ্বলিয়া উঠিতে গিয়ে সামলে লইল তব্রপোত। হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, "আমার সহিত বাক্যালাপে যাহাতে মহারানীর গ্রীবায় ক্লেশ না হয় তজ্জন্য কি একটি বৃক্ষকাণ্ড অথবা প্রস্তরখণ্ড আনয়ন করিব?"
এবার মহারানীর গম্ভীর হইবার পালা। ব্যাজার মুখে বলিলেন, "আমার নাম উপি। তোমাদের এখানে কি বসিবার ব্যবস্থা নাই?"
"অবশ্যই আছে।" তব্রপোত উপির সহিত সুসজ্জিত আলোচনাস্থলের দিকে অগ্রসর হইলেন অবশিষ্ট মাচস্‌বৃন্দ লোটস্‌ অতিথিদের নিয়ে উহারই আশেপাশে বসাইলেন।
উপি বসিয়াই বলিল, "যাহা বলিবার তাহা কোনরূপ গৌরচন্দ্রিকা না করিয়া পট্‌ করিয়া বলিয়া ফেল। তুমি আমার ক্রোধ সম্বন্ধে অবগত নও। চূর্ণ হইতে তাম্বুলপত্র... মানে ইয়ে তাম্বুলপত্র হইতে চূর্ণ খসিলেই আমার রাগ হয়।"
কোনক্রমে হাসি চাপিয়া তব্রপোত বলিল, "আমাদের এই দুই উপজাতির মধ্যে কলহের অন্ত নাই। আর সেই কলহ, হিংসা এবং যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য আমার একটি প্রস্তাব আছে উপি। আশা রাখিতেছি তুমি আমার সহিত একমত হইবে।"
"কী প্রস্তাব শুনি।"
"আমরা এই দুই উপজাতি, লোটস্‌ এবং মাচস্‌ যদি যুদ্ধবিগ্রহের পরিবর্তে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি তাহা হইলে কেমন হয়? ইহাতে দুদলেরই ক্ষয়ক্ষতি কমিবে কিন্তু কে শ্রেষ্ঠ তাহা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফলাফল দেখিয়া সহজেই বুঝিতে পারা যাইবে।"
"ক্রীড়া প্রতিযোগিতা? কি ধরনের ক্রীড়া একটু শুনি।"
"একটি ভাবিয়াছি। তোমার এবং আমার দলের সমসংখ্যক মনুষ্য ইহাতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে। আমরা প্রত্যেকেই প্রস্তর-নিক্ষেপে পারদর্শী, কিন্তু এই খেলায় একটিই প্রস্তর থাকিবে। কেহ তাহাদের হস্ত ব্যবহার করিতে পারিবে না, পদাঘাতে প্রস্তরটিকে ক্রীড়াক্ষেত্রের একপ্রান্ত হইতে অন্যপ্রান্তে নিক্ষেপ করিতে হইবেদুই প্রান্তে দুইটি স্থান নির্দিষ্ট হইবে, যাহারা ঐস্থানে অধিক সংখ্যক বার প্রস্তর প্রেরণ করিতে পারিবে তাহারা বিজয়ী ঘোষিত হইবে।"
উপি শুনিয়া বলিল, "চমৎকার খেলা। কিন্তু খেলার সময় কে কোন পক্ষের হইয়া খেলিতেছে তাহা কী প্রকারে নির্ণয় করা যাইবে?"
উপির প্রশ্ন শুনিয়া তব্রপোত একটু ভাবিয়া বলিল, "তাহারও পদ্ধতি আছে। তোমাদের বনভূমি অতিশয় সুন্দর, বিভিন্ন পুষ্পের নানাবিধ রঙে তাহা উজ্জ্বল হইয়া থাকে। তোমাদিগের প্রতিযোগীরা ওই রক্ত এবং পীত বর্ণের পুষ্প দিয়ে গাঁথা মালা পরিয়া উপনীত হউকএই অঞ্চলের অরণ্য অপেক্ষাকৃত ঊষর, তাই মাচস্‌ প্রতিযোগীরা গাছের শ্যামলপত্র ও বল্কল দিয়া প্রস্তুত মালা পড়িয়া যোগদান করিবে।
উপি বলিল, "উত্তম প্রস্তাব! আমি নিশ্চিত লোটস্‌ জাতি এই খেলায় সুনৈপুন্যের পরিচয় দিবে। কিন্তু আমারও একটি প্রস্তাব আছে।"
"বল।"
"সবাই এই খেলায় উৎসাহী নাই হইতে পারে। বিশেষত কিঞ্চিৎ স্থূলকায় যারা। তাই তাহাদের জন্য আরো একটি খেলার প্রস্তাব দিতেছি। উভয়পক্ষের কিছু সৈন্য একপ্রকার কাষ্ঠদণ্ড হস্তে লইয়া ঘুরে বেড়ায়। এই খেলায়, একটি দল অন্য দলের দিকে প্রস্তর নিক্ষেপ করিবেবিপক্ষ দল ঐ দণ্ড কর্তৃক প্রহারপূর্বক প্রস্তরগুলিকে দূরে নিক্ষেপ করিবেযাহারা অধিক দূরত্বে প্রেরণ করিবে তাহারাই বিজয়ী হইবে।" উপি হাসিয়া বলিল, "কেমন?"
