Saturday, February 15, 2014

বিবাহ অভিযান... [৩] ...আইবুড়ো ভাত ও অন্যান্য


১৫ই ফেব্রুয়ারী, রাত ১টা
... বিয়ের লগ্ন আর ১৮ ঘন্টা দূরে...

এসেই গেল দিনটা। কাল সকালে সেই অন্ধকার থাকতে উঠে দধিমঙ্গল থেকে শুরু করে একের পর এক নান্দীমুখ, গায়ে হলুদ, আশীর্বাদ ইত্যাদির পরেই বিয়ে! The Countdown has started!

কিন্তু তার আগে আমার আইবুড়ো ভাতের গল্পগুলো বলে ফেলি। আমার আইবুড়ো ভাত শুরু হয়েছিল সেই ডিসেম্বর মাসে। মৃন্ময়দের বাড়ীতে। কাকিমা আর মৃন্ময় খুব যত্ন করে আমাকে পোলাও, মাংস, ফিসফ্রাই, মিষ্টি খাইয়েছিলেন। পরেরটা হল  গত মাসে ব্যাঙ্গালোরে। সেই যে অর্কবতী নদীর ধারে পিকনিকের গল্প লিখেছিলাম তাঁর পরের উইকেন্ডেই কাকিমা্রা মানে প্রশান্ত, সায়ন্তন এবং বুধাদিত্যর মা খুব আদর করে আমাকে আইবুড়ো ভাত খাইয়েছিলেন। ব্যাঙ্গালোরে হচ্ছে বলে কিন্তু কোন রকম ফাঁকি ছিল না তাতে। শুক্তো, ডাল, মাছ, ডিম, চাটনি, পায়েস... সব মিলিয়ে জম্পেস মেনু। সে এক মজার ব্যাপার। আর সেদিন আড্ডাটাও হয়েছিল দারুণ।
ব্যাঙ্গালোরের আইবুড়ো ভাত
এর পর কণাদ আমার আইবুড়ো ভাত সহ ব্যাচেলার পার্টির আয়োজন করে। সেখানে কি কি খেয়েছিলাম সেগুলো লিখে আমার সুরসিক পাঠক/পাঠিকাদের ঈর্ষার কারণ হতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি, রাতে দুজনে মিলে টরেন্ট থেকে TMK অর্থাৎ তিস মার খান নামক সিনেমাটি নামিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। এমনকি কণাদ পরদিন সকালে সেটা দেখে শেষ করেছিল যেটা আমি একাধিকবার চেষ্টা করেও পারিনি। কণাদকে অভিনন্দন!

এর পরের আইবুড়ো ভাতগুলো হয়েছে কলকাতা আসার পর। পরশু দিন দিয়েছিল আমার মাসি আর গতকাল মা। সে প্রচুর খাবার, তাঁর ফিরিস্তি দেওয়ার বদলে বরং কিছু ছবি দিয়ে দিলাম আইবুড়ো ভাতের। তবে এটুকু বলতে পারি, দুদিনই বেশ পেট এবং মন ভর্তি করে খেয়েছিলাম। 
প্রথম দিন - মাসিমনি
দ্বিতীয় দিন - মা
যাই হোক, অবিবাহিত জীবনকালের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে কাল। আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং ঘনিষ্ট বন্ধুর সঙ্গেই বাকি জীবনটা কাটাব, এর চেয়ে ভালো কি হতে পারে। বেশ অদ্ভুত লাগছে বুঝছেন, বুঝতে পারছি জীবনে বেশ পরিবর্তন আসছে তবে সেটা নিয়ে বেশী ভাববো না বলেই ঠিক করেছি আপাতত। দেখা যাক, এই নতুন অভিযান কেমন হয়।
পায়েস দিয়ে শুরু!

কালকে একটা লম্বা দিন, ঘন্টা তিনেক ঘুমিয়ে নেওয়াই ভালো হবে। আজকের ছোট্ট ব্লগ পোস্ট এখানেই শেষ। ছবিগুলো কেমন হয়েছে বলবেন।

পুনশ্চঃ লেখা শেষ করার আগে দুজনের কথা বলে যাই।

১. আমার দশ বছর বয়স্ক পাটনাবাসী এবং হিন্দিভাষী ভাগ্নে মাটোল, যে নিতবর হতে চলেছে। ছোকরা এমনিতে মন্দ নয় তবে সকাল সাতটার সময় সে দাবী জানিয়েছিল সন্ধ্যেবেলা মামাজীর সঙ্গে ম্যাকডোনাল্ডস্‌ যাবে। তাকে বোঝানো হয়েছে যে মামাজী কি শাদি কে শুভ অভসর পে ম্যাকডোনাল্ডস্‌ বন্ধ্‌ হ্যায়। প্রথমে সে ব্যাপারটা খেয়ে গেছিল তবে এরপর যখন তার সব বায়নার জবাবেই এই একই কারণটা দেখানো হতে থাকে তখন বেলা দশটা নাগাদ সে বিরক্ত হয়ে বলে, আপ ক্যা প্রাইম মিনিস্টার হো? সাব কুছ কিঁউ বন্ধ্‌ হ্যায় আপকে শাদি কে লিয়ে?
আমিও বললাম, আরে ম্যায় সচমুচ প্রাইম মিনিস্টার হুঁ! দেখ নেহি রহে হো ম্যায় কুর্তা পহেনকে ঘুম রহে হ্যায়!
এহেন অকাট্য যুক্তির সামনে সে আর কোন বক্তব্য রাখতে পারেনি, আর যতক্ষণ সে না পারছে ততক্ষণ আমারও তেমন কোন চাপ হবে না বলেই আশা করছি!



২. এবং মৃন্ময়! আগের ব্লগে মৃন্ময়কে নিয়ে সামান্য খিল্লি করলেও এটা স্বীকার করে নেওয়াই ভালো যে, আমার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ সুষ্ঠভাবে হওয়ার জন্য প্রধান প্রশংসা প্রাপ্য যার সে হল মৃন্ময়। আমার বিয়ের প্রায় সব কিছুরই প্রধান উদ্যোক্তা সে। সমস্ত রকম প্ল্যানিং এ তো মৃন্ময় ছিলই এখন একের পর এক সেগুলোর একজিকিউশান ও হচ্ছে মৃন্ময়ের হাত ধরে! আজ সন্ধ্যেবেলাতেও আমার ছোটমামা, মাসতুতো দাদা, কাকিমা (মৃন্ময়ের মা) এবং মৃন্ময়ের ঘন্টা তিনেকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হল ফুল দিয়ে সাজানো ছবির মত বিয়েবাড়ির প্রবেশদ্বার আর তার সামনের অসাধারণ আলপনা!


সাধে কি আর বলি, আমাদের বাড়ীর যেকোন ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী যেটা গুরুত্ব পায় সেটা হল মা এর মতামত, কিন্তু তার পরেই হল মৃন্ময়ের মতামত। তারও পরে আসি আমি আর বাবা! যদিও মৃন্ময়ের আশংকা যে তার সাধের দু নম্বর জায়গাটা যে কদিন পরে নিয়ে নেবে সে এখন গোকুলে... ইয়ে মানে বেলগাছিয়ায়ে বাড়ছে!! 
আলপনা

শ্রী
ক্রমশ...

