Showing posts with label Bali. Show all posts
Showing posts with label Bali. Show all posts

Sunday, July 30, 2017

ইন্দোনেশিয়ার ডায়রি - ৫

ইন্দোনেশিয়ার ডায়রি - ১     ইন্দোনেশিয়ার ডায়রি - ২          ইন্দোনেশিয়ার ডায়রি - ৩    ইন্দোনেশিয়ার ডায়রি - 


কুটার পাব স্ট্রিট খুবই জমজমাট। যদিও ২০০২ সালে ওই পাব স্ট্রিটেই বোমা বিস্ফোরণে ২০২ জন মারা গেছিলেন। এখন সেখানে একটা মেমোরিয়াল বানানো আছে। সেটার চারদিকে বিভিন্ন বড় বড় রেস্টুরেন্ট, পাব এবং একের পর এক রকমারি দোকান। সেগুলোর মধ্যে দিয়ে একটা সরু রাস্তা বিচের দিকে চলে গেছে। পাব স্ট্রিটের হৈ-হট্টগোলের তুলনায় বিচটা বেশ ফাঁকা। ভালোই লেগেছিল। তারপর আমরা টুকটাক কিছু খেয়ে নিলাম। পরের দিনের মন্দির ঘোরার জন্য একটা গাড়ীও ঠিক করে ফেললাম। কথা হল যে, আমাদের ড্রাইভার ইয়োমান পরের দিন নটার সময় চলে আসবে আমাদের হোটেলে। অতঃপর একটি পাবে প্রবেশ এবং লাইভ গান শুনতে শুনতে নানাবিধ পানীয়গ্রহণ। যার মধ্যে স্মারনফ্‌ আইসটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল। দেশে ফিরে খুঁজতে হবে।
যখন হোটেলে ফিরলাম তখন রাত দুটো বেজে গেছে।
পরদিনের গল্প পুরোই বালির মন্দিরের সৌন্দর্যের কথা। তানহা লট, তামান আয়ুন, গজটেম্পল... কোনটা বাদ দিয়ে কোনটার কথা বলব! অনন্যসাধারণ কিছু জায়গা। তানহা লট যেমন সুমদ্রের মধ্যে। হ্যাঁ, ধারে নয় বরং সমুদ্রের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার দূরে এক পাথরের টিলার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তানহা লটের মন্দির। বিকেলবেলা সূর্যাস্তের সময় যখন ভাঁটার জন্য জল নেমে যায় তখন পায়ে হেঁটেই সেই মন্দিরে যাওয়া যায়। কিন্তু আমরা গেছিলাম সকালবেলা। সুতরাং তীরে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি আর তানহা লটের ছবি তুলেই আমরা ফিরে এলাম।

এখানেই দেখলাম, বেড়াল প্রজাতির প্রাণী লুয়াক যাদের নাম থেকেই এসেছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী এবং সুস্বাদু (শোনা কথা) লুয়াক কফি। কেন এই নাম? কারণ এই লুয়াক কফি বীজ খেতে ভালোবাসে, তারপর ওই কফি বীজ তাদের পেটের মধ্যে অর্ধ-পাচ্য হয়ে যখন তাদের বিষ্ঠার সঙ্গে বেরিয়ে আসে তখন সেই বীজ দিয়েই বানানো হয় এই অসমান্য লুয়াক কফি। যার এক পাউন্ডের দাম হতে পারে প্রায় ২০০-৩০০ আমেরিকা ডলার! 
তামান আয়ুন ছিল বালির রাজপরিবারের মন্দির। শহরের মধ্যিখানে অসাধারণ স্থাপত্যময় মন্দিরের সারি। শুধু তাই নয়, ওখানে গিয়ে মনে হয়েছিল যেন, ছোটবেলার ইতিহাস বইয়ে পড়া বালির মন্দিরের ছবিগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে চোখের সামনে।
তামান আয়ুনে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আমরা গেলাম জঙ্গলের মধ্যে গজমন্দিরে। গুহার মধ্যে এই মন্দির আর চারদিক জঙ্গলে ঘেরা। যেতে যেতে সন্ধ্যে হয়ে গেছিল বলে বেশীক্ষণ থাকা হয়নি তবে এই মন্দিরও সুন্দর।