"অর্থাৎ যাহারা সর্বাপেক্ষা অধিক প্রহার করিবে তাহারাই সর্বাপেক্ষা কুশলী বলিয়া চিহ্নিত হইবে?"
"তাহা কেন? কেহ যদি বিপক্ষের নিক্ষিপ্ত প্রস্তরখণ্ডের সম্মুখে প্রাচীরের ন্যায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করিতে পারে তাহাও কম কৃতিত্বের নহে।"
"সাধু!" তব্রপোতের পছন্দই হইয়াছিল। প্রস্তাব এবং প্রস্তাবকারিণী, উভয়কেইমাচস্‌ এবং লোটস্‌দের অন্যান্যরাও সম্মত হইয়াছিলেন। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই উপজাতির মধ্যে বাক্যালাপ হইতেছিল।
সহসা এক অপূর্ব সুবাসে তাহাদের মন চঞ্চল হইয়া উঠিল। সবাই দেখিল, কষেভি এবং তার কিছু সঙ্গী বেশ কিছু পাত্র লইয়া আসিতেছে। পাত্রগুলি থেকে ধূম নির্গত হইতেছে, সুগন্ধও তদ্রুপসর্বাপেক্ষা বৃহৎ পাত্রটি কষেভি তব্রপোত এবং উপির সামনে গিয়া রাখিল। উপি অবাক হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, "ইহা কী?"
তব্রপোত বলিল, "ইনি আমার সুহৃদ, বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক কষেভি অবুবা। এই বস্তুটি উহারই এক অসাধারণ আবিষ্কার। মশলামিশ্রিত তণ্ডুলের মধ্যে সুপক্ক কুক্কুটমাংস, ডিম্ব ও কন্দ দিয়া প্রস্তুত এইরূপ খাদ্য তুমি যে পূর্বে কখনো খাওনি তাহা আমি পণ রাখিয়া বলিতে পারি। ভয় নাই, ইহাতে বিষ নাই, আমি তোমার সঙ্গে এক পাত্রেই আহার করিব।"
অতঃপর সেই স্থানে উপস্থিত সমস্ত নারী-পুরুষ, মাচস্‌-লোটস্‌ একত্রে সেই অনন্য খাদ্য সেবনে উদ্যত হইল। এমনকি বৃহত্তর মাংসখণ্ড কার ভাগ্যে জুটিবে সে বিষয়ে তব্রপোত এবং উপির মধ্যে ঈষৎ বিদ্বেষ দেখা দিয়াছিল, যদিও শেষ অবধি দুজনেই নিজ নিজ অংশটি অন্যের জন্য রাখিয়া দিয়েছিল। তাহা নিছক ভদ্রতা কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নাই।
আহার সম্পন্ন হয়তে হইতে দেখা গেল লোটস্‌ এবং মাচস্‌দের মধ্যে বন্ধুত্বের সূচনা হইয়াছে। পরবর্তী কবে খেলিবার জন্য সবাই একত্র হইবে তাহা নির্ধারণ করিয়া এবং মাচস্‌গনকে নিজ অঞ্চলে আমন্ত্রণ জানাইয়া লোটস্‌রা বিদায় লইল। উপি যাইবার সময় হাসিমুখে বলিল, "বড়ই ভালো লাগিল। এই খাদ্য অসাধারণ। মধ্যে মধ্যে আসিয়া ইহা খাইতে চাহি।"
"যথা আজ্ঞা মহারানী।", বলিল কষেভি।
লোটস্‌রা চলিয়া যাওয়ার পর তব্রপোত তাহাকে পাকড়াও করিল, "কী ব্যাপার? লোটস্‌দের দলে ভিড়িবে নাকি? উহাকে মহারানী সম্বোধন করিলে যে!"
"তার কারণ খুবই সহজ। তুমি এই রাজ্যের রাজা আর আমি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা!" মুচকি হাসিয়া প্রস্থান করিতে লাগিল কষেভি।
তব্রপোত চিৎকার করিয়া বলিল, "পলাণ্ডু-পক্কবটিকা না মারিয়া এই দেবভোগ্য খাদ্যের নাম বলিয়া যাও?"
উত্তর আসিল, "আপাতত কোন নাম ঠিক করি নাই, তবে ইহা অবগত আছি যে, ভবিষ্যতে ইহা বিরিয়ানি নামে খ্যাত হইবে!"
****************
কালের সঙ্গে সঙ্গে কত কী না ইতিহাসই মহাকালের গহ্বরে চলে যায়! হয়তো কষেভির মৃত্যুর পর এই ঐশ্বরিক খাদ্যের কথাও সবাই বিস্মৃত হইয়াছিল। কিন্তু ইতিহাস সদা পরিবর্তনশীল
পূর্বেই লিখিয়াছি, "History Repeats itself"কয়েক সহস্র বৎসর পরে এই দেবভোগ্য খাদ্য এই বিশ্বে প্রত্যাবর্তন করে, তবে পারস্য দেশে। ক্রমশঃ ভারতবর্ষ তথা সমগ্র বিশ্বে ইহা খ্যাতি লাভ করে!