Thursday, February 13, 2014

বিবাহ অভিযান... [২]... রূপচর্চা

... আগের গল্প


১৩ই ফেব্রুয়ারী রাত ২টো ৩০ 
লগ্ন থেকে সাড়ে ৬৬ ঘন্টা দূরে...

আজকের ব্লগের বিষয়টা শ্রেয়াকে বলতেই দাঁত কেলিয়ে বলল, “এমা... লিখো না। লোকে প্যাঁক দেবে!” কিন্তু লোকে প্যাঁক দিতে পারে ভেবে কবে আর নিজেকে আটকেছি, আর তাছাড়া নিজেকে নিয়ে যে হাসতে পারে সেই তো সবচেয়ে রসিক লোক! অন্তত আমার সেটাই মনে হয়।
আজ থেকে তিন মাস আগে যদি কেউ বলত যে আমি একদিন দুপুর চারটের সময়ে পার্লারে গিয়ে সেখানে বসে তিন ঘন্টা ধরে ফেসিয়াল ও অন্যান্য রূপচর্চা করব তাহলে আমি নির্ঘাত তাকে আজেবাজে ভাট বকার জন্য গাঁট্টা মারতাম। কিন্তু আসন্ন বিয়ের দৌলতে এহেন অসম্ভব ঘটনাটাও ঘটল আজকে।

পার্লারের ব্যাপারে বন্ধুবর মৃন্ময় দীর্ঘদিন ধরে তার নিজস্ব মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি লাগিয়ে আগেই আমাকে ঘায়েল করেই ফেলেছিল। ওর কথা মতই ডিসেম্বরে প্রথমবার পা দিয়েছিলাম একটি জেন্টস পার্লারে! আমাকে ভুল বুঝবেন না, তার আগে অবধি পুরুষ-মহিলা কোন পার্লারে পদার্পণ করার সুযোগই আমার আসেনি।
পার্লারে যে ছেলেটির হাতে মৃন্ময় আমার দায়িত্ব দিয়ে গেছিল তার নাম গোপাল। গোপাল বেশ সুবোধ বালকের মতই আমাকে চেয়ারে আরাম করে বসালো এবং তার পরেই আমার মুখের বিভিন্ন অংশের চামড়া টেনে টেনে দেখতে লাগল। সঙ্গে কোথাও আঙ্গুল ঘষল, কোথাও বা চিমটি কাটল। এমনকি দু-একটা জায়গা যদি শুঁকেও দেখে থাকে তাহলেও আমি অবাক হব না।
অতঃপর আমার মুখের চামড়াটাকে ভালো করে বাজিয়ে দেখার পর সে তার কেরামতি শুরু করল। মৃন্ময়ের আগে থেকেই ডিটেলড ইন্সট্রাকশান দেওয়া ছিল। সেই অনুযায়ী ঘন্টা দেড়েক ধরে সে নানা ধরনের ক্রিম আমার মুখে ঘষল এবং তার পর আমাকে আমার চেয়ারে চুপ করিয়ে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে দিল। এইসব ঘষাঘষির মধ্যে দিয়েই শুনলাম কখোন যেন সে ফেসিয়াল ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক কাজ-কর্ম করে ফেলেছে।
দীর্ঘ সময়ে এইভাবে বসে থাকার পর আমার সহ্যশক্তি বিপজ্জনক ভাবে বিরক্তসীমার দিকে যাচ্ছে, এরকম সময়ে গোপাল আমায় ছেড়ে দিল। কিন্তু ছাড়বার আগেও পরবর্তী কি কি করা উচিত, ঐ ফেসিয়ালের কতদিন পর আবার অন্য কিছু করা উচিত সেই নিয়ে দীর্ঘ জ্ঞান দান করল গোপাল।
যাই হোক এটা হল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের ঘটনা। তারপর ব্যাঙ্গালোরে ফিরে গোপালের পরামর্শমত এবং মৃন্ময়ের নিয়মিত ফোনালাপের ধাক্কায়ে বেশ নিয়ম করেই নিজের মুখের পরিচর্যা করেছি। আহা যতই আমার গায়ের রঙ দুধে-আলকাতরায় হোক নিজের বিয়েতে একটু হলেও তো ফর্সা দেখতে হবে, নাকি!
তারপর আজ আবার গোপালের কাছে গিয়ে তিন ঘন্টা কাটিয়ে বিয়ের আগের ফাইনাল রূপচর্চা করে এসেছি। তার মধ্যে চুল কাটা, স্যাম্পু, দাড়ি কামানো, ফেসিয়াল, ব্লিচ... হুঁ হুঁ বাওয়া... লিস্ট মোটেই ছোট নয়... এই সব করে ফেলেছি ঐ তিন ঘন্টায়। সবাই যা বলল, তাতে মনে হচ্ছে বেশ চকচকেই লাগছে।


যাই হোক, এই অ্যাডভেঞ্চারের কোন ছবি নেই, থাকলেও দিতাম না... তার চেয়ে বরং এর পরের কিস্তিতে যখন আইবুড়ো ভাত নিয়ে লিখব, তখন তার বেশ কিছু ছবি লাগাবো। আজ এইটুকুই থাক! 

Tuesday, February 11, 2014

বিবাহ অভিযান... [১]... প্রস্তুতি

১১ই ফেব্রুয়ারী, দুপুর ৩টে,
লগ্ন থেকে ১০০ ঘন্টা দূরে...

আহ্‌... সেই একখানা বাংলা গান ছিল না, ‘আসছে, সে আসছে’... এখন পাঠকের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে এখানে সে বলতে কবি কার কথা বলেছেন? সিনেমায় উত্তরটা অন্য ছিল কিন্তু এখানে সে বলতে বিয়ের দিন, বিয়ের হইচই, মজা-আনন্দ, দাঁত ক্যালানো, হাঙ্গামা-হট্টগোল এবং সব শেষে আমার হবু সহধর্মিনী... অনেক কিছুকেই বোঝানো যেতে পারে!
তা এখনও অবধি কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? বিয়ে হল গিয়ে ১৫ তারিখ, শনিবার। আমার এবং বাবার তাড়াহুড়োর দরুণ বাড়ির প্রথা মেনে অধিকাংশ কাজই অনেক তাড়াতাড়ি শুরু করা হয়েছিল। তার সুফল ভোগ করছি এখন। শ্রেয়ার শাড়ী কেনা শুরু হয়েছিল আগস্টে, আমার জামা-কাপড়, সাজগোজের সব জিনিস কেনা শেষ হয়েছে ডিসেম্বরেই। এমনকি তত্ত্ব সাজানোর কাজটাও মা তিন সপ্তাহ আগেই শুরু করায় সেটাও কমপ্লিট। যে দুটো ট্রে বাকি ছিল সেটা আমি আর মৃন্ময় রোববার সন্ধ্যেবেলা জাতিস্মর না দেখে শেষ করে ফেললাম। এই যে তাঁর ছবিঃ