সমুদ্রের ধারের উলুয়াতু মন্দির রেখে দেওয়া হল পরের দিনের জন্য।
হোটেলে ফিরে ইয়োমানের কথা মত আমরা গেলাম জিম্বারান বিচে ডিনারের জন্য সেখানে সমুদ্রের ধারে উন্মুক্ত আকাশের নীচে অ্যাকোরিয়াম থেকে নিজেদের পছন্দ মত বেঁচে নেওয়া মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, ঝিনুক এবং বিয়ার সহযোগে রাতের খাওয়াটা ভালোই হল। যদিও বালির সব জিনিসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পকেট কাটলো ভালোই। ভারতীয় মূদ্রায় প্রায় ১৪,০০০। ভাগ্যিস ক্রেডিট কার্ড ছিল! এর মধ্যে কিছু স্থানীয় গায়করা এসে আমাদের 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'র গান শোনালেন। দেবাও গলা মেলালো তাঁদের সঙ্গে!
হোটেলে ফিরে ঘন্টাখানেকের সাঁতার ক্লাসও হয়েছিল আমার আর ঈশিতার জন্য। শিক্ষক দেবা এবং ড্যুড!
পরের দিন বালির শেষ দিন। প্ল্যান ছিল, সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট করে যাওয়া হবে বিকিকিনিতে। তারপর ফিরে সব মালপত্র নিয়ে বারোটা নাগাদ ইয়োমেনের গাড়ী করে উলুয়াতু, সেখান থেকে সোজা এয়ারপোর্ট।
সেইমত দশটা নাগাদ পাব স্ট্রিটে পৌঁছে প্রথমে টাকা তোলা হল। শুধু কঙ্কনার কার্ডেই টাকা তোলা যাচ্ছিল। টাকা তুলে সেটাকে মোটামুটি সমানভাবে ভাগ করে দিলাম আমি। তারপর সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লাম কেনাকাটার জন্য। কেউ নিজের জন্য কিনছে, কেউ বাড়ির লোকের জন্যে, কেউ আবার এই গ্রুপের কমন বন্ধুদের জন্য। সব মিলিয়ে বেশ ভজঘট অবস্থা। তার সঙ্গে বালির দোকানদারদের অবাস্তব দাম! একটু পরেই বুঝে গেলাম, যে টি-শার্টের দাম দোকানদার ২০০,০০০ রুপিয়া মানে ভারতীয় টাকায় ১০০০ টাকা চাইছে, সেগুলোর দরদাম করা উচিত, ২০,০০০ বা ৩০,০০০ রুপিয়া থেকে এবং মোটামুটি পাওয়া যাবে ৭০-৮০ হাজারের মধ্যে।
যাই হোক, এর মধ্যে একটি কাকিমার দোকানে বেশ সস্তায় জামাকাপড় পাওয়া যাচ্ছে বলে সবাই মিলে প্রায় তেইশ-চব্বিশটা আইটেম কিনে ফেলল। মহিলা বেশ হাসিখুশি আর মাঝে মাঝেই এসে ফিসফিস করে বলে যাচ্ছিলেন, "এতো সস্তায় হয়না, নেহাত মালিক স্টক ক্লিয়ার করতে বলেছে তাই দিয়ে দিচ্ছি।"
এছাড়া অন্যান্য মেমেন্টো ইত্যাদি যখন কেনা হল, তখন দেখা গেল টাকা-পয়সা সব শেষ। শেষ অবধি বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট মিটিয়ে হোটেল ফেরা হল সাড়ে-বারোটায়।
ইয়োমেন আগেই চলে এসেছিল। সব গুছিয়ে-টুছিয়ে একটার পর বেরোনো হল। তারপর লাঞ্চ করে উলুয়াতুর জন্য যাত্রা শুরু হল দুটোর পর। উলুয়াতু যখন পৌঁছলাম তখন চারটে বেজে গেছে। অসাধারণ বললেও কম বলা হয় এই মন্দিরের সৌন্দর্য। সমুদ্রের ধার দিয়ে সোজা উঠে গেছে একটা খাড়াই পাহাড় আর সেখানেই উলুয়াতু মন্দির। বিভিন্ন মূর্তি, কারুকার্য আর পাহাড়ের ধার দিয়ে উঠে যাওয়া পাঁচিল। সেটা একটা অসাধারণ জায়গা।
সেখানেই হয় ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কেচাক নৃত্য। যদিও প্লেনের যা সময় তাতে পুরোটা দেখা হবে না, তাও ইন্দোনেশিয়ায় এসে এই জিনিস মিস্‌ করার কোন মানে হয় না। তাই সবাই মিলে বসলাম কেচাক নাচের আসরে।
এই নাচের বৈশিষ্ট্যই হল যে, প্রায় কুড়ি-পঁচিশ জন শিল্পী গোল হয়ে বসে মুখ দিয়ে 'কেচাক' ধ্বনি তুলছেন আর তার মধ্যে বাদ্য সহযোগে অভিনীত হচ্ছে সেই রামায়ণের গল্প 'সীতাহরণ"।
একটু আগে থেকেই ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছিল। কেচাক নাচ শুরু হওয়ার পর একেবারে ঝমঝম করে নেমে পড়ল বৃষ্টি। সকলকে প্লাস্টিকের কভার দেওয়া হচ্ছিল বটে কিন্তু ওই বৃষ্টি রুখতে তা বড়ই অপ্রতুল। যাই হোক, ঐ বৃষ্টির মধ্যেও ঘড়ির দিকে নজর রেখে বেরোনো হল এবং ওই বিশাল পার্কিং লটের মধ্যে শেষ অবধি গাড়ী খুঁজে আমরা রওয়ানা দিলাম বালি এয়ারপোর্টের দিকে। আমাদের বালি-ট্রিপ এবারের মত শেষ।