Thursday, September 8, 2016

ট্যাক্সি কাহন

***১***

সকালে অফিস যেতে গিয়ে এমনিতেই বেশ দেরি হয়ে গেছিল
অনেক কষ্টে বেশ কিছুটা ছোটাছুটি করে একজন ট্যাক্সিওয়ালাকে সল্টলেক নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে রাজী করিয়ে সস্ত্রীক তাঁর ট্যাক্সিতে উঠে বসলাম। আমাদের মাথার ওপরে বসেরা আছেন, তাই আমাদের অফিস যাওয়ার তাড়া আছে। কিন্তু উনি মুক্ত পুরুষ, তাই ওনার কোন তাড়া নেই। আমরা বসার পর ভদ্রলোক একটা হাই তুললেন, তারপর আড়মোড়া ভাঙলেন। তারপর যেই আমরা আশাবাদী হচ্ছি যে, উনি এবার ইঞ্জিনটা স্টার্ট করবেন তখনই ফস্‌ করে একটা ধূপকাঠি জ্বালালেন। তারপর ভক্তি ভরে দেড়খানা হাতে (এক হাতে ধূপ, অন্য হাত সেই হাতের কনুইয়ে) উনি ধূপ দেখাতে লাগলেন। প্রথমে ট্যাক্সির মিটারকে প্রায় ৩০ সেকেন্ড! তারপর কালীঘাটের মাকালীর ছবিতে, হনুমানজির মূর্তিতে, তাদের পেছনে রাখা কিছু মাদুলি-তাবিজকে, স্পিডোমিটার আর ফুয়েল ইন্ডিকেটরকে এমনকি স্টিয়ারিংটাকেও ধূপ দেখাবার পর যখন বুঝে গেছি যে এবার আমাকে আর গিন্নিকেও ধূপটা দেখিয়ে ছাড়বেন ভদ্রলোক তখন আমার স্বপ্নে জল ঢেলে ভদ্রলোক ধূপটা মিটারের নিচে গুঁজে দিয়ে গাড়ী স্টার্ট করলেন!
দুগ্‌গা দুগ্‌গা!!

***২***

জন্ম-মৃত্যু-বিবাহের মতই জীবনের আর এক সত্য হল ট্যাক্সি রিফিউজাল! এই কলকাতা শহরে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলেন যে, তিনি জীবনে কখনো কলকাতার ট্যাক্সিওয়ালাদের কাছে ‘যাবো না’ কথাটি শোনেননি তাহলে তাঁকে কালটিভেট করুন কারণ এরকম নির্ভেজাল গুল দেওয়ার ক্ষমতা ভগবান খুব বেশী লোককে দেননি।
কলকাতার ট্যাক্সিওয়ালারা কোথায় যেতে চাইবেন সেটা অনেকটা ওই গেছোদাদা কোথায় থাকবেন সেটার মতই জটিল। মানে ধরুন সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে আপনি যেতে চাইলেন শ্যামবাজার কিন্তু মাঝবয়সী ট্যাক্সিচালক পাটুলি ছাড়া যাবেন না। কিন্তু যেদিন পাটুলি যেতে চাইবেন সেদিন তাঁরা পাটুলিকে গণ্ডগ্রাম বলে বাতিল করে দিয়ে যেতে চাইবেন এয়ারপোর্ট! কলকাতার এই কোটি কোটি মানুষকে ট্যাক্সিওয়ালারা ধর্তব্যের মধ্যেই ধরেন না তাই দিনের মধ্যে যেকোন সময়ে যেকোন জায়গাতে যেতে হলেই বলেন, “না দাদা, ওদিকে প্যাসেঞ্জার পাওয়া যাবে না, যাব না।”
"নেহি যায়েগা... উবার বুলা লো!"
সূত্রঃ ইন্টারনেট
মাঝে মাঝে খুবই গিল্টি ফিলিং হয় জানেন তো। এই যে ভদ্রলোক একটা চকচকে হলুদ রঙের ট্যাক্সি নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে বসে চা খেতে আর প্রকৃতির শোভা দেখতে বেরিয়েছেন তাঁকে দৈনন্দিন পনেরো ঘন্টা বিশ্রামের মধ্যে যখন আমাকে নিয়ে পাচন গোলার মত মুখ করে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেতে হয় তখন সত্যি বলছি নিজেকে খুবই ছোট মনে হয়।
তবে ট্যাক্সি নিয়ে আসল কথাটা বোধ হয় চন্দ্রিল লিখে গেছেন। ট্যাক্সিচালকের রিফিউজালের হতাশা আর বিরক্তি থেকে আপনি যদি কোনদিন বলে ফেলেন, “চলুন দাদা, আজকে আপনার বাড়ি যাব।” তাহলে ট্যাক্সিচালক দাদা একগাল হেসে বলবেন, “না দাদা, আজকে আমি মামার বাড়ি যাব!”