আপাতত পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে বসে আছি। সামান্য ঘোরাঘুরি-ফোনাফোনি যে চলছে না তা নয়। এই ফোটোগ্রাফার, ডেকরেটর, ক্যাটারার... এদের সঙ্গে ফাইনাল করা। শেষ মুহূর্তের কিছু কেনাকাটা, ঘর গোছানো, পাড়ার এর-ওর বাড়ী থেকে লেপ-তোষক এনে এক জায়গায় রাখা... এসবও চলছে।
কাল মাসীমনিরা এসে পড়লে বাড়ীটা একটু জমজমাট হয়ে উঠবে, তবে আমার আত্মীয়স্বজন এতোই কম, এবং যারাও আছেন তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই এতো অসুস্থ যে বিয়েবাড়ীর ভিড়ভাট্টা ব্যাপারটা খুব বেশী হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। 
সবচেয়ে খারাপ লাগছে আমার বাবার বাল্যবন্ধু নিতাইকাকুর জন্য। নিতাইকাকু আমার বাবার সেই ছোট্টবেলার বন্ধু এবং মুঙ্গেরের (আমার পৈত্রিক বাড়ী যেখানে ছিল) সেই সময়ের বাঙ্গালীদের কাছে নিতাই মানেই শিবাজী (আমার পিতৃদেব), দুজনকে অনেকেই মাণিকজোড় বলেও ডাকতেন। নিতাইকাকু এখনও খুবই করিতকর্মা, বাবারই বরং শরীরটা ভেঙ্গে পড়েছে। নিতাইকাকু এবং কাকিমা পুরো দায়িত্ব নিয়ে আমার বাড়ীর তত্ত্বের বেশীরভাগ ট্রে সাজিয়েছিলেন। তারপর, এই শনিবারের আগের শনিবার মানে ১ তারিখ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক সাইকেল আরোহীর ধাক্কায় নিতাইকাকুর ফিমার ভেঙ্গে গেছে। আপাতত নিতাইকাকু নার্সিংহোমে বন্দী, পুরো ঠিক হওয়ার জন্য তিন থেকে ছ মাসের চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি... এইসবের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমার বিয়েতে আসার কোন সম্ভাবনাই নিতাইকাকুর নেই! মাথাটা গরম হয়ে আছে সেই থেকে, রাস্তাঘাটের এইসব সাইকেল-আরোহী, অটোচালক... এদের একটু দেখেশুনে চলতে কি হয়!

যাই হোক, শেষ করার আগে বলে রাখি যে, এই ব্লগের উদ্দ্যেশ্য একটাই। বিয়ের ঘটনাবলীর একটা চলন্ত হিসেব রাখা এবং মজার কিছু ঘটলে সেটা লিখে রাখা। গত বছরের আমেরিকা ভ্রমনের সময় যেমন লিখেছিলাম (লিঙ্ক)। বিয়ের ১০০ ঘন্টা আগে শুরু করলাম, এরপর যখন যেমন সময় পাবো কিছু ঘটনা লিখে রাখব। বলা যায় না, কয়েক বছর পর হয়তো এটা পড়তে গিয়ে দুজনের এইসব পুরোন কথাগুলো মনে পড়ে যাবে আর বেদম হাসি পাবে তখন।



Friday, January 17, 2014

অর্কবতী নদীর ধারে...

ব্যাঙ্গালোরে এসে বসবাস করছি তাঁর প্রায় দু বছর হতে চলল। এই দু বছরে আমাদের ভ্রমণপিপাষু বন্ধুদের গ্রুপ যার আবার ‘Bangalore explorers’ বলে একটা বেশ গালভরা পোষাকি নাম আছে বেশ অনেক জায়গাই ঘুরে এসেছি। সেগুলোর মধ্যে নানা রকম উইকেন্ড ট্রিপ, ডে ট্রিপ দুইই ছিল।
এবার ঠিক করা হল একটা বাংলা পিকনিক করা হবে। হ্যাঁ জিজ্ঞেস করতেই পারেন, বাংলা পিকনিক জিনিসটা ঠিক কী? এই প্রশ্নটা প্রথমে সবার মনেই ছিল। সৌম্যজিতের মত দুষ্টু লোকেরা  তো বলেই ফেলেছিল, “বাংলা পিকনিক কী? যেখানে শুধু বাংলা পান করা হবে?” তখন তাকে জানানো হয়েছিল যে, বাংলা পিকনিক হল ৯০ দশকের মত পিকনিক যেখানে ম্যাটাডোর ভাড়া করে যাওয়া হবে, গ্যাস নিয়ে গিয়ে খোলা মাঠে রান্না হবে, লাউডস্পিকারে পাগলু-২ র গান বাজবে আর ফাইনালি ৪টের সময় আধসেদ্ধ মাংস খাওয়া হবে! হুঁ হুঁ বাওয়া!

দলে রইলাম আমি, সায়ন্তন, প্রশান্ত, সৌম্যব্রত, কণাদ, বুধাদিত্য এবং তুষার। সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করলেন চার কাকিমা মানে সায়ন্তন, প্রশান্ত, কণাদ এবং বুধাদিত্যের মা এবং সায়ন্তনের অর্ধাঙ্গিনী অর্পিতা। সব মিলিয়ে যাকে বলে জবর বারো!
দলবল ঠিক হওয়ার পরের প্রশ্ন হল কোথায় যাওয়া যায়! একটা আদর্শ পিকনিক স্পট চাই। খুব বেশী দূরেও নয় এবং খুব বেশী ভিড়ভাট্টাও থাকবে না এরকম এক জায়গা। কারো জানা ছিল না এরকম জায়গা তাই শেষ অবধি মহর্ষী গুগলানন্দের শরণাপন্ন হতে হল। তারপর বিভিন্ন জায়গা নিয়ে পড়াশুনো করে, নেট ঘেঁটে, ফোন করে শেষ অবধি জায়গা ঠিক হল ব্যাঙ্গালোর থেকে ১২০-১৩০ কিলোমিটার দূরে মেকেদাতু যার অর্থ হল ‘ছাগলের লাফ’! তবে ঠিক মেকেদাতু নয়, সেটার ৫ কিলোমিটার আগে কাবেরী আর অর্কবতী নদীর সঙ্গমস্থানকেই শেষ পর্যন্ত পিকনিকের জন্য চূড়ান্ত করে ফেলা হল। তারিখ ঠিক হল ১২ই জানুয়ারী ২০১৪।
এর পরের কাজ হল পিকনিকের মেনু ঠিক করা আর জিনিসপত্রের ফর্দ করা। সে ব্যাপারটাও কম উত্তেজক হল না। রাজহাঁসের ডিমের মত হাইফাই জিনিস না থাকলেও ব্রেকফাস্টের কেক, কলা, ডিমসেদ্ধ, লেডিকেনি, মাংসের পাকোড়া। দুপুরের জন্য ভাত, ঘি, মুগডাল, বেগুনি (ফর্দে বলা ছিল মুড়ি-মুড়কির মত), মাংস, চাটনি, রসগোল্লা। আর বিকেলে ফেরার পথে কমলালেবু, কেক আর চিপস্‌। মন্দ নয় খাবারের লিস্টটা।
খাবারের সঙ্গে সঙ্গে বাসনপত্রের তালিকাও বানানো হল। কারো বাড়ি থেকে হাঁড়ি, কারো বাড়ি থেকে কড়াই, প্রায় সবার বাড়ি থেকে ছুরি বা আলুর খোসা ছাড়ানোর ফিলারের ব্যাবস্থা করা হল। এমনকি প্রশান্তের বাড়ি থেকে রান্না করার জন্য উনুন পর্যন্ত নিয়ে আসা হবে ঠিক হল। গাড়ির জন্য বলা হল রাজেন্দরকে, ডিডি গেঞ্জির মতই যার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করি আমরা।
পিকনিকের ঠিক আগের দিন সন্ধ্যেবেলা মারাথাল্লির বাজারে ঘুরে ঘুরে বেশীরভাগ জিনিস কেনাকাটা করল সায়ন্তন, প্রশান্ত আর বুধাদিত্য। আমি আমার পাড়ার বেকারি থেকে কিনলাম কেক আর ব্রত করল আমাদের ফলাহার আর কাগজের প্লেটের ব্যবস্থা!