বাকি আর বিশেষ কিছু হয়নি। এয়ারপোর্টে জিনিসপত্র আটকে দিয়ে কেবিন লাগেজের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়াকে তখন আর পাত্তাই দিচ্ছি না। ফ্লাইটেই খাওয়া-দাওয়া হল। যখন কুয়ালালামপুরে নামলাম তখন ঘড়ির কাঁটা পরের দিনে চলে গেছে। আমাদের দুমাসের পরিকল্পনার বালিভ্রমণ এখানেই শেষ। আবার দেখতে হবে, পরের বছরের ঘোরার প্ল্যান কবে বানানো যায়!

Sunday, May 21, 2017

ইন্দোনেশিয়া ডায়েরি - ১

আমি মালয়শিয়ায় আসার পর থেকেই দলবলের সঙ্গে মালয়শিয়া এবং তার আশেপাশের জায়গাগুলো ঘোরার প্ল্যান বানানো চলছিল। তর্ক-বিতর্কের বহু বিষয় ছিল। যেমন কবে যাওয়া হবে, কোথায় যাওয়া হবে, কী কী দেখা হবে ইত্যাদি। প্রায় মাসখানেক বহু হোয়াটস্যাপ চ্যাট, কনফারেন্স কল এবং ইন্টারনেট সার্চের পর ফাইনালি একটা প্ল্যান দাঁড় করানো গেল।
কিন্তু প্ল্যানের আগে কারা কারা এই ঘোরার প্ল্যানের পার্ট ছিল সেটা লিখে ফেলি।
আমি আর দেবাদ্রি তো ছিলামই মালয়শিয়া থেকে।
কলকাতা থেকে আসছিল আমার অর্ধাঙ্গিনি শ্রেয়াসী, যাকে নিয়ে আমার ব্লগেও আগেও লেখা হয়েছে। সঙ্গে ছিল পাঠভবনের পাঁঠা ওরফে ঈশিতা ওরফে ভাইটু যাকে দার্জিলিং ঘুরতে গিয়ে আমাদের সঙ্গী বিকাশ বলত 'বাইটু'!
দিল্লী থেকে আসছিল দলের সবচেয়ে হাল্কা-ফুল্কা সদস্য দেবনাথ ওরফে ড্যুড!
হায়দ্রাবাদ থেকে আসছিল কঙ্কনা। যার বয়স আঠেরোর বেশী বাড়ে না এবং যে সুস্থভাবে ফিরে যাওয়ায় ওর অফিস আহ্লাদিত হয়ে ওকে এমন একটা পুরষ্কার দিয়েছে যে ঘোরার পুরো খরচাই নাকি উঠে গেছে!
ঘোরার প্ল্যানে কেএল ছাড়াও ছিল সুরাবায়া এবং বালি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে যাওয়া হবে সুরাবায়া। সুরাবায়া ইস্ট জাভার অন্তর্গত এবং ইন্দোনেশিয়ার ম্যাপে বালির সামান্য ওপরে অবস্থিত। সেখানে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মাউন্ট ব্রোমো আগ্নেয়গিরি এবং মাদিকারিপুরা জলপ্রপাত দর্শন। সেখানে থেকে পরের গন্তব্য বালি, সেখানে স্কুবা ডাইভিং করা হবে এবং বালির বিভিন্ন অসাধারণ সুন্দর  ঐতিহাসিক মন্দিরগুলো দেখে কেএল ফেরা হবে।
ফ্লাইট এবং হোটেল বুকিং পুরোটাই অনলাইন করা হয়েছে এয়ার এশিয়া এবং বুকিং ডট কমের সাইট থেকে। এছাড়া শ্রেয়াসী 'ডিসকভার ইন্দোনেশিয়া' বলে একটি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করে একদিনের ব্রোমো-মাদিকারিপুরা ঘোরার প্ল্যান-গাড়ী ফাইনাল করে ফেলেছিল। আর দেবা ঠিক করে ফেলেছিল স্কুবার গ্রুপ। সেও অনলাইন!