***৩***

ট্যাক্সি ড্রাইভারদের সঙ্গে গল্প নিয়ে বেশ কিছু ভালো গল্প আছে স্টকে। তার কয়েকটা বেশ মজার আবার কয়েকটা মন ভালো করে দেওয়া গল্প। বিশেষ করে আজকাল উবের-ওলার আমলে মিশুকে গপ্পোবাজ ড্রাইভারের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মনে হয়।
একবার অফিসের বন্ধুরা বাইরে ঘুরতে গেছিলাম। ফেরার সময় হাওড়া স্টেশানে নেমে একটা উবের নিয়ে চারজন একসঙ্গে ফিরছি। ট্রেনে আমাদের এক সহযাত্রী সারা সন্ধ্যে নাক ডাকিয়ে ঘুমিয়ে আমাদের যথেষ্ট বিরক্তি এবং হাস্যরসের সাপ্লাই দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে গল্প করছি, আগের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হচ্ছে এমন সময়ে আমাদের আলোচনার মধ্যে নিজের নাকটা গলিয়ে উবেরের চালক বললেন, “আমি স্যার ঘুরতে যাওয়ার সময় সঙ্গে নস্যি নিয়ে যাই!”
আমাদের “নস্যি কেন?” প্রশ্নের উত্তরে ভদ্রলোক জানালেন যে, ঘুরতে গেলে, বিশেষ করে ট্রেনে রাত কাটানোর ব্যাপার থাকলে এটাই তাঁর ব্রহ্মাস্ত!
“বুঝলেন না, রাতে যদি ক্যুপে কেউ নাক ডাকে তাহলে তার নাকের কাছে নস্যি নিয়ে গিয়ে হালকা ফুঁ দিলেই সেরাতের মত ঘুমের দফারফা! এবার হেঁচে মরুক ব্যাটা!”

ভদ্রলোক আবার দাবী করলেন ওনার শেষ পুরীভ্রমনের সময় এটা নাকি হাতেকলমে ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। আমাদের সকলেরই মাঝেমধ্যে নাক দেকে থাকে! তাই, এরকম ভয়ংকর সহযাত্রীর পাল্লায় পড়লে কী হতে পারে সেই ভেবে চারজনেই বেশ ঘাবড়ে গেছিলাম।

Wednesday, June 1, 2016

স্মৃতি

ভাবনা-১

সুনির্মলবাবুর আজকাল নিজেকে বড় একা লাগে। একটা গোটা দোতলা বাড়িটায় আর একটাও মানুষ নেই। একাকীত্ব যেন রোজ গিলে খেতে আসে তাঁকে। কিন্তু সব সময় এরকম ছিল না। সুনির্মলবাবুর স্ত্রী কৃষ্ণা এবং একমাত্র ছেলে অঞ্জন যখন ছিল তখনও পুরো বাড়িটা বেশ জমজমাট থাকত। অঞ্জনের বিয়ের পর আরো একজন লোক বাড়ল, সুনয়না, তাঁর পুত্রবধূ। কিন্তু এরা কেউই এখন নেই। কেন নেই সেটা অনেক ভেবেও সুনির্মলবাবু ঠিক করে বুঝে উঠতে পারেন না! ঘন্টার পর ঘন্টা বসার ঘরে কৃষ্ণার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের বৈবাহিক জীবনের অনেক খুঁটিনাটি ঘটনার কথা তাঁর মনে পড়লেও এই প্রশ্নের উত্তর তাঁর মাথার মধ্যে নেই!
আসলে মানুষের স্মৃতি ব্যাপারটাই খুব জটিল। আর তার ওপর মস্তিষ্কের এক বিরল রোগের কারণে সুনির্মলবাবুর স্মৃতি এক অদ্ভুত চেহারা নিয়েছেনিজের পঁয়ষট্টি বছরের জীবনের অনেক অকিঞ্চিৎকর কথা তাঁর মনে থাকলেও গত এক বছরের অনেক কথাই তাঁর আর মনে পড়ে নাপাঁচ বছর বয়সে পেয়ারা গাছ থেকে কে তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল, ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় স্কুলের ফাংশানে কোন আবৃত্তি করে সোনার মেডেল পেয়েছিলেন সেগুলো মনে থাকলেও গতকাল তিনি ঠিক কী খেয়েছেন বা কার সঙ্গে কথা বলেছেন, আদৌ কথা বলেছেন কিনা তার কিছুই তাঁর মনে নেই।
 আজকাল স্মৃতির এই সমস্যা তাঁর দুটো অস্বস্তির মধ্যে একটার কারণ। তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর কথা কিন্তু তাঁর বেশ ভালোই মনে আছে। একদম ছবির মত দেখতে পান শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিভেজা সেই দিনটা। অনেক লোক হয়েছিল সেদিন। অঞ্জন বারান্দায় অনেকক্ষণ গোঁজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপর উনি গিয়ে পাশে দাঁড়াতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল। একদম ছবির মত দেখতে পান এটা। কিন্তু এই অঞ্জন আর সুনয়না কোথায় কী করে চলে গেল তাঁর বিন্দুমাত্র স্মৃতি নেই তাঁর।