পিকনিকের দিন ঠিক ভোর পাঁচটায় ড্রাইভারের ফোনে ঘুম ভাঙ্গল। যদিও পরে অর্পিতার কাছে শুনলাম সায়ন্তন নাকি ভোর সাড়ে চারটে থেকে উঠে বসেছিল!
মোটামুটি তৈরী হয়ে বাকিদের ফোন করা শুরু করলাম। বেশীরভাগ লোকজনই উঠে পড়েছিল এমনকি তুষারও। কিন্তু ব্রতদাকে ঠিক ৬টার সময় ফোন করে ঘুম ভাঙ্গাতে হল! এখনো ওঠনি কেন জিজ্ঞেস করায় ব্রতদা বলল, “অফিসে কাজ ছিল তো তাই ফাইনালি তোরা কোন সময়টা ঠিক করেছিলি সেটা ঠিক ফলো করতে পারিনি!”
যাই হোক, ব্রতদার তৈরী হতে বেশী সময় লাগে না, তাই বেশ সময় মতই বেরিয়ে পড়া গেল। তারপর একে একে ব্রতদা, তুষার, সায়ন্তনদের, প্রশান্তদের আর কণাদদের তুলে নেওয়ার পর আমরা পৌঁছলাম বুধার বাড়ি। আর সেখানে গিয়ে দেখলাম বুধা খালি গায়ে হাফ প্যান্ট পরে ঘুরছে!!
কাকিমার কাছে জানা গেল যে বুধা প্রায় সারা রাত ঘুমোয়নি কিন্তু তা সত্বেও সময়ে তৈরী হয়ে উঠতে পারেনি। তবে যাই হোক, সব জিনিসপত্র বুধার বাড়ি থেকে গাড়িতে তুলতে তুলতেই বুধাও তৈরী হয়ে এসে হাজির হল আর আমরাও সাড়ে সাতটার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে গেলাম সঙ্গমের জন্য।
গাড়িতে যেতে যেতে নব্বইয়ের দশকের সেই শানুদার নাকি সুঁরে গাঁওয়া গাঁন শুঁনিয়ে আমাদের ড্রাইভার আমাদের সকলকেই বেশ নস্টালজিক করে তুলেছিল। তাঁর সঙ্গে গুন্ডা, ক্লার্ক ও অন্যান্য কালজয়ী হিন্দি ও বাংলা সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতে করতে এবং ডিমসেদ্ধ, কলা, কেক, পান্তুয়া সহযোগে প্রাতরাশ করতে করতে দশটা বাজার আগেই আমরা পৌঁছে গেলাম কাবেরী আর অর্কবতী নদীর সঙ্গমে।
যা ভেবেছিলাম জায়গাটা তার চেয়ে অনেক বেশী জমজমাট। বেশ কিছু ছোটখাটো দোকানে সিগারেট, কোল্ডড্রিঙ্কস, বিস্কুট বিক্রি হচ্ছে, সঙ্গে এখানকার নদীতে ধরা মাছভাজাও আছে। তার সঙ্গে আছে দুটো বেশ ঠিকঠাক রেস্টুরেন্ট এমনকি থাকার জন্য একটা লজও। আমরা দশটার আগে পৌঁছে যাওয়ায় তখনো অতটা ভিড় হয়েনি কিন্তু বেলা বারোটা বাজতে বাজতে প্রচুর লোক এসে পৌঁছেছিল সঙ্গমে।
অর্কবতী নদী কাবেরীর সঙ্গে মিশে একটা ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মত নদীবক্ষ তৈরী করেছে। বেশীর ভাগ জায়গাতেই নদীটা মোটেই গভীর নয়, বড়জোর কোমর জল, তবে জায়গায় জায়গায় যে যথেষ্ট গভীর সেটা পরে জেনেছিলাম। নদীর জল বেশ পরিষ্কার। জলের তলার গ্রানাইট পাথরগুলো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। তার মধ্যে আবার কয়েক জায়গায় নদীর মধ্যে পাথর জমে ছোট ছোট দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছিল আর নদীতে পরে থাকা অসংখ্য পাথরে পা দিয়ে সেই দ্বীপে যাওয়া খুবই সহজ কাজ। নদীর এক ধারে চরের পাশ থেকে জঙ্গল শুরু হয়ে গেছে। সেই জঙ্গলে ৫ কিলোমিটার গেলেই মেকেদাতু। আর সামনের দিকে তাকালেই দেখতে পাচ্ছি নদীর ধার দিয়ে একের পর এক পাহাড় উঠে গেছে। সেটা একটা দারুণ সুন্দর দৃশ্য।
প্রথমে ভেবেছিলাম ওরকম একটা পাথরের দ্বীপেই আমাদের সব জিনিসপত্র সাজিয়ে নিয়ে বসব কিন্তু তারপর কাকিমাদের অসুবিধা হতে পারে ভেবে সেটা বাতিল করা হল। তার বদলে আমরা জায়গা বাছলাম নদীর ধারে মোটামুটি গাছের ছায়া আছে এমন একটা জায়গা দেখে।
(সৌজন্যে বুধাদিত্য)
জায়গা ঠিক করার পরেই জিনিসপত্র সাজিয়ে নিয়ে বসা হল। চাদর পেতে বসার ব্যবস্থা হয়ে গেল। ঠিকঠাক জায়গা দেখে রাখা হল গ্যাসের উনুন আর জলের জায়গা। ঠিক আদর্শ পিকনিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখা গেল যে প্রশান্ত উনুনের গ্রেটস আনতে ভুলে গেছে সুতরাং ৩টে ৩টে ৬টা পাথরের টুকরো জোগাড় করা হল বদলি হিসেবে।
মোটামুটি গুছিয়ে বসার পর প্রথমেই কাকিমা অর্থাৎ বুধার মা বসে গেলেন সেই মুড়ি-মুড়কির মত বেগুনি আর চিকেন পাকোড়া ভাজতে। সঙ্গে হাত লাগাল অর্পিতা। আহা! সে বড় ভালো জিনিস ছিল।
পুরো রান্নার বর্ণনা দিয়ে পাঠকদের একঘেয়েমি বাড়ানোর মানে হয় না তবে কয়েকটা উল্লেখযোগ্য তথ্য না দিয়ে পারছি না।