দেবাদ্রির ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে শ্রেয়সীর তোলা ছবি
যাই হোক, এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ কলকাতা-দিল্লী-হায়দ্রাবাদ থেকে দলবল চলে এল কুয়ালালামপুরে। পরের দিন সন্ধ্যেবেলার ফ্লাইট সুরাবায়ার উদ্দেশ্যে আর তারপরেই শুরু অ্যাডভেঞ্চার!
ভুল! অ্যাডভেঞ্চার শুরু হল প্লেনে ওঠার আগেই! ব্যাপারটা হল, আমি আমার অফিসে বলে ২৮ তারিখের একটা হাফ-ডে যোগার করেছিলাম, শুক্রবার ছিল তাই খুব বেশী চাপ হয়নি। কিন্তু দেবার বিকেল পাঁচটার সময় একটা স্ট্যাটাস আপডেট কল ছিল যেটা অনেক চেষ্টা করেও ও কাটাতে পারেনি। এদিকে প্লেনের সময় সাতটা পঁয়ত্রিশ, এবং ইন্টারন্যাশানাল ফ্লাইট তাই তার এক ঘন্টা আগে চেক-ইন বন্ধ হয়ে যাবে! সুতরাং ব্যাপারটা দাড়িয়েছিল যে, ছটা নাগাদ অফিস থেকে বেরিয়ে কোনভাবে ওকে ছটা পঁয়ত্রিশের মধ্যে এয়ারপোর্ট এসে পৌঁছতে হবে! আর ওর অফিস থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি উপায় হল কেএল সেন্ট্রাল এসে এয়ারপোর্ট শাটল্‌ ট্রেন নেওয়া যেটা করলেও ৪৫ মিনিট লেগেই যাবে। তার মধ্যে আবার দুপুরে এক প্রস্থ ঝোড়ো বৃষ্টি হয়ে গেল। প্রচণ্ড টেনশান মাথায় নিয়ে আমি, শ্রেয়াসী, ভাইটু আর কঙ্কনা এবং অধিকাংশ ব্যাগ নিয়ে চারটে নাগাদ এয়ারপোর্টের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। ড্যুড গেল দেবার অফিস, ওর মিটিং হয়ে গেলে ওকে নিয়ে একসঙ্গে চলে আসবে।
রাস্তার জ্যাম কাটিয়ে মোটামুটি সাড়ে পাঁচটা নাগাদ এয়ারপোর্টে ঢুকে গেলাম। কিন্তু সেখানে আমাদের জানিয়ে দেওয়া হল যে, শুধু যে কজন এসেছে তাদের পাসপোর্ট দেখে সেই বোর্ডিং পাসগুলো দেওয়া হবে। বাকিরা যখন এসে পৌঁছবে তখন বোর্ডিং পাস পাবে। কী আর করা, আমরা আমাদের বোর্ডিং পাস নিয়ে, ইমিগ্রেশান, সিকিউরিটি চেক করে গেটের সামনে পৌঁছলাম, তখন প্রায় ছটা বাজে। দেবারা তখনো কেএল সেন্ট্রালের পথে। আমরা চারজন গম্ভীর মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এর মধ্যে এক জায়গায় সিকিউরিটি চেকিং হওয়ার পর একটা গোদা ব্যাগ ফেলে এসেছিলাম, সেটা আবার দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এলাম। কিন্তু দেবাদের পৌঁছনোর টেনশানে ওটার চাপ মাথায় রেজিস্টারই হল না। ছটা দশ নাগাদ শুনলাম দেবারা ট্রেনে উঠেছে। যে ট্রেন এয়ারপোর্ট পৌঁছতে ৩৩ মিনিট সময় নেবে। আমাদের গোটা আষ্টেক ব্যাগের দায়িত্ব কঙ্কনাকে দিয়ে তখন আমি, শ্রেয়সী আর ভাইটু এদিকওদিক র‍্যান্ডম অ্যাটেন্ডেন্টকে ধরে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। সাড়ে ছটা বাজল, দেবারা আপডেট দিচ্ছে যে আর একটু পরেই এয়ারপোর্ট। ছটা তেতাল্লিশ, দেবা আর ড্যুড এয়ারপোর্টে নেমে চেক-ইন লবির দিকে ছুটছে। এর মধ্যে এক দাত-ক্যালানে সিকিউরিটি অ্যাটেন্ডেন্ট আমাদের বুঝিয়েছে, "সি, ইওর ফ্রেন্ডস আর লেট, রাইট? সো ইটস দেয়ার ফল্ট, রাইট?" আর দশবার করে খালি বলে, "আর দে ইন এয়ারপোর্ট?" লাস্টে আমি "একে দিয়ে হবে না, কাটা!" বলে মেয়েগুলোকে অন্যদিকে নিয়ে গেলাম।
ছটা পঞ্চাশ... দেবারা আর ফোন ধরছে না, আমরাও ওদের ছুটোছুটির মধ্যে আর ফোন করছি না।
এর মধ্যে শ্রেয়সী এবং ভাইটু এয়ার এশিয়ার একটি ছেলেকে দাঁড় করিয়ে সমস্যার কথা বলল, সে শুনে 'দেখছি' বলে কেটে পড়ল। আমি তখন মনে মনে ভাবছি যে, ওদের পরের ফ্লাইটে আসতে বলে আমরা এগিয়ে পড়ব কিনা!
পাঁচ মিনিট পর আবার এয়ার এশিয়ার ছেলেটি এসে আমাদের ডেকে নিয়ে গেল। আমরা তিনজন গেলাম একজিট গেটের কাছে। সেখানে একটা কম্পুটারের ব্ল্যাক স্ক্রিনে কয়েকটা নাম দেখিয়ে বলল, "এখানে তোমার বন্ধুদের নাম আছে?"
আমরা দেখে বললাম, না। ছোকরা ম্যাটার অফ ফ্যাক্টলি বলল, "ওহ্‌ তাহলে তোমাদের বন্ধুদের চেক ইন হয়ে গেছে!"
সেই শুনে আমাদের আর দেখে কে! শ্রেয়সী ওই একজিট গেটের সামনে যে জয়োল্লাস ও নাচটা শুরু করল সেটা সাধারণতঃ বিরাট কোহলি টেস্ট সিরিজে স্টিভ স্মিথকে আউট করার পর করে থাকে! লোকজন বেশ ঘাবড়ে গেছিল, আমি 'সরি-টরি' বলে ম্যানেজ করলাম। কঙ্কনাকে গিয়ে সুখবর দিতে দিতে দেখি লম্বা প্যাসেজের শেষপ্রান্ত থেকে বিশ্বজয়ীর হাসি দিতে দিতে দুই মক্কেল আসছে!!

জানা গেল, 'জানে তু ইয়া জানে না' স্টাইলে অনেক দৌড়দৌড়ি করে এবং ঝামেলার পর তারা তাদের বোর্ডিং পাস পেয়েছে। যাই হোক, সব ভালো যার শেষ ভালো! আমাদের ভ্রমনের যদিও সবে শুরু!

... চলবে
"It’s always very easy to give up. All you have to say is ‘I quit’ and that’s all there is to it. The hard part is to carry on”