দৃশ্য – ১

-      তুমি তাহলে আমার কথায় রাজী হবে না?
-      কী করে হই বল?
-      কিন্তু আমি একদম লজিকাল কথা বলছি বাবা। এত পুরনো একটা বাড়ী, এতটা জায়গা! পাইকপাড়ার মত প্রাইম লোকেশান! খুব ভালো দাম পাওয়া...
-      তোমার বাবাও পুরনো হয়ে গেছে অঞ্জন। তুমি কি তাহলে আমাকেও বেচে দিতে চাও?
-      ননসেন্স! এসব কথার কোন মানে হয় না বাবা! মা মারা যাওয়ার পর তোমার মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে!
-      হতে পারে। কিন্তু তাহলেও তোমাকে এই বাড়ী বিক্রির পারমিশান আমি দেবো না!
-      এই তোমার শেষ কথা?
-      হ্যাঁ... আনফরচুনেটলি আমার মৃত্যু অবধি তোমায় অপেক্ষা করতেই হবে।
-      সেটা যাতে তাড়াতাড়ি হয় সেটার ব্যবস্থাও করে ফেলা যায়।
কথাটা বলে গটগট করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল অঞ্জন। সঙ্গে সুনয়নাও। ঘরের বাইরে থেকে তার রিনরিনে গলার আওয়াজ ভেসে এল, “এ বাড়ীতে আর থাকা যায় না। তুমি প্লিজ সল্ট লেকের দিকে একটা ফ্ল্যাট দেখ।”

ভাবনা – ২

সারাটা দিন। একের পর এক স্মৃতি ভেসে আসে। সেই কোন আদ্যিকালের অপ্রয়োজনীয় সব স্মৃতি। কিন্তু একই সঙ্গে কত কত ঘটনার স্মৃতি অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারেননা তিনিএ কী শাস্তি!
এ এক বড় অস্বস্তিকর অবস্থা! এর সঙ্গেই গত বেশ কদিন ধরে আরো একটা জিনিস শুরু হয়েছে। আগে, যখন কৃষ্ণার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন ছবির কাঁচে নিজের ছায়া দেখতে পেতেন সুনির্মলবাবু। এখন আর পান না ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পান নাএমনকি দোতলার শোয়ার ঘরের সেই সুপ্রাচীন ড্রেসিং টেবিলের আয়নাতেও আর নিজেকে দেখতে পান না সুনির্মলবাবু। কেন নিজেকে আর দেখতে পান না সেটাও মনে পড়ে না তাঁর। অস্বস্তিটা থেকেই যায়।

দৃশ্য – ২

-      ইয়েস মিস্টার মল্লিক!
-      গুড আফটারনুন স্যার। মার্ডার স্পট থেকে বলছি!
-      কোনটা? গতকালের ওই পাইকপাড়ার কেসটা?
-      ইয়েস স্যার। ওটাই। খুব স্ট্রেঞ্জ কেস স্যার!
-      কেন? একটু ব্রিফ করুন।
-      আপনি তো মোটামুটি জানেন। ভিকটিম রিটায়্যার্ড। ওয়াইফ এক্সপায়ার করেছেন গত বছর। তারপর থেকে ছেলে, ছেলের বউয়ের সঙ্গে থাকতেন। রিসেন্টলি ছেলের সঙ্গে সম্ভবত এই বাড়ী নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছিল।
-      সেটা কী করে জানলেন?
     -      পাড়ার লোক স্যার! বুঝতেই পারছেন। আর বেশ কয়েকদিন নাকি তর্কাতর্কি বেশ উচ্চকন্ঠেই হয়েছিল, পাড়ার লোক শুনেছে।
     -      ওকে
     -      হ্যাঁ। বেশ কিছুদিন হল, ছেলে-বউকে নাকি আর দেখেনি পাড়ার লোক। উনিও খুব একটা কারো সঙ্গে মেশেন না। তাই কেউ জিজ্ঞেসও করেনি। আর এত বড় বাড়ী স্যার। বাইরে থেকে কিছু বোঝা মুশকিল! নেহাত গতকাল সকালে দুর্গন্ধ পেয়ে পাড়ার লোকে আমাদের খবর দিল, তখন এসে দেখলাম, বসার ঘরের ফ্যান থেকে ঝুলছেন ভদ্রলোক!
     -      কি মনে হচ্ছে? ছেলের হাত থাকতে পারে?
     -      না স্যার। সেটা সম্ভব নয়?
     -      কেন?
     -      কী আর বলব স্যার! পুরো বাড়ী সার্চ করতে গিয়ে ওপরের একটা আঁটকাঠ বন্ধ ঘরে পাশাপাশি দুটো ট্রাঙ্কে ওনার ছেলে আর ছেলের বউয়ের রিমেইন্স পাওয়া গেছে স্যার। টুকরো টুকরো করে কাটা! অন্তত মাস খানেক আগে কিলড্‌।
     -      মাই গুডনেস! কী বলছেন? অস্ত্রটা পাওয়া গেছে?
     -      হ্যাঁ স্যার। একটা রক্তের দাগ লাগা চপার পেয়েছি, টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়েছি।
     -      কোথায় পাওয়া গেল?
     -      আজ্ঞে, বসার ঘরে ওনার স্ত্রীর একটা ছবি আছে, তার পেছনে!

Thursday, February 18, 2016

স্মার্টফোন

এই কদিন আগের কথা। রাত্তিরে মেট্রোয় বাড়ি ফিরছি। ট্রেনটা বেশ ফাঁকাই ছিল। হঠাৎ দেখি একটা সিটের সামনে বেশ কিছু লোকের ভিড়। আর সবাই বেশ মন দিয়ে কিছু একটা দেখছে! ছোটবেলায় বাসে-ট্রামে দেখেছি ইন্ডিয়ার ক্রিকেট ম্যাচের দিন কেউ রেডিও নিয়ে উঠলে তাকে ঘিরে এরকম একটা ভিড় তৈরী হত। কিন্তু মেট্রোতে কে রেডিও চালাবে? আর খেলাও তো কিছু হচ্ছে না! গুটি গুটি গিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম... আরে না, সিটে বসে একটা লোক তার ফোনে ‘ডেঞ্জার ড্যাশ’ খেলছে!
‘ডেঞ্জার ড্যাশ’ মানে ঐ যে খেলাটা যেখানে একটা লোক সারাক্ষণ দৌড়ে আর লাফিয়ে যাচ্ছে! কখনো পাহাড়ে, কখনো একটা রেল লাইন ধরে ট্রেনের মাথার ওপর দিয়ে জাস্ট ছুটে চলেছে যেন পেছনে পাগলা কুকুর তাড়া করেছে! এখানেও ফোনের মধ্যে সেই লোকটা দৌড়চ্ছে আর চারদিকে সবাই খুব মন দিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালের মত মনোযোগ দিয়ে সেটা দেখছে আর মাঝে মাঝেই “ডানদিক”, “বাঁদিক”, “লাফান”, “সাবাস” এইসব বলে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে! ফোনের মালিকও সময়োচিত ঘ্যাম নিয়ে গম্ভীর হয়ে খেলে যাচ্ছেন, থামছেনই না!
সত্যি দিনে দিনে এই স্মার্টফোন ঘিরে আদিখ্যেতা বেড়েই চলেছে। আজকাল সবাই দেখি ফোন দিয়ে ছবি তোলা থেকে শুরু করে চুল আঁচড়ানো অবধি সব কিছু করে ফেলছে! সঙ্গে আছে অ্যাপস্‌! সেই অ্যাপস্‌ দিয়ে গীতাপাঠ তো হয়েই কদিন পরে নিশ্চয়ই জুতো সেলাই বা জুতো পালিশও হয়ে যাবে! রেস্টুরেন্ট খুঁজতে অ্যাপস্‌, স্টক মার্কেট দেখতে অ্যাপস্‌... এমনকি ইউনিভার্সিটির নোটসও নাকি আজকাল অ্যাপসেই পাওয়া যায়। কারো নিজের ফোন থেকে মুখ তোলার সময় নেই। ফোন করার সময় কিন্তু ম্যাক্সিমাম পাবলিকই মিসড্‌ কল মেরে ছেড়ে দেয়। আর দেখা হলে বলে, “বেশী ব্যালেন্স ছিল না রে!” আর যখন কোন কাজ নেই তখন ফোনে গেমস আর গান শোনা তো আছেই।

‘ডেঞ্জার ড্যাশের’ আগেও অন্য গেম দেখেছি মেট্রোতে। সেটা হল ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’! আজকাল ফেসবুকে কিছু লোকজন আছেন যাঁরা নিজের কেজি স্কুলের বন্ধু (গত তিরিশ বছর কন্ট্যাক্ট নেই), আগের অফিসের বস (ছাড়ার আগে এইচ আরের কাছে যার নামে গুচ্ছ চুকলি করে এসেছেন) কিম্বা পাড়ার দুর্গাপুজোর সম্পাদক (“কী যে বলেন দাদা, পাঁচ হাজার টাকার কম চাঁদা দিলে এই বাজারে মা দুগ্‌গাকে খাওয়াবো কী?”) সব্বাইকে যেচে যেচে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে চলেছেন! কেন? একটাই কারণ! না ভদ্রতা নয়, অভদ্রতাও নয়... ক্যান্ডি ক্রাশের লাইফ! কী খেল বানিয়েছ গুরু? যখন তখন লোকজন ফেসবুকে জীবনদান করতে বলে। আগে জানতাম জলই জীবন কিন্তু এখন কেস পুরো অন্য। ধরুন, কম্পিউটারে একটা ঘ্যামা সিনেমা শেষ করে রাত দুটোর সময় শুতে যাওয়ার আগে হঠাৎ দেখলেন ফেসবুকে একটা নোটিফিকেশান এসেছে। ফেসবুক খুলে কী দেখলেন? আপনার জ্যাঠার শ্যালক আপনার কাছ থেকে ‘ক্যান্ডি ক্রাশের’ লাইফ চাইছেন! এরপর যদি জ্যাঠার শ্যালককে নিজের শ্যালক মনে করে আপনি চাট্টি কথা বলেন তাহলেই সবাই ছিছিক্কার করবে! কী আর বলব? ঘেন্না ধরে গেল!
যাকগে, সেই মেট্রো রেলের ‘ক্যান্ডি ক্রাশে’ ফিরে আসি।এটাও কিছুদিন আগের ঘটনা, দেখি এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক, কোনরকমে দাঁড়িয়ে আছেন ভিড়ের গুঁতো খেয়ে, আর সেভাবে দাঁড়িয়েই ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’ খেলে  যাচ্ছেন। লাল-নীল-বেগুনী লজেন্স সব এদিক-ওদিক ওপর নীচ হচ্ছে। আর তাঁর পাশের এক গুঁফো ভদ্রলোক আড় চোখে সেটা দেখে যাচ্ছেন। হঠাৎ খেলোয়াড় ভদ্রলোক ছড়িয়ে ফেলায় গেমটা শেষ হয়ে গেল। তাতে ভদ্রলোক খেপে গিয়ে পাশের লোকটার দিকে বেশ কটমট করে চাইলেন। পাশের লোকটা আর কী করে, বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের গোঁফ চুলকোতে চুলকোতে আমার দিকে কটমট করে চাইলেন। আমি আবার আড় চোখে ওনার গেম খেলা দেখা দেখছিলাম কিনা!
এ তো গেল আজকালকার স্মার্ট ফোনের গেমের কথা। এর সঙ্গে আছে চ্যাট বলে বেশ চ্যাটচ্যাটে একটা ব্যাপার। টেক্সট মেসেজ ব্যাপারটাই লাটে উঠেছে এই চ্যাটের দয়ায়। আর তাদের নানা রকম নাম... ‘হোয়াটস্যাপ’, ‘হাইক’, ‘চ্যাট অন (প্রথমে ভাবতাম চাটন!)’ আরো আছে! সবগুলো আমার মাথায় ঢোকেও নাতার সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জার, গুগল হ্যাংআউট তো আছেই। পাড়ার মোড়ের নাপিত থেকে শুরু করে বাজারের মুদির দোকানের মালিক, সবার সঙ্গেই আজকাল চ্যাটেই কথাবার্তা চলছে।
এই তো সেদিন পাড়ার এক বউদি মেসেজ করে এক কেজি মুগ ডাল আর পাঁচশো চিনির অর্ডার দিয়েছিলেন পাড়ার মোড়ের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারেদোকানের মালিক কাল্টুদা সেটা পেয়ে স্মার্টলি একটা সাইকেলের স্মাইলি পাঠিয়ে দিলেন বউদির ফোনে। মানেটা হল দুপুরে ফেরার সময় উনি সাইকেলে করে মাল পৌঁছে দেবেন। সেই স্মাইলি দেখে বউদির কী মেজাজ। সারা পাড়া মাথায় করলেন তিনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, উনি ভেবেছিলেন যে, কাল্টুদা ওনাকে বিকেলে সাইকেলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে! যদিও কাল্টুদা যদি সাইকেলের বদলে চার চাকার ছবি পাঠাতো তাহলে কী হত সেটা বলা কিন্তু খুবই কঠিন!
যাকগে, আবার ফিরে আসি স্মার্ট ফোনের গল্পে। গেম আর অ্যাপস্‌ ছাড়া স্মার্টফোনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল তার ক্যামেরা, বিশেষত ফ্রন্ট ক্যামেরা। একদল মানুষ সেই ক্যামেরা দিয়ে নিজেদের ছবি মানে সেলফি তুলে যাচ্ছে। আফ্রিকার জঙ্গলই হোক কিম্বা বাড়ির বাথরুম, সেলফি তোলায় কারো কোন বিরাম নেই। আর এখন তো পৃথিবীর সাম্যবাদের প্রতীক হল সেলফি। বারাক ওবামার মত রাষ্ট্রনেতাই হন বা আমাদের পাড়ার বখাটে, বেকার ছেলের দল, সকলেই যখন তখন সেলফি তুলছে আর শেয়ার করছে! আর মহিলাদের তো কথাই নেই। সেলফি অন্ত প্রাণ তাঁরা। ফেসবুকের কল্যানে তাঁদের কাঁদতে কাঁদতে সেলফি, ঘুমোতে ঘুমোতে সেলফি এবং আরো অন্যান্য নানাবিধ কার্য্যরত সেলফি আমায় দেখতে হয়েছে! মাঝে মাঝে সত্যিই চমকে উঠি নতুন নতুন সেলফির স্টাইল দেখে! যাকগে, এই নিয়ে বেশী লিখে নিজের মহিলাটিকে খেপিয়ে গৃহের শান্তিভঙ্গ না করাই বাঞ্ছনীয় বলে আপাতত এই পর্যন্তই থাক।

বুঝতেই পারছেন আমার রসিকতার ঝুলি আজকের মত শেষ। তাই শেষ করার আগে গুরু তারাপদ রায়ের লেখা একটা গল্পকেই একটু অন্যভাবে লিখছি।
সেদিন আমার বন্ধু সুনীলের বাড়ি গিয়ে দেখি তার তিন বছর বয়সী পুত্র হালুম সুনীলের স্মার্টফোনটা নিয়ে ঘাঁটছে। জিজ্ঞেস করলাম, “বাবার ফোন নিয়ে কী করছিস হালুম?”
জবাব এল, “আমি গাবলুর সঙ্গে হোয়াটস্যাপ করছি!”
বুঝলাম গাবলু কোন পাড়াতুতো বন্ধু। বললাম, “হোয়াটস্যাপ করছিস কী রে? তুই তো লিখতে শিখিসনি!”
হালুম গম্ভীর হয়ে বলল, “তো কী হয়েছে? গাবলুও হোয়াটস্যাপ শিখেছে। পড়তে এখনো শেখেনি!”
এই গল্পটা লিখতে গিয়ে বাচ্চাদের আর স্মার্টফোন নিয়ে একটা নতুন গল্প মনে পরে গেলসেটাকে ফাউ বলেই ধরে নিন
আমার আর এক বন্ধুর সদ্যজাত যমজ ছেলের গল্প। আগেকার দিনে ঠাকুমা-দিদিমারা গল্প বলে, গান গান গেয়ে বাচ্চাদের খাওয়াতেনএখন সেখানেও স্মার্টফোন! স্মার্টফোনে ভিডিও দেখিয়ে, গান শুনিয়েই আজকালকার বাচ্চাদের খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো হয়। তা এরা দুজনও এখন থেকেই ফোনে ভিডিও দেখা শুরু করে দিয়েছে!

এখন সমস্যা হচ্ছে দীপিকা পাড়ুকোনকে নিয়ে। ওনার গানের ভিডিও দেখালে একজন খুশী হয়ে খিলখিল করে ফোকলা দাঁতে হাসে আর অন্যজন ঠোঁট ফুলিয়ে গলা ছেড়ে কাঁদে। এই দেখে নাকি ওদের দাদু ওদের নাম রেখেছে ‘রণবীর’ (Ranveer) এবং ‘রণবীর’ (Ranbir)কেউ জিজ্ঞেস করলে বলছেন নামগুলো নাকি সেই থমসন আর থম্পসন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা!

[লেখার সঙ্গের ছবিগুলির সূত্র ইন্টারনেট] 
"It’s always very easy to give up. All you have to say is ‘I quit’ and that’s all there is to it. The hard part is to carry on”