(সৌজন্যে বুধাদিত্য)
১. সায়ন্তন পেঁয়াজের খোসা ছাড়াতে জানে না সেটা জানা গেল।
২. যদিও সায়ন্তনের সবজি কাটা অর্পিতা খুবই পছন্দ করেছে। সেটা মনে হয় না সায়ন্তনের জন্য ভালো খবর!
৩. প্রশান্ত খুব সুন্দর করে আড়াই কেজি মাংস মেখেছে নুন, লঙ্কা, হলুদ ইত্যাদি দিয়ে।
৪. আমি মাংস রান্না করতে করতে একটা হাত-মোছা পুড়িয়ে ফেলেছিলাম, শুধু তাই নয় তারপর ঐ জ্বলন্ত কাপড় দিয়ে কনুই মুছছিলাম আর ভাবছিলাম এতো গরম কেন লাগছে!
৫. পরে অবশ্য ঐ হাত-মোছাটাকেই কাঁধে ফেলে ‘আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না’ গাইতে গাইতে মাংস নেড়েছি।
৬. কণাদ প্রথমে প্রফেশনালি আলুর খোসা ছাড়িয়ে দেখিয়েছে, পরে বামিয়ানের শায়িত বুদ্ধ মূর্তির মত পোজ দিয়েছিল।
৭. ব্রত যেমন থাকে সেরকম চুপচাপই ছিল আর পরে থাকা পাথর, গাছের ডাল, পাতা দিয়ে দারুণ উনুন বানিয়েছিল। তার আগে ঘণ্টা খানেক ধরে একটা হাঁড়ির তলায় মাটি লাগিয়েছিল যাতে পরে ওটা মাজতে সুবিধা হয়। পরে ঐ হাঁড়িতেই ওর বানানো উনুনে ভাত রান্না হয়েছিল।

(সৌজন্যে বুধাদিত্য)
৮. অর্পিতা নিজে খুব সুন্দর করে স্যালাড কেটেছিল। সে এক দেখার মত জিনিস!
৯. বুধা ফোটগ্রাফারের দ্বায়িত্ব পালন করছিল আর তুষার টুকটাক সবেতেই হাত লাগাচ্ছিল। কোন কিছুতে স্পেশালাইজ করেনি।
১০. যদিও ওখানে ১২ জন ছিলাম তবে পুরো আলোচনা শুনলে মনে হচ্ছিল আসলে লোকের সংখ্যা ১৪। শ্বেতা (বুধার অর্ধাঙ্গিনী) এবং পিউ (আমার হবু) ওখানে না থাকলেও গল্প গুজব ওদের নিয়েই হচ্ছিল বেশী।
(সৌজন্যে বুধাদিত্য)

রান্না আরো কিছুটা এগনোর পর সায়ন্তন, তুষার আর আমি গ্রাম্য মহিলাদের মত নদীর ধারে গিয়ে এঁটো বাসন মেজে আনলাম। সেই চকচকে মাজা বাসন দেখে সবার কি প্রশংসা!
মোটামুটি তিনটে নাগাদ খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। সকাল থেকে বেগুনি আর পাকোড়া খেয়ে সবারই প্রায় তখন পেট ভর্তি, তাও হাল্কা করে ভাত, ডাল, আলুভাজা, মাংস আর চাটনি খাওয়া হল সবাই মিলে।
খাওয়া-দাওয়ার পর দলবল গেল বাকি বাসনগুলো মাজতে আর আমি রয়ে গেলাম কাকিমাদের আর অর্পিতার সঙ্গে পাহারাদার হিসেবে। জমিয়ে দ্বিপ্রাহরিক আড্ডা হল খাওয়ার পর।
এসবের মধ্যে অন্য একটা ব্যাপার হয়েছিল। হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম নদীর ধারে প্রচুর ভিড় এবং লোকজন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে নদীতে কিছু একটা দেখছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আমাদের বয়সীই বন্ধুদের একটা গ্রুপ এসেছিল। তাদের মধ্যে একজন কিঞ্চিৎ মদ্যপ অবস্থায় জলে নেমেছিল, তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এবং খুব অদ্ভুতভাবেই এত এত লোক, তারা জলে না নেমে নদীর ধার থেকেই হাত-পা নাড়ছিল আর জলের মধ্যে লোকটাকে দেখার চেষ্টা করছিল। শেষ অবধি বিকেলবেলা বাকিরা বাসন মাজার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির মৃতদেহ পাওয়ার খবরটাও নিয়ে এল। একটা আমাদের বয়সী ছেলে আমাদের মত পিকনিক করতে এসে একটা কোমর-জল নদীতে ডুবে দুম করে মরে গেল! একেই কি নিয়তি বলে।

যাই হোক, সামান্য হলেও তাল কেটে গেছিল তারপর। ড্রাইভার ও তাড়া দিচ্ছিল ফেরার জন্য, মোটামুটি সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সব কিছু গুছিয়ে নেওয়া হল। প্রচুর খাবার বেঁচেছিল, সেগুলো কাকিমারা ভাগ করে ফেললেন যার যার নামে। আমি একা থাকি বলে কিছু কাঁচা আলু আর কপিও জুটে গেল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ফেরার পথেও প্রচুর আড্ডা হল, রাস্তার মধ্যে গাড়ি থামিয়ে গ্রুপ ফোটো তোলা হল, কমলালেবু খাওয়া হল আর গাড়ির ড্রাইভার তার ক্রিকেটজ্ঞানের পরিচয় দিয়ে চমকে দিল সবাইকে (রঞ্জি সেমিফাইনাল থেকে আইপিএলের দলগুলো তো বটেই, এমনকি বিগ ব্যাশ লিগেরও খবর রাখে ছোকরা!)

সবাইকে নামিয়ে দিয়ে নিজে যখন বাড়ি পৌঁছলাম তখন সাড়ে নটা বেজে গেছে। সকাল থেকে ঘুরে ক্লান্ত ছিলাম বটে কিন্তু এত ভালো পিকনিকের পর নিজেকে দারুণ চাঙ্গাও লাগছিল। মনে রাখার মত একটা দিন। আবার যাবো কাবেরী আর অর্কবতী নদীর সঙ্গমে, এবার পিউকে নিয়ে!
(সৌজন্যে বুধাদিত্য)

Wednesday, November 13, 2013

পাঁচ মহারথী

১৪ নভেম্বর তারিখটা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা যে অনেক দিন মনে রাখবেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। সেদিন শচীন তেন্ডুলকার তাঁর ২০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবেন। এর আগে কেউই ২০০ টেস্টের মাইলস্টোন ছুঁতে পারেননি সুতরাং সেদিক দিয়ে দেখলে এটা একটা বিশাল কৃতিত্ব কিন্তু তার থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল যে শচীন তাঁর ২৪ বছরেরও বেশী দীর্ঘ ক্রিকেট জীবন শেষ করবেন ঐ ম্যাচটি খেলে।
মিডিয়ার সৌজন্যে এটা আজ সবাই জানে। লাখ লাখ শব্দ এর মধ্যেই খরচ হয়ে গেছে এই ঘটনার পেছনে। শচীন কি ছিলেন, শেষ কদিন তিনি কি করছেন, কি ভাবছেন, তাঁর পরিবারের লোকজন কি করছে, তাঁর বন্ধুরা কি করছে সেটা জানতে আর বাকি নেই কারো। আমি সে সব লিখে পাতা নষ্ট করতে চাই না। তার চেয়ে বরং আমার নিজের ঠিক কি মনে হচ্ছে সেটা লিখি।
শচীন একজন দারুণ খেলোয়াড়, প্রচুর রেকর্ড, অনেক অনেক রান আর উইকেট, বেশ কিছু ম্যাচ জেতানো ইনিংস, সব মিলিয়ে আমার জীবনে শচীনের কম স্মৃতি নেই। ১৯৯১ সাল থেকে খেলা দেখছি আর এতদিন শচীনই ছিল একমাত্র constant factor. কিন্তু তবু আমার কাছে শচীনের এই অবসর আমার কাছে শুধু শচীন নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের একটা পুরো যুগের অবসান। সেটার কথাই লিখি।

আজকে মহেন্দ্র সিং ধোনির এই দলটা গত ৪ বছর ধরে প্রচুর সাফল্য পেয়েছে, টেস্ট র‍্যাঙ্কিং-এ ১ নম্বর স্থান, বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, দেশের মাটিতে প্রচুর সাফল্য, বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ানের মত কিছু অসাধারণ খেলোয়াড়ের প্রচুর ম্যাচ জেতানো ইনিংস, সব মিলিয়ে এই দলটাই ভারতীয় ক্রিকেটের ‘সোনালী প্রজন্ম’। কিন্তু এরাই কি আমাদের, মানে আমার মত যাঁরা গত ২৫ বছর যাবৎ ক্রিকেট দেখছেন তাঁদের প্রিয় দল?
আমার কাছে নয়, হ্যাঁ অস্বীকার করছি না এই দলটাও আমার খুব প্রিয় কিন্ত সবচেয়ে প্রিয় কি? সেই প্রশ্নের উত্তর না। কারণ আমার সবচেয়ে প্রিয় যে দল সেটাকে আমি বলি ভারতীয় ক্রিকেটের ‘রোমান্টিক প্রজন্ম’, হ্যাঁ এই দল হয়তো ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল নয়, অনেক অনেক অসাধারণ, মনে রাখার মত স্মৃতি সত্বেও হয়তো অনেক না পাওয়া আছে এই দলটার কাছ থেকে কিন্তু সাফল্য হয়তো সব সময় শেষ কথা নয়। অনেক অনেক মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত মুহূর্ত দিয়েছে এই দল। আর শুধু শচীন নয়, আমার কাছে আমার ‘রোমান্টিক প্রজন্মের’ নিউক্লিয়াস পাঁচ জন। অনিল কুম্বলে, শচীন তেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাভিদ এবং ভেঙ্কট সাই লক্ষণ।
এই পাঁচ জনের এক একটা পারফর্মেন্স, রান, সেঞ্চুরি, উইকেট আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। মনে হয়েছে, আরে এটা তো আমার সাফল্য, আমার আনন্দ। লক্ষণের রান আউট কিম্বা কুম্বলের একটা খারাপ স্পেল দেখে যেন দিনটা খারাপ গেছে আমারও। আবার ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে যখন দেখেছি শচীনের কভার ড্রাইভ বা রাহুলের স্কোয়ার কাট মনে হয়েছে দিনটা এত ভালো শুরু হল, খারাপ যাওয়া আর সম্ভব নয়।
আর ওদের নিয়েই এই লেখা, এই পাঁচজনকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় কিছু স্মৃতি।

আলোকোজ্জ্বল ইডেন গার্ডেন থেকে বলছি...
১৯৯৩ সালে সিএবির ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় হিরো কাপ, ভারত সহ আরো পাঁচটি দেশ নিয়ে। এই প্রথম ইডেন গার্ডেনের ফ্লাড লাইটের মায়াবী আলোয় খেলা হয় সেমি ফাইনাল আর ফাইনাল।
প্রথম সেমিফাইনালে যখন শেষ ওভারে যখন ৬ রান করলেই দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত, কপিল দেব বা জাভাগল শ্রীনাথের বদলে বল করতে এসে মাত্র ৩ রান দিয়ে ভারতকে জয় এনে দেয় শচীন।
ফাইনালে অবশ্য এতটা কষ্ট করতে হয়নি ভারতকে। অনিল কুম্বলের ১২/৬ (একদিনের ক্রিকেটে এখনো ভারতীয়দের মধ্যে সেরা বোলিং হিসেব) এর দৌলতে সহজেই ১০২ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে কাপ যেতে ভারত।

ভারতের নতুন ওপেনার
১৯৯৪ সালের ২৭শে মার্চ তারিখে ভারত আর নিউজিল্যান্ডের অতি সাধারণ একটা ক্রিকেট ম্যাচ আজও স্মরনীয় আছে শচীন তেন্ডুলকারের জন্য। প্রথমবার একদিনের ক্রিকেটে ওপেন করতে নেমে শচীন ৪৯ বলে ১৫টা চার আর ২টো ছয়ের সাহায্যে অবিশ্বাস্য ৮২ রান করে। সেই শুরু, শচীনের মোট ১৮,৪২৬ রানের মধ্যে ১৫,৩১০ রানই করা ওপেন করতে নেমে করা।

লর্ডসের সেই টেস্ট ম্যাচটা...
ভারত বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৮৩র জুন মাসে। ১৯৯৬ সালের আর এক জুন মাস থেকে বদলে গেল ভারতীয় ক্রিকেটের গতি-প্রকৃতি যখন, আমার মতে ভারতের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান এবং সর্বকালের সেরা অধিনায়ক শুরু করল তাদের টেস্ট যাত্রা। সৌরভ প্রথম টেস্টেই শতরান করলেও রাহুল আটকে যায় ৯০-র ঘরে। তবে এইভাবে দুই বন্ধুর একসঙ্গে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের জাত চেনানো আমার সবচেয়ে প্রিয় দিনগুলোর মধ্যে একটা।


শচীনের গুপ্ত অস্ত্র
আমি যখন খেলা দেখা শুরু করি তখন পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা মানের ভারতের জেতার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি। ছবিটা আস্তে আস্তে বদলেছে, এখন ভারত-পাকিস্তান খেলা হলে ভারতের দিকেই পাল্লাটা ভারী থাকে। আর পরিবর্তনের প্রথম ধাপ ছিল ১৯৯৭ সালের সাহারা কাপ। টরেন্টোতে হওয়া ৫ ম্যাচের সিরিজে ভারত জেতে ৪-১। টানা ৪টে খেলায় ম্যান-অফ-দ্যা-ম্যাচ হওয়ার রেকর্ড করে সৌরভ। সে রেকর্ড এখনও অক্ষত। গোটা সিরিজে সৌরভ করে ২২২ রান, সঙ্গে ১৫টা উইকেট। শচীন প্রেস কনফারেন্সে বলে, “সৌরভ আমার দলের গুপ্ত অস্ত্র!”

শারজার মরুঝড়
আমার অত্যন্ত প্রিয় দুটো ইনিংস। পর পর দুদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নিয়ে ছেলে খেলা করে শচীন। শুধু তাই নয়, দুটো ম্যাচেই একা লড়াই করেছিল শচীন। প্রথম দিন না জিতলেও ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা খুলে গেছিল রানরেটের ভরসায়। ফাইনালে জয় আর তারপর শচীনের পাওয়া গাড়িতে চড়ে গোটা দলের মাঠ প্রদক্ষিণ এখনো চোখের সামনে ভাসে।

চেন্নাই, ১৯৯৯
পাকিস্তানের কাছে হারলে খারাপ লাগাই স্বাভাবিক, তার ওপর সেটা যদি আবার জেতার মত জায়গা থেকে হঠাৎ করে মাত্র ১২ রানে হার হয়। তার সঙ্গে পিঠে যন্ত্রনা নিয়ে করা শচীনের অসাধারণ ১৩৬ রানের ইনিংস। একটা অদ্ভুত মন খারাপ করা রোমান্টিসিজম আছে এই ম্যাচটার।


দশ উইকেটের ম্যাজিক
ঐ সিরিজেরই দ্বিতীয় টেস্টে ইতিহাস তৈরী করে অনিল কুম্বলে। জিম লেকারের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে এক ইনিংসে দশ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড তাও আবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ২১ বছর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ যেতে ভারত। চেন্নাইয়ের হারের পর দারুণ আনন্দ দিয়েছিল এই ম্যাচটা।

সব ম্যাচের সেরা
২০০১ সালের ইডেন টেস্ট ম্যাচটা যে ভারতের ৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ম্যাচ তা নিয়ে খুব বেশী লোক হয়তো দ্বিমত হবেন না। একটানা ১৬টা টেস্ট জেতা স্টিভ ওয়ার অশ্বমেধের রথকে মাটিতে নামিয়ে দেয় সৌরভের দলের ছেলেরা। তাও আবার ফলো-অন করার পর। হরভজনের হ্যাট্রিক সহ তেরটা উইকেট, ম্যাচের চতুর্থ দিনে সারাদিন লক্ষণ-রাহুলের যুগলবন্দী, শেষদিন টি এর পর শচীনের তিন উইকেট আর দিনের শেষে ভারতের জয়। এই ম্যাচের তুলনা কোথায়! 


ভাঙ্গা চোয়াল তো কি, লড়াই চলবে...
অনিল কুম্বলে ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা ম্যাচ উইনার। উপমহাদেশের পিচে পনেরো বছর ধরে  ভারতকে একের পর এক টেস্ট জিতিয়েছে অনিল। কিন্তু ২০০২-র ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চতুর্থ টেস্টে অ্যান্টিগাতে অনিল সাহসের যে নিদর্শন দেখিয়েছিল তা বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল। মারভিন ডিলনের বাউন্সারে চোয়াল ভেঙ্গে যাওয়া অবস্থায় ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে ফিরে এসে একটানা ১৪ ওভার বল করে ব্রায়ান লারার উইকেট। এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে!

যুবশক্তির উত্থান
সৌরভ অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় দলে অল্প-বয়স্ক খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ম্যাচ-ফিক্সিং বিতর্ক, খারাপ ফর্ম আর চোট-আঘাতের দৌলতে দলে আসে হরভজন সিং, জাহির খান, বীরেন্দ্র সেহবাগ, যুবরাজ সিং, মহম্মদ কাইফের মত তরুন-তুর্কির দল। তারা আস্তে আস্তে নিজেদের নিয়মিত করে তোলে ভারতীয় দলে।
ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ৩২৫ রান তাড়া করে সৌরভের দ্রুত ৬০ রানের ওপর ভর দিয়ে ভালোই শুরু করে ভারত। কিন্তু নিয়মিত উইকেট পড়তে পড়তে ১৪৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ভারতের করুণ দশা তখন হাল ধরে কুড়ি বছরের যুবরাজ আর একুশ বছরের কাইফ। অসাধারণ স্ট্রোক-প্লে আর দ্রুত সিঙ্গলসের ওপর ভর দিয়ে ভারতকে নিয়ে যায় জয়ের দোরগোড়ায়। আর শেষ ওভারে জেতার পর উত্তেজনায় লর্ডসের ব্যালকানিতেই সৌরভের নিজের জার্সি খুলে ওড়ানো, সে তো ভারতীয় ক্রিকেটের লোকগাথার অংশ হয়ে গেছে!


তিন মূর্তির শতরান
শচীন, রাহুল এবং সৌরভের মধ্যে যেকোন দুজনের যুগলবন্দীর অভাব নেই। খুঁজলে ওরকম অনেক অনেক ম্যাচই পাওয়া যাবে। কিন্তু ২০০২এর হেডিংলি টেস্টই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একমাত্র উদাহরণ যেখানে ঐ তিন জনেই সেঞ্চুরি করেছিল।
ম্যাচটাও আমার বেশ পছন্দের। নিজেদের শক্তিতে খেলার জন্য ভারত কুম্বলে আর হরভজন দুজনকেই দলে নেয়। সঙ্গে মাত্র দুজন মিডিয়াম পেসার। তাই টসে জিতেও হেডিংলির পেস-বোলিং সহায়ক পিচে ব্যাটিং নিতে বাধ্য হয়ে ভারত। প্রথম দিনে রাহুল আর সঞ্জয় বাঙ্গারের আসাধারণ ব্যাটিং-এর ওপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় দিন হাত খোলে শচীন-সৌরভ। ভারতের মোট রান দাঁড়ায় ৬০০ র বেশী। শেষ পর্যন্ত অনিলের ৭ উইকেটের ওপর ভর দিয়ে ইনিংসে ম্যাচ যেতে ভারত। স্পিনাররা নেয় মোট ১১ উইকেট।

বিশ্বকাপ মানেই পাকিস্তান বধ...
২০০৩ এর বিশ্বকাপ অনেক কারণেই স্মরনীয়। খুব সাধারণ শুরু, গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশাল হার, খেলোয়াড়দের বাড়িতে ইঁট বর্ষণ, আর তারপরেই চমকপ্রদ ঘুরে দাঁড়ানো। ফাইনাল অবধি টানা ৮ ম্যাচে জয়। সবচেয়ে মনে রাখার মত ম্যাচ ছিল সেঞ্চুরিয়নে পাকিস্তানের সঙ্গে। পাকিস্তানের ২৭৩ রান তাড়া করতে নেমে আক্রমের প্রথম ওভারে ৯ রান করে ভারত। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার মানে শোয়েবের প্রথম ওভারের শেষ তিন বলে শচীন ৬, ৪, ৪ মেরে ওভারে মোট ১৮ রান করে। শচীন শেষ অবধি ৯৮ রানে আউট হলেও যুবরাজকে সঙ্গে নিয়ে সহজেই রান তাড়া করে ফেলে রাহুল।
শচীনের ঐ ৯৮ একদিনের ক্রিকেটে আমার প্রিয় শচীন ইনিংস!

স্টিভের বিদায়বেলায়...
গত পঁচিশ বছরে আমার সবচেয়ে পছন্দের বিদেশ সফর। ৪ টেস্টের সিরিজে যে কতগুলো মনে রাখার মত মুহূর্ত ছিল গুনে শেষ করা যায় না। তবু বলতে হলে সৌরভের ব্রিসবেনের ১৪৪, অ্যাডিলেডে রাহুলের ডাবল সেঞ্চুরি, লক্ষণের শতরান, তারপর আগারকরের ৬ উইকেটের দৌলতে জেতার সুযোগ, চতুর্থ ইনিংসে রাহুলের অনবদ্য ইনিংস, সিডনি টেস্টে শচীনের অসামান্য ২৪১ আর লক্ষণের ১৭৮ আর বাকিদের সাহায্যে ভারতীয় দলের প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটে ৭০০ র বেশী রানের ইনিংস এগুলো বলতেই হয়। স্টিভের শেষ সিরিজে ১-১ ফলেই খুশী থাকতে হয় তাঁকে। তাঁর চোখের সামনে বর্ডার-গাভাসকার ট্রফি নিজের কাছে রেখে দেয় ভারত অধিনায়ক সৌরভ।

পাকিস্তানে প্রথম জয়
২০০৪ সালের আগে অবধি ভারতীয় ক্রিকেটে একটা অভিশাপ ছিল। কোন ভারতীয় অধিনায়ক পাকিস্তান সফরের পর নিজের অধিনায়কত্ব বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি। এমনকি পাকিস্তানের মাটিতে একটাও টেস্ট জয় ছিল না ভারতের। কিন্তু সবই বদলে যায় ভারতের ২০০৪র পাকিস্তান সফরে।

১৪ বছর পর পাকিস্তান যায় ভারতীয় দল, তাদের সঙ্গে বিশেষ ক্রিকেট-ভিসায় পাকিস্তান যায় প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় সমর্থক। উৎসাহের কোন কমতি ছিল না এই সিরিজ নিয়ে। এই সিরিজেও অনেক গুলো মনে রাখার মত ম্যাচ ছিল। করাচিতে রাহুলের ৯৯, কাইফের অসাধারণ ক্যাচ, রাওয়ালপিন্ডিতে শচীনের শতরান সত্বেও ভারতের হার, শোয়েবের বলে বালাজীর ছক্কা, শেষ ম্যাচে শচীনের অসাধারণ ক্যাচ! ভারত একদিনের সিরিজ জেতে ৩-২। টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেহবাগের ৩০৯, সঙ্গে শচীনের ১৯৪। পাকিস্তানে প্রথম টেস্ট জেতে ভারত। আর শেষ টেস্টে আমার রাহুলের ২৭০-এর ওপর ভর দিয়ে ২-১ সিরিজ জেতে ভারত। পাকিস্তানে সেই প্রথম।

মহারাজের রাজধানীতে
১৯৯৩-এর ইডেন গার্ডেন দিয়ে শুরু করেছিলাম, ২০০৭-এর ইডেন গার্ডেন দিয়ে শেষ করি। বিপক্ষ ছিল পাকিস্তান, আর ঘরের মাঠে নিজের একমাত্র টেস্ট শতরান করে সৌরভ। আমি ভাগ্যবান, সেদিনের সত্তর হাজার ইডেনমুখো জনতার মধ্যে আমিও ছিলাম। নিজের চোখে দেখেছিলাম, সৌরভের শতরান আর তার পরের উচ্ছাস! সঙ্গে লক্ষণের কাব্যিক শতরান। সেটা তো একটা বাড়তি পাওনা!

ভারতীয় ক্রিকেটে এই পাঁচ জনের অবদান শুকনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না। ভারতীয় ক্রিকেটের বিবর্তণ আর আধুনিকীকরণের প্রধান স্থপতি এই পাঁচ জন। আমি ভাগ্যবান যে আমার ক্রিকেট মুগ্ধতা এসেছে এই পাঁচ মহারথীর হাত ধরে। ধন্যবাদ শচীন, আমার ছোটবেলাকে এত স্মরনীয় করে রাখার জন্য। কিন্তু শুধু শচীন নয়, অনেকটা ধন্যবাদ তোলা থাক অনিল, রাহুল, লক্ষণ আর সৌরভের জন্যেও।

[এই লেখার সমস্ত ছবি Cricinfo ও অন্যান্য ক্রিকেট সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।]

Tuesday, November 5, 2013

Happy Birthday Virat

I first noticed him in 2008.He was leading the Indian U-19 team in the World cup. I saw a few matches, observed that he was a very active and tactful captain in field (much like SG) and also shuddered at the expletives came out of his mouth after winning the World cup beating SAF.
Few days later I visited his Orkut profile and saw an 'about me' full of sms English as well as words like Fuck, screwed and all. The new generation... I thought.
I remember his debut series against Sri Lanka (who else) in a low scoring series in Dambula and started liking his batting more and more.
In last 5 years I have seen so many great innings by him in ODIs, IPL and even in Tests. His chasing success has already reached a legendary status. I remember his vicious attack on Malinga in Australia or the 183 against Pakistan as well as the twin centuries against the Aussies in the last series. I am following the astonishing rate at which he his reaching his ODI century land marks.
But for me the long lasting memory of Virat Kohli would always be the attached video. It showed how he has matured, not only as a cricketer as well as a human being.



Happy Birthday Virat. Proud of you. Hope there will be another player, who may be just 5-6 years old now, who will become an Indian cricketer some day and may be after winning the 2027 World cup he will lift you on his shoulder and say those golden words, “Well He has carried the burden of the nation for 21 years, so it’s time we carried him on our shoulders”, just like you did on 2nd Aprill 2011 Night.
Source: Internet

"It’s always very easy to give up. All you have to say is ‘I quit’ and that’s all there is to it. The hard part is to carry